১০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে যুদ্ধের ভাষার আড়ালে কূটনীতির শেষ দরজা টিকটক শপে চারুকলা: শিল্পবাজার বদলের শুরু, নাকি ব্যর্থ এক পরীক্ষা? নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা

অসুস্থতার পর শরীরের হারানো শক্তি ফেরাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০টি উপায়

সর্দি-জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতা সেরে যাওয়ার পর অনেকেই ভাবেন, এবার বুঝি শরীর আগের মতো হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার পরও কয়েক দিন, কখনো কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি থাকতে পারে। অসুস্থ থাকার সময় ক্ষুধা কমে যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ঘুমের ব্যাঘাত এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা—সব মিলিয়ে শরীরের স্বাভাবিক শক্তি কমে যেতে পারে।

তাই অসুস্থতা কেটে যাওয়ার পর হঠাৎ করে আগের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় ফিরে না গিয়ে ধীরে ধীরে শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো গুরুত্বপূর্ণ। খাবার, পানি, ঘুম, হালকা ব্যায়াম ও বিশ্রামের দিকে নজর দিলে অনেক ক্ষেত্রেই শক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করতে পারে।

১. পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করুন

অসুস্থ থাকার সময় অনেকেরই খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়। ফলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে পারে। সুস্থ হওয়ার পর ধীরে ধীরে পুষ্টিকর খাবারের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য বাড়ানো তাই গুরুত্বপূর্ণ।

ওটমিলের মতো জটিল শর্করা ধীরে হজম হয় এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে শরীরে শক্তি জোগাতে পারে। ডিম বা মুরগির মাংসের মতো চর্বি কম থাকা প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। শিম বা অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ খাবারও ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

খাবারের তালিকায় ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবারও রাখা যেতে পারে। তবে অসুস্থতার ধরন ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর খাদ্যচাহিদা ভিন্ন হতে পারে।

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শরীরে পানির ঘাটতি হলে দুর্বল ও ক্লান্ত লাগতে পারে। অসুস্থতার সময় জ্বর, ঘাম, বমি বা ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বেরিয়ে গেলে পানিশূন্যতার ঝুঁকিও বাড়ে।

তাই সুস্থ হওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি ফল ও শাকসবজি খেলে শরীরে পানি ও প্রয়োজনীয় কিছু খনিজ উপাদান পাওয়ার সুযোগ থাকে। বিশেষ করে অসুস্থতার সময় প্রচুর তরল হারিয়ে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানীয় বা প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট গ্রহণ করা যেতে পারে।

14 Tips To Maximize Muscle Recovery৩. ব্যায়ামে ধীরে ধীরে ফিরুন

শরীর ভালো লাগছে বলেই হঠাৎ করে আগের মতো কঠিন ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়। অসুস্থতার পর শরীরকে সময় দিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক শারীরিক কর্মকাণ্ডে ফিরতে হয়।

শুরুতে অল্প সময় হাঁটা বা হালকা নড়াচড়া করা যেতে পারে। প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিটের মতো হালকা শরীরচর্চাও শুরু হিসেবে যথেষ্ট হতে পারে। শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে ধীরে ধীরে সময় ও মাত্রা বাড়ানো ভালো।

তবে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা থাকলে ব্যায়াম না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪. বিশ্রাম ও মানসিক চাপ কমান

অসুস্থতা থেকে সুস্থ হতে শরীরের সময় লাগে। তাই পুরোপুরি শক্তি ফিরে পাওয়ার আগেই অতিরিক্ত কাজের চাপ নেওয়া উচিত নয়।

কাজ, সামাজিক অনুষ্ঠান বা বাড়তি দায়িত্ব কিছুটা কমিয়ে শরীরকে বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে কর্মক্ষেত্রে বাড়তি দায়িত্ব কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়া বা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়াও উপকারী হতে পারে।

অসুস্থতার পর কয়েক দিন বেশি বিশ্রাম নেওয়াকে অলসতা হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। এটি শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ারই অংশ।

৫. পর্যাপ্ত ঘুমান

শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনতে ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়।

ঘুম কম হলে দিনের স্বাভাবিক কাজ করতেও বেশি ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

অসুস্থতার পর তাই নিয়মিত ঘুমের সময় ঠিক রাখা, রাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং সম্ভব হলে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।

৬. যোগব্যায়াম বা ধ্যান করতে পারেন

শুধু শরীর নয়, অসুস্থতার পর মানসিক ক্লান্তিও থাকতে পারে। যোগব্যায়াম ও ধ্যান শরীরকে কিছুটা শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

একটি গবেষণায় হঠযোগ, ধ্যান ও বই পড়ার প্রভাব তুলনা করে দেখা হয়েছিল। সেখানে অল্প সময়ের যোগব্যায়াম ও ধ্যানের পর অংশগ্রহণকারীদের মেজাজ ও শক্তির অনুভূতিতে পরিবর্তন দেখা যায়।

তবে একেবারে শুরু করলে কঠিন যোগব্যায়াম নয়, সহজ ও স্বল্প সময়ের অনুশীলন দিয়ে শুরু করাই ভালো।

৭. কিছুদিন অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন

অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময় অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। অ্যালকোহল ঘুমঘুম ভাব তৈরি করলেও ঘুমের স্বাভাবিক ধারায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

অ্যালকোহল গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পর শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বাড়তে পারে, যার ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে শরীর আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এতে ঘুমের মান খারাপ হতে পারে এবং পরদিন আরও ক্লান্ত লাগতে পারে।

তাই শরীর পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা ভালো।

5 Ways to Reduce Your Sugar Intake | Centers Health Care

৮. অতিরিক্ত চিনি কমিয়ে দিন

চিনি দ্রুত শক্তি দেওয়ার অনুভূতি তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেই শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কিছুক্ষণ পর রক্তে শর্করার মাত্রার ওঠানামার কারণে আবার ক্লান্ত বা অস্বস্তি লাগতে পারে।

অসুস্থতার পর শরীর যখন পুনরুদ্ধারের পর্যায়ে থাকে, তখন অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দেওয়া ভালো।

এর অর্থ এই নয় যে চিনি একেবারেই খাওয়া যাবে না। বরং শরীর পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার সীমিত রাখাই ভালো।

৯. কিছু সময় রোদে থাকুন

সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে ভূমিকা রাখে এবং মস্তিষ্কের সেরোটোনিনের মতো রাসায়নিকের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে মেজাজ ও দৈনন্দিন সতর্কতা ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।

অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার পর আবহাওয়া ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিদিন কিছু সময় বাইরে থাকা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত রোদে থাকা ঠিক নয়। বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে ত্বক সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

১০. প্রয়োজন হলে অন্যের সাহায্য নিন

অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার সময় সব দায়িত্ব একা সামলানোর প্রয়োজন নেই। শরীর যদি এখনও দুর্বল থাকে, তাহলে পরিবার, বন্ধু বা কাছের মানুষের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

যেমন, কেউ শিশুদের দেখাশোনায় সাহায্য করতে পারেন, কেউ রান্না করে দিতে পারেন, আবার কেউ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ সামলে দিতে পারেন। এতে শরীর বিশ্রামের জন্য অতিরিক্ত সময় পাবে।

তবে অসুস্থতা সেরে যাওয়ার পরও যদি দীর্ঘদিন দুর্বলতা থাকে, উপসর্গ ফিরে আসে বা নতুন কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে শুধু বিশ্রাম বা খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে রক্তস্বল্পতা, সংক্রমণ-পরবর্তী সমস্যা, ঘুমের সমস্যা বা অন্য কোনো শারীরিক কারণ থাকতে পারে।

অসুস্থতার পর দ্রুত আগের ছন্দে ফেরার চেয়ে শরীরকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পুষ্টি, পানি, ঘুম, বিশ্রাম এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে শরীরকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে

অসুস্থতার পর শরীরের হারানো শক্তি ফেরাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০টি উপায়

০৭:১১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্দি-জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতা সেরে যাওয়ার পর অনেকেই ভাবেন, এবার বুঝি শরীর আগের মতো হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার পরও কয়েক দিন, কখনো কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি থাকতে পারে। অসুস্থ থাকার সময় ক্ষুধা কমে যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ঘুমের ব্যাঘাত এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা—সব মিলিয়ে শরীরের স্বাভাবিক শক্তি কমে যেতে পারে।

তাই অসুস্থতা কেটে যাওয়ার পর হঠাৎ করে আগের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় ফিরে না গিয়ে ধীরে ধীরে শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো গুরুত্বপূর্ণ। খাবার, পানি, ঘুম, হালকা ব্যায়াম ও বিশ্রামের দিকে নজর দিলে অনেক ক্ষেত্রেই শক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করতে পারে।

১. পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করুন

অসুস্থ থাকার সময় অনেকেরই খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়। ফলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে পারে। সুস্থ হওয়ার পর ধীরে ধীরে পুষ্টিকর খাবারের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য বাড়ানো তাই গুরুত্বপূর্ণ।

ওটমিলের মতো জটিল শর্করা ধীরে হজম হয় এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে শরীরে শক্তি জোগাতে পারে। ডিম বা মুরগির মাংসের মতো চর্বি কম থাকা প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। শিম বা অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ খাবারও ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

খাবারের তালিকায় ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবারও রাখা যেতে পারে। তবে অসুস্থতার ধরন ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর খাদ্যচাহিদা ভিন্ন হতে পারে।

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শরীরে পানির ঘাটতি হলে দুর্বল ও ক্লান্ত লাগতে পারে। অসুস্থতার সময় জ্বর, ঘাম, বমি বা ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বেরিয়ে গেলে পানিশূন্যতার ঝুঁকিও বাড়ে।

তাই সুস্থ হওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি ফল ও শাকসবজি খেলে শরীরে পানি ও প্রয়োজনীয় কিছু খনিজ উপাদান পাওয়ার সুযোগ থাকে। বিশেষ করে অসুস্থতার সময় প্রচুর তরল হারিয়ে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানীয় বা প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট গ্রহণ করা যেতে পারে।

14 Tips To Maximize Muscle Recovery৩. ব্যায়ামে ধীরে ধীরে ফিরুন

শরীর ভালো লাগছে বলেই হঠাৎ করে আগের মতো কঠিন ব্যায়াম শুরু করা ঠিক নয়। অসুস্থতার পর শরীরকে সময় দিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক শারীরিক কর্মকাণ্ডে ফিরতে হয়।

শুরুতে অল্প সময় হাঁটা বা হালকা নড়াচড়া করা যেতে পারে। প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিটের মতো হালকা শরীরচর্চাও শুরু হিসেবে যথেষ্ট হতে পারে। শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে ধীরে ধীরে সময় ও মাত্রা বাড়ানো ভালো।

তবে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা থাকলে ব্যায়াম না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪. বিশ্রাম ও মানসিক চাপ কমান

অসুস্থতা থেকে সুস্থ হতে শরীরের সময় লাগে। তাই পুরোপুরি শক্তি ফিরে পাওয়ার আগেই অতিরিক্ত কাজের চাপ নেওয়া উচিত নয়।

কাজ, সামাজিক অনুষ্ঠান বা বাড়তি দায়িত্ব কিছুটা কমিয়ে শরীরকে বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে কর্মক্ষেত্রে বাড়তি দায়িত্ব কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়া বা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়াও উপকারী হতে পারে।

অসুস্থতার পর কয়েক দিন বেশি বিশ্রাম নেওয়াকে অলসতা হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। এটি শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ারই অংশ।

৫. পর্যাপ্ত ঘুমান

শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনতে ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়।

ঘুম কম হলে দিনের স্বাভাবিক কাজ করতেও বেশি ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

অসুস্থতার পর তাই নিয়মিত ঘুমের সময় ঠিক রাখা, রাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং সম্ভব হলে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।

৬. যোগব্যায়াম বা ধ্যান করতে পারেন

শুধু শরীর নয়, অসুস্থতার পর মানসিক ক্লান্তিও থাকতে পারে। যোগব্যায়াম ও ধ্যান শরীরকে কিছুটা শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

একটি গবেষণায় হঠযোগ, ধ্যান ও বই পড়ার প্রভাব তুলনা করে দেখা হয়েছিল। সেখানে অল্প সময়ের যোগব্যায়াম ও ধ্যানের পর অংশগ্রহণকারীদের মেজাজ ও শক্তির অনুভূতিতে পরিবর্তন দেখা যায়।

তবে একেবারে শুরু করলে কঠিন যোগব্যায়াম নয়, সহজ ও স্বল্প সময়ের অনুশীলন দিয়ে শুরু করাই ভালো।

৭. কিছুদিন অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন

অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময় অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। অ্যালকোহল ঘুমঘুম ভাব তৈরি করলেও ঘুমের স্বাভাবিক ধারায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

অ্যালকোহল গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পর শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বাড়তে পারে, যার ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে শরীর আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এতে ঘুমের মান খারাপ হতে পারে এবং পরদিন আরও ক্লান্ত লাগতে পারে।

তাই শরীর পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা ভালো।

5 Ways to Reduce Your Sugar Intake | Centers Health Care

৮. অতিরিক্ত চিনি কমিয়ে দিন

চিনি দ্রুত শক্তি দেওয়ার অনুভূতি তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেই শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কিছুক্ষণ পর রক্তে শর্করার মাত্রার ওঠানামার কারণে আবার ক্লান্ত বা অস্বস্তি লাগতে পারে।

অসুস্থতার পর শরীর যখন পুনরুদ্ধারের পর্যায়ে থাকে, তখন অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর দেওয়া ভালো।

এর অর্থ এই নয় যে চিনি একেবারেই খাওয়া যাবে না। বরং শরীর পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার সীমিত রাখাই ভালো।

৯. কিছু সময় রোদে থাকুন

সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে ভূমিকা রাখে এবং মস্তিষ্কের সেরোটোনিনের মতো রাসায়নিকের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে মেজাজ ও দৈনন্দিন সতর্কতা ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।

অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার পর আবহাওয়া ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিদিন কিছু সময় বাইরে থাকা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত রোদে থাকা ঠিক নয়। বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে ত্বক সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

১০. প্রয়োজন হলে অন্যের সাহায্য নিন

অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার সময় সব দায়িত্ব একা সামলানোর প্রয়োজন নেই। শরীর যদি এখনও দুর্বল থাকে, তাহলে পরিবার, বন্ধু বা কাছের মানুষের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

যেমন, কেউ শিশুদের দেখাশোনায় সাহায্য করতে পারেন, কেউ রান্না করে দিতে পারেন, আবার কেউ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ সামলে দিতে পারেন। এতে শরীর বিশ্রামের জন্য অতিরিক্ত সময় পাবে।

তবে অসুস্থতা সেরে যাওয়ার পরও যদি দীর্ঘদিন দুর্বলতা থাকে, উপসর্গ ফিরে আসে বা নতুন কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে শুধু বিশ্রাম বা খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে রক্তস্বল্পতা, সংক্রমণ-পরবর্তী সমস্যা, ঘুমের সমস্যা বা অন্য কোনো শারীরিক কারণ থাকতে পারে।

অসুস্থতার পর দ্রুত আগের ছন্দে ফেরার চেয়ে শরীরকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পুষ্টি, পানি, ঘুম, বিশ্রাম এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে শরীরকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া যায়।