জাপানের আইচি-নাগোয়ায় ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এশিয়ান গেমস আজ রোববার শেষ হচ্ছে। এবারের আসরে বাংলাদেশের প্রাপ্তি একটি ব্রোঞ্জ পদক। উশুর নারী সান্দা ৫২ কেজি বিভাগে পদকটি জিতেছেন ২৩ বছর বয়সী জিন্নাত আক্তার। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ এবার এই এক পদকেই আসর শেষ করল।
জিন্নাতের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার খেলোয়াড় ওজনের শর্ত পূরণ করতে না পারায় বাদ পড়েন। ফলে সেমিফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হয় তার। ইভেন্টে ১৫ জন প্রতিযোগী থাকায় দুটি ব্রোঞ্জ দেওয়া হয়। তাই সেমিফাইনালে ওঠা মানেই পদক। ২৩ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে চীনের প্রতিযোগীর কাছে হারলেও ব্রোঞ্জ নিয়ে ফেরেন তিনি।
এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে এটি বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় পদক। ১৯৮৬ সালের সিউল আসরে বক্সার মোশাররফ হোসেন ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। ফলে ৪০ বছরের অপেক্ষা ঘোচালেন জিন্নাত। নেত্রকোনার এই তরুণী একসময় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। পরিবারের বাধা পেরিয়ে তিনি উশুতে এসেছেন। ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পর বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন তাকে সংবর্ধনা দেয়। পদক জয়ের পর তিনি উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা ও বিদেশি কোচের দাবি জানিয়েছেন।
সবচেয়ে বড় আশা ছিল ক্রিকেটে। কিন্তু পুরুষ দল সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে যায়। পরে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হারে। অথচ ২০১০ সালের গুয়াংজু আসরে এই ক্রিকেটেই সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সাফল্য এখনো অনেকটাই ব্যক্তিগত লড়াইয়ের ওপর নির্ভরশীল। জিন্নাতের পদক দেখিয়ে দিল, সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে কম আলোচিত খেলাতেও সাফল্য আসতে পারে। ফেডারেশনগুলো এখন সেই সুযোগ কতটা বাড়ায়, সেটিই দেখার বিষয়।












