ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত বাস্কেটবল টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের প্যান্ট ও জার্সি পরে মাঠে নামার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, সাদিক কায়েম মেয়েদের প্যান্ট-জার্সি পরিয়ে মাঠে নামিয়ে ‘অসুন্দর পরিবেশ’ তৈরি করছেন। একই সঙ্গে এ আয়োজনকে দেশের ইতিহাসে প্রথম হিসেবে তুলে ধরে গর্ব করার বিষয়টিরও সমালোচনা করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ‘সাদিক কায়েম মেয়েদের প্যান্ট-জার্সি পরিয়ে মাঠে নামিয়ে অসুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। সেখানে আবার সে গর্ব করে বলে, দেশের ইতিহাসে প্রথম পারছে।’ এ ধরনের উদ্যোগ কতদিন চলবে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ ও তাগিদ আছে কি না, সে প্রশ্নও করেন।
প্রচলিত নীতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি
সম্মেলনে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য মানুষ জীবন দিয়েছে এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীও পেরিয়ে গেছে। কিন্তু মানুষের প্রকৃত মুক্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে তিনি মনে করেন।
চরমোনাই পীর বলেন, একই নীতিতে দেশ পরিচালিত হতে থাকলে ভবিষ্যতে স্বাধীনতার হীরকজয়ন্তী কিংবা শতবর্ষও উদযাপন করা সম্ভব হবে। তবে শুধু এ ধরনের উদযাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।
তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, দেশের মানুষ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেখেছে। কিন্তু প্রচলিত নীতির মাধ্যমে কোনো দলই রাষ্ট্র ও সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেনি।
চাঁদাবাজি-দুর্নীতি বন্ধে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ
সরকারের সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের আমির অভিযোগ করেন, দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজ, গুম ও খুনসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনাচার বাড়ছে। এসব অনাচার বন্ধ করতে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও ইশতেহার প্রকাশ করে। কিন্তু নির্বাচনের পর অনেক সময় সেই প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে গিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়।
তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের রাজনৈতিক নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও তাতে রাষ্ট্র ও সমাজের মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি। তাই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে নতুন চিন্তা ও নীতির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি শেখ ফজলে বারী মারুফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কেএম শরিয়তউল্লাহ।
এ সময় ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। সম্মেলনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।












