২০২৫ সালের বার্ষিক আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের নেতৃত্বাধীন) ব্যয় দলের আয়ের চেয়ে বেশি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া আয়-ব্যয়ের বিবরণীতে দেখা গেছে, বছরজুড়ে দলের মোট আয় ছিল ১ কোটি ৮২ লাখ ৪ হাজার ২৭০ টাকা, আর ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৩ টাকা। ফলে বছর শেষে দলটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৩ টাকা।
রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের কাছে ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেন জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া।
আয়-ব্যয়ের চিত্র
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দলের মোট আয় ছিল ১ কোটি ৮২ লাখ ৪ হাজার ২৭০ টাকা। একই সময়ে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৩ টাকা।
তিনি জানান, আগের বছরের স্থিতিসহ দলের ব্যাংক হিসাবে মোট অর্থ ছিল ২ কোটি ৬৬ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৪ টাকা। সব ধরনের ব্যয় পরিশোধের পর বছর শেষে ব্যাংকে অবশিষ্ট ছিল ৭৮ লাখ ৬১ হাজার ৭৩১ টাকা।
নির্বাচনী কার্যক্রমেই বেড়েছে ব্যয়
দলের ব্যয় আয়ের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বছরের বিভিন্ন নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার কারণে ব্যয় বেড়েছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার দলীয় প্রতীকে রাজনৈতিক দলগুলো সরাসরি অংশ নিতে পারবে না। তবে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করবেন এবং দল তাদের সমর্থন দেবে।
শাহাবুদ্দিন ইস্যুতে অবস্থান
সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক পদত্যাগের পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, দায়িত্বে থাকাকালে তিনি সংবিধানবিরোধী কোনো কাজ করেছেন কি না, সেটিই মূল বিষয়। যদি এমন কিছু না করে থাকেন, তাহলে তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি তোলার কারণ নেই। এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির কোনো মন্তব্য নেই বলেও তিনি জানান।
দলের ঐক্য ও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরে যে বিভক্তির আলোচনা ছিল, সে বিষয়ে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া দাবি করেন, দল ছেড়ে যাওয়া অধিকাংশ নেতাই জিএম কাদেরের নেতৃত্বে আবার ফিরে এসেছেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতের বিভক্তি তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় পার্টি-সমর্থিত প্রার্থীরা বিশেষ করে কয়েকটি অঞ্চলে ভালো ফল করবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এছাড়া ভবিষ্যতে দলের বিভক্ত অংশগুলো আবারও একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দেন জাতীয় পার্টির এই নেতা।












