স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের প্রায় ৩৫ হাজার শূন্য পদ দ্রুত পূরণের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এসব পদ ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের। মাঠপর্যায়ের মোট পদের প্রায় ৪০ শতাংশই এখন খালি। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব এ এন এম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে এক ভার্চুয়াল সভা থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিয়োগ নিয়ে এমন তাগিদ এল ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপের মধ্যে, যখন মাঠের জনবল সবচেয়ে বেশি দরকার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, আগস্ট পর্যন্ত অধিদপ্তরে অনুমোদিত পদ ছিল ১,২৭,১০১টি। এর ৩৬ শতাংশই শূন্য। ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডে ৫৬,৯০৮টি পদের মধ্যে খালি ২০,৯৯৫টি। এই স্তরে আছেন স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে অবস্থা আরও খারাপ। সেখানে ২৬,২৯৫টি পদের মধ্যে ১৩,৯৪৫টি খালি, অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি। চিকিৎসক ও দন্তচিকিৎসকদের ১ থেকে ৯ম গ্রেডেও প্রায় ২৪ শতাংশ পদ ফাঁকা।
নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের কাছে। মাঠপর্যায়ের এসব পদে সরাসরি নিয়োগ হবে সিভিল সার্জন কার্যালয় ও অধিদপ্তরের মাধ্যমে। কবে বিজ্ঞপ্তি আসবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে কাজটি জরুরি ভিত্তিতে ও দেরি না করে করতে বলা হয়েছে। চিকিৎসকের পদে নিয়োগ চলছে আলাদা পথে। ২৪ সেপ্টেম্বর ৫১তম বিশেষ বিসিএসের ঘোষণা এসেছে। এতে সহকারী সার্জনের ৪,৭০০টি ও সহকারী ডেন্টাল সার্জনের ৩০০টি পদ রয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ৩,২০০ চিকিৎসক ও দন্তচিকিৎসক নিয়োগও দেওয়া হয়েছে।
জনবলের এই ঘাটতি সরাসরি সেবায় পড়ছে। টিকাদান, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও রোগ নজরদারির কাজ মূলত করেন মাঠের স্বাস্থ্যকর্মীরা। স্বাস্থ্য সহকারী আখিল উদ্দিন বলেন, তাঁরা পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন, তবে লোকবলের অভাবে স্বাস্থ্যশিক্ষার মতো অন্য সেবা ঠিকমতো দেওয়া যায় না। হামে মৃত্যু যখন হাজার ছাড়িয়েছে, তখন টিকাদানে যুক্ত পদ খালি থাকা বড় ঝুঁকি। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এটি বড় সুযোগও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির জন্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নজর রাখতে হবে।
এই নিয়োগ সরকারের ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ পরিকল্পনার অংশ। কিন্তু ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে যেখানে অর্ধেকের বেশি চেয়ার খালি, সেখানে একটি নির্দেশনায় ঘাটতি মিটবে না। জেলাগুলো কত দ্রুত বিজ্ঞপ্তি দেয় এবং প্রক্রিয়া জটিলতায় আটকে যায় কি না, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিয়োগের আসল পরীক্ষা হবে সেখানেই।












