অ্যালকোহলের বোতল ও প্যাকেটের লেবেলে পানীয়টির প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। বরং ভোক্তাদের ‘দায়িত্বশীলভাবে পান’ করার পরামর্শই দেওয়া হচ্ছে বেশি। অস্ট্রেলিয়ার একটি নতুন গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার তিনটি বড় খুচরা বিক্রেতার কাছে থাকা ৬ হাজারের বেশি অ্যালকোহল পণ্যের লেবেল বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, মাত্র ২৫ শতাংশ পণ্যে কোনো ধরনের স্বেচ্ছামূলক স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ছিল।
তবে এসব সতর্কবার্তার অধিকাংশই অ্যালকোহল পান থেকে সম্ভাব্য রোগঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাকে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। বরং ৯৯ শতাংশ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তায় নির্দিষ্ট কিছু মানুষ—বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও গাড়িচালকদের—অ্যালকোহল পান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড জার্নাল অব পাবলিক হেলথ-এ। অস্ট্রেলিয়ার জর্জ ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় অ্যালকোহলের লেবেলে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সতর্কতা কীভাবে দেওয়া হচ্ছে, কোথায় রাখা হচ্ছে এবং কী ধরনের বার্তা ব্যবহার করা হচ্ছে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোর একটি হলো, ৬৫ শতাংশ অ্যালকোহল পণ্যের লেবেলে ‘দায়িত্বশীলভাবে পান’ ধরনের বার্তা ছিল। কিন্তু এসব পণ্যের লেবেলে অ্যালকোহল সেবনের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুতর রোগের সম্পর্ক সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
গবেষকরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, অ্যালকোহল সেবনের সঙ্গে অন্তত সাত ধরনের ক্যানসার এবং লিভারের রোগের সম্পর্ক রয়েছে। অথচ এসব সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সরাসরি জানানো হচ্ছে না।
শুধু তাই নয়, যেসব পণ্যে স্বাস্থ্য সতর্কতা বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বার্তা ছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রেও তা সাধারণত এমন জায়গায় রাখা হয়েছে, যা ভোক্তার সহজে চোখে পড়ে না। অধিকাংশ সতর্কবার্তা ছিল বোতল বা প্যাকেটের পেছনে কিংবা নিচের অংশে।
গবেষণার প্রধান লেখক আসাদ ইউসুফ বলেন, অ্যালকোহলের লেবেলিংয়ের বর্তমান শিথিল নিয়মগুলো কোম্পানিগুলোকে একদিকে নিজেদের ‘করপোরেট দায়িত্বশীল’ হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ দিচ্ছে, অন্যদিকে পানীয়টির প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের অন্ধকারে রাখছে।
গবেষণাটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন অস্ট্রেলিয়ায় অ্যালকোহল বিজ্ঞাপন ও বিপণন নিয়ে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার দাবি জোরালো হচ্ছে। দেশটির একটি সংসদীয় কমিটি গত সপ্তাহেই অ্যালকোহলের বিজ্ঞাপন ও বিপণনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করেছে।
গবেষকদের findings থেকে মূল প্রশ্নটি দাঁড়াচ্ছে—অ্যালকোহল পণ্যের লেবেলে শুধু ‘দায়িত্বশীলভাবে পান’ বলাই কি যথেষ্ট, নাকি ক্যানসার, লিভারের রোগসহ সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও স্পষ্টভাবে জানানো উচিত? গবেষণাটি বলছে, বর্তমান স্বেচ্ছামূলক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা ভোক্তাদের যথেষ্ট তথ্য দিচ্ছে না।
অ্যালকোহলের লেবেলে কী আছে, আর কী নেই
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অ্যালকোহল পণ্যের লেবেলে সাধারণত যে বার্তাগুলো বেশি দেখা যাচ্ছে, সেগুলো হলো—অপ্রাপ্তবয়স্কদের পান না করা, গর্ভাবস্থায় অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এবং গাড়ি চালানোর আগে পান না করা। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সরাসরি ও স্পষ্ট তথ্য তুলনামূলকভাবে অনুপস্থিত।
গবেষকদের মতে, স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করতে হলে সতর্কবার্তা এমন জায়গায় থাকা দরকার, যেখানে তা সহজে চোখে পড়ে এবং বার্তাটি হতে হবে তথ্যভিত্তিক ও স্পষ্ট। শুধু ‘দায়িত্বশীলভাবে পান’ ধরনের সাধারণ পরামর্শ দিয়ে অ্যালকোহল-সম্পর্কিত রোগঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তার পূর্ণ ধারণা তৈরি করা সম্ভব নয়।
অস্ট্রেলিয়ার এই গবেষণা তাই শুধু লেবেলিংয়ের বিষয়টি নয়, অ্যালকোহল বিপণন ও জনস্বাস্থ্য নীতির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















