চীনের ধনী শ্রেণির ওপর কর বিভাগের নজরদারি ও কর আদায়ের চাপ নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশটির ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে করব্যবস্থাকে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে সরকার।
নতুন করব্যবস্থার ঘোষণা
চীনের কর বিভাগের প্রধান হু জিংলিন চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত একটি বার্ষিক সম্মেলনে কমিউনিস্ট পার্টির কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত হয়ে সরকারের করনীতির অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি চীনের রাজনৈতিক পরিভাষায় প্রচলিত বিষয়গুলো উল্লেখ করেন—শি জিনপিংয়ের চিন্তাধারা, চীনা বৈশিষ্ট্যের সমাজতন্ত্র এবং কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম জাতীয় কংগ্রেসের চেতনা।
তবে ওই বক্তব্যের বিশেষ দিক ছিল করব্যবস্থা নিয়ে তাঁর ঘোষণা। হু জিংলিন বলেন, চীনের অর্থনীতির জন্য করব্যবস্থায় একটি নতুন যুগের সূচনা করা হবে।
ধনী শ্রেণির ওপর বাড়তি চাপ
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘোষণার পর থেকে হু জিংলিন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছেন। এর ফলে চীনের ধনী ও বিলিয়নিয়ার শ্রেণি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি করচাপের মুখে পড়ছে।
চীনের অর্থনীতির আকার প্রায় ২১ ট্রিলিয়ন ডলার। এত বড় অর্থনীতিতে করব্যবস্থার পরিবর্তন এবং কর আদায়ের ওপর জোর দেওয়ার উদ্যোগ দেশটির ধনী শ্রেণির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কর বিভাগের প্রধানের জানুয়ারির বক্তব্য তাই কেবল একটি নীতিগত ঘোষণা হিসেবে থাকেনি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে এর বাস্তব প্রয়োগও দেখা যাচ্ছে। ফলে চীনের করনীতি এবং দেশটির ধনী শ্রেণির ওপর সরকারের আর্থিক নজরদারি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
চীনের করব্যবস্থায় এই পরিবর্তনের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে সামনে এসেছেন হু জিংলিন। জানুয়ারিতে তিনি যে নতুন করযুগের কথা বলেছিলেন, বর্তমান পদক্ষেপগুলো সেই ঘোষণারই বাস্তব প্রতিফলন বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
চীনের করচাপে ধনী শ্রেণি ও বিলিয়নিয়ারদের ওপর বাড়ছে নজরদারি।










