১২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন প্রতারণার ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হবে না কম্বোডিয়া, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে হুন মানেত পশ্চিম তীর নিয়ে ম্যাক্রোঁর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল, বলল ‘চরম অযৌক্তিক’ ছয় দিন ধরে কমছে তেলের দাম, বাড়ছে সরবরাহের আশা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনা মেটার ‘মিউজ’ এআইয়ের আড়ালে মানুষ, গোপনীয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তেলের দামে আটকে রুপি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির দিকে তাকিয়ে বাজার ভারতের ইউপিআইয়ে নতুন ফি, আরও শক্তিশালী হবে ফোনপে-গুগল পের আধিপত্য তিন কিলোমিটার সড়কে ৫ হাজারের বেশি গর্ত, ২৬ কোটি টাকার কাজেও থমকে বগুড়ার গোহাইল রোড যুক্তরাষ্ট্রে চীনের সৌন্দর্যপণ্যের দাপট, বাণিজ্যযুদ্ধও ঠেকাতে পারছে না রপ্তানি গাজায় শান্তির দাবি নিয়ে ট্রাম্পকে ম্যাক্রোঁর তীব্র কটাক্ষ, ‘এ দৃশ্য আমাদের লজ্জিত করা উচিত’ স্বামীকে মুক্ত করতে শির কাছে ট্রাম্পের আবেদন, চীনে বন্দি মার্কিন ভূকম্পবিদের পরিবারের আশা

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের হুমকি ‘অত্যন্ত মারাত্মক’: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হুমকি অত্যন্ত গুরুতর এবং বিষয়টি কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। এনডিটিভির প্রকাশিত সাক্ষাৎকারেও শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের হুমকিকে ‘গুরুতর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে প্রশ্ন

সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ কি পাকিস্তানের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর আঞ্চলিক নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে? জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের সময়ে বাংলাদেশকে চরমপন্থীদের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

তিনি জানান, তার শাসনামলে জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি শক্তিশালী গোয়েন্দা সক্ষমতা ও কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নাগরিক স্বাধীনতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাইয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন শেখ হাসিনা নিজেই দিয়েছিলেন |  প্রথম আলো

আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর

শেখ হাসিনা বলেন, উগ্রবাদী মতাদর্শ কোনো নির্দিষ্ট দেশের সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এ কারণে শুধু বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

তার মতে, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিষয়টি আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ, গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সামাজিক পর্যায়েও উদ্যোগ দরকার। এনডিটিভির প্রতিবেদনে তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিক স্বাধীনতার ভারসাম্যও বজায় রাখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন

মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা: শেখ হাসিনার সামনে রয়েছে যেসব আইনি পথ | The Daily Star

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। এনডিটিভিকে তিনি জানান, দেশে ফেরার প্রশ্নটি কখন নয়, বরং কীভাবে তা করা হবে—সেটিই মূল বিষয়। তিনি দেশে ফিরে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের ইচ্ছার কথাও জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে তিনি ওই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অনলাইন প্রতারণার ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হবে না কম্বোডিয়া, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে হুন মানেত

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের হুমকি ‘অত্যন্ত মারাত্মক’: শেখ হাসিনা

১১:১১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হুমকি অত্যন্ত গুরুতর এবং বিষয়টি কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। এনডিটিভির প্রকাশিত সাক্ষাৎকারেও শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের হুমকিকে ‘গুরুতর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে প্রশ্ন

সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ কি পাকিস্তানের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর আঞ্চলিক নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে? জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের সময়ে বাংলাদেশকে চরমপন্থীদের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

তিনি জানান, তার শাসনামলে জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি শক্তিশালী গোয়েন্দা সক্ষমতা ও কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নাগরিক স্বাধীনতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাইয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন শেখ হাসিনা নিজেই দিয়েছিলেন |  প্রথম আলো

আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর

শেখ হাসিনা বলেন, উগ্রবাদী মতাদর্শ কোনো নির্দিষ্ট দেশের সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এ কারণে শুধু বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

তার মতে, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিষয়টি আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ, গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সামাজিক পর্যায়েও উদ্যোগ দরকার। এনডিটিভির প্রতিবেদনে তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিক স্বাধীনতার ভারসাম্যও বজায় রাখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন

মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা: শেখ হাসিনার সামনে রয়েছে যেসব আইনি পথ | The Daily Star

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। এনডিটিভিকে তিনি জানান, দেশে ফেরার প্রশ্নটি কখন নয়, বরং কীভাবে তা করা হবে—সেটিই মূল বিষয়। তিনি দেশে ফিরে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের ইচ্ছার কথাও জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে তিনি ওই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।