০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, পেশোয়ারে বললেন মুনির রাখাইনের চার শহরে বিমান হামলা, ব্যর্থ জান্তার অভিযান মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে সোয়া লাখ বাধ্যতামূলক নিয়োগের নথি প্রকাশ এনইউজির আইআইটি বোম্বের শিক্ষার্থীর মৃত্যু: ‘নির্যাতন ও জাতিগত বৈষম্যের কথা জানিয়েছিল ছেলে’ প্রজ্ঞাপনের আগেই বাসভাড়া বাড়তি, দূরপাল্লায় যাত্রীপ্রতি গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা বেশি চার জেলায় নতুন পুলিশ সুপার, বদলি আরও ১৮ এসপি তুরস্কে স্কুলের বাইরে কিশোরের গুলিতে আহত ১১ শিক্ষার্থী গ্র্যানোলা না মুসেলি—হৃদ্‌যন্ত্র ও আঁশের জন্য কোনটি ভালো? অসুস্থতার পর শরীরের হারানো শক্তি ফেরাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০টি উপায় ইউএসএইড বিলুপ্তির পর বিশ্বজুড়ে বাড়ছে মৃত্যু ও সংকট

গ্র্যানোলা না মুসেলি—হৃদ্‌যন্ত্র ও আঁশের জন্য কোনটি ভালো?

সকালের নাশতায় গ্র্যানোলা বা মুসেলি—দুটিই সহজ, পুষ্টিকর এবং জনপ্রিয় খাবার। সাধারণত এগুলোতে ওটস, বাদাম, বীজ ও শুকনো ফল থাকে, ফলে দুটিই খাদ্যআঁশের ভালো উৎস। তবে কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর, তা শুধু খাবারের নামের ওপর নির্ভর করে না; বরং এতে কতটা চিনি, চর্বি, লবণ ও অন্যান্য উপাদান যোগ করা হয়েছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্র্যানোলা ও মুসেলির প্যাকেটের সামনের দিকের আকর্ষণীয় তথ্যের পাশাপাশি পেছনের পুষ্টি তালিকা ও উপাদানগুলোর তালিকাও দেখা জরুরি। কারণ একই ধরনের দেখতে দুই পণ্যের পুষ্টিমানেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।

পুষ্টিতে কোথায় পার্থক্য?

প্রতি ১০০ গ্রাম হিসেবে একটি সাধারণ পুষ্টি তুলনায় গ্র্যানোলায় প্রায় ৪১৮ ক্যালরি এবং মুসেলিতে ৩৮৮ ক্যালরি থাকে। গ্র্যানোলায় কার্বোহাইড্রেট প্রায় ৭৪.৭ গ্রাম, আর মুসেলিতে ৭৩.৮ গ্রাম। প্রোটিনের পরিমাণও কাছাকাছি—গ্র্যানোলায় ৯.২ গ্রাম এবং মুসেলিতে ৯.৫ গ্রাম।

তবে চর্বির ক্ষেত্রে পার্থক্য বেশি। গ্র্যানোলায় মোট চর্বি প্রায় ১১.১ গ্রাম, যেখানে মুসেলিতে তা ৬.৩ গ্রাম।

খাদ্যআঁশের পরিমাণ গ্র্যানোলায় প্রায় ৯.৯ গ্রাম এবং মুসেলিতে ৮.৫ গ্রাম। অর্থাৎ এই তুলনায় গ্র্যানোলা সামান্য এগিয়ে। তবে পণ্যের ধরন ও উপাদান অনুযায়ী এই পরিমাণ বদলে যেতে পারে।

চিনির ক্ষেত্রেও গ্র্যানোলার পরিমাণ বেশি—প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ২৭.৪ গ্রাম, যেখানে মুসেলিতে ২৩.২ গ্রাম। সোডিয়ামের পার্থক্য আরও স্পষ্ট: গ্র্যানোলায় প্রায় ৪৭ মিলিগ্রাম এবং মুসেলিতে মাত্র ৮ মিলিগ্রাম।

এর একটি কারণ হলো গ্র্যানোলা তৈরির সময় অনেক ক্ষেত্রে তেল ও মিষ্টিকারক উপাদান যোগ করা হয়। এগুলো গ্র্যানোলাকে বেশি মচমচে ও সুস্বাদু করে, কিন্তু একই সঙ্গে ক্যালরি, চিনি ও চর্বির পরিমাণ বাড়াতে পারে। অবশ্য কম চিনি ও কম চর্বিযুক্ত গ্র্যানোলাও বাজারে পাওয়া যায়।Granola vs Muesli – Difference & Benefits Explained - Yummy Valley

দুটিই কেন স্বাস্থ্যকর হতে পারে?

গ্র্যানোলা ও মুসেলির প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে থাকে ওটস, বাদাম, বীজ ও শুকনো ফল। এসব উপাদান খাদ্যআঁশের পাশাপাশি বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে।

খাদ্যআঁশ হজমের গতি কিছুটা ধীর করতে পারে। ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক ধীরে বাড়তে পারে। আঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করে, যা খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ও ওজন ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে।

এ ছাড়া আঁশসমৃদ্ধ খাদ্য কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ কারণেই পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ গ্রহণ হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শুধু ‘গ্র্যানোলা’ বা ‘মুসেলি’ লেখা থাকলেই কোনো পণ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না। অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা সম্পৃক্ত চর্বি থাকলে সেই পণ্যের উপকার কমে যেতে পারে।

হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য কোনটি বেছে নেবেন?

হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনি কমানো, সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণ করা, পূর্ণ শস্য বেছে নেওয়া, সম্পৃক্ত চর্বির বদলে অসম্পৃক্ত চর্বি গ্রহণ এবং কম প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তাই গ্র্যানোলা ও মুসেলির মধ্যে একটিকে সব সময় ‘সেরা’ বলা ঠিক নয়। বরং প্যাকেটের পুষ্টি তথ্য দেখে তুলনা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পণ্য বাছাইয়ের সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল করা যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, পেশোয়ারে বললেন মুনির

গ্র্যানোলা না মুসেলি—হৃদ্‌যন্ত্র ও আঁশের জন্য কোনটি ভালো?

০৭:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সকালের নাশতায় গ্র্যানোলা বা মুসেলি—দুটিই সহজ, পুষ্টিকর এবং জনপ্রিয় খাবার। সাধারণত এগুলোতে ওটস, বাদাম, বীজ ও শুকনো ফল থাকে, ফলে দুটিই খাদ্যআঁশের ভালো উৎস। তবে কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর, তা শুধু খাবারের নামের ওপর নির্ভর করে না; বরং এতে কতটা চিনি, চর্বি, লবণ ও অন্যান্য উপাদান যোগ করা হয়েছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্র্যানোলা ও মুসেলির প্যাকেটের সামনের দিকের আকর্ষণীয় তথ্যের পাশাপাশি পেছনের পুষ্টি তালিকা ও উপাদানগুলোর তালিকাও দেখা জরুরি। কারণ একই ধরনের দেখতে দুই পণ্যের পুষ্টিমানেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।

পুষ্টিতে কোথায় পার্থক্য?

প্রতি ১০০ গ্রাম হিসেবে একটি সাধারণ পুষ্টি তুলনায় গ্র্যানোলায় প্রায় ৪১৮ ক্যালরি এবং মুসেলিতে ৩৮৮ ক্যালরি থাকে। গ্র্যানোলায় কার্বোহাইড্রেট প্রায় ৭৪.৭ গ্রাম, আর মুসেলিতে ৭৩.৮ গ্রাম। প্রোটিনের পরিমাণও কাছাকাছি—গ্র্যানোলায় ৯.২ গ্রাম এবং মুসেলিতে ৯.৫ গ্রাম।

তবে চর্বির ক্ষেত্রে পার্থক্য বেশি। গ্র্যানোলায় মোট চর্বি প্রায় ১১.১ গ্রাম, যেখানে মুসেলিতে তা ৬.৩ গ্রাম।

খাদ্যআঁশের পরিমাণ গ্র্যানোলায় প্রায় ৯.৯ গ্রাম এবং মুসেলিতে ৮.৫ গ্রাম। অর্থাৎ এই তুলনায় গ্র্যানোলা সামান্য এগিয়ে। তবে পণ্যের ধরন ও উপাদান অনুযায়ী এই পরিমাণ বদলে যেতে পারে।

চিনির ক্ষেত্রেও গ্র্যানোলার পরিমাণ বেশি—প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ২৭.৪ গ্রাম, যেখানে মুসেলিতে ২৩.২ গ্রাম। সোডিয়ামের পার্থক্য আরও স্পষ্ট: গ্র্যানোলায় প্রায় ৪৭ মিলিগ্রাম এবং মুসেলিতে মাত্র ৮ মিলিগ্রাম।

এর একটি কারণ হলো গ্র্যানোলা তৈরির সময় অনেক ক্ষেত্রে তেল ও মিষ্টিকারক উপাদান যোগ করা হয়। এগুলো গ্র্যানোলাকে বেশি মচমচে ও সুস্বাদু করে, কিন্তু একই সঙ্গে ক্যালরি, চিনি ও চর্বির পরিমাণ বাড়াতে পারে। অবশ্য কম চিনি ও কম চর্বিযুক্ত গ্র্যানোলাও বাজারে পাওয়া যায়।Granola vs Muesli – Difference & Benefits Explained - Yummy Valley

দুটিই কেন স্বাস্থ্যকর হতে পারে?

গ্র্যানোলা ও মুসেলির প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে থাকে ওটস, বাদাম, বীজ ও শুকনো ফল। এসব উপাদান খাদ্যআঁশের পাশাপাশি বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে।

খাদ্যআঁশ হজমের গতি কিছুটা ধীর করতে পারে। ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক ধীরে বাড়তে পারে। আঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করে, যা খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ও ওজন ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে।

এ ছাড়া আঁশসমৃদ্ধ খাদ্য কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ কারণেই পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ গ্রহণ হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শুধু ‘গ্র্যানোলা’ বা ‘মুসেলি’ লেখা থাকলেই কোনো পণ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না। অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা সম্পৃক্ত চর্বি থাকলে সেই পণ্যের উপকার কমে যেতে পারে।

হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য কোনটি বেছে নেবেন?

হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনি কমানো, সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণ করা, পূর্ণ শস্য বেছে নেওয়া, সম্পৃক্ত চর্বির বদলে অসম্পৃক্ত চর্বি গ্রহণ এবং কম প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তাই গ্র্যানোলা ও মুসেলির মধ্যে একটিকে সব সময় ‘সেরা’ বলা ঠিক নয়। বরং প্যাকেটের পুষ্টি তথ্য দেখে তুলনা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পণ্য বাছাইয়ের সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল করা যেতে পারে।