গর্ভাবস্থায় যোনিপথে রক্তপাত হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। গর্ভাবস্থার কোন সময়ে রক্তপাত হচ্ছে, রক্তপাতের পরিমাণ কতটা এবং এর সঙ্গে পেটব্যথা, খিঁচুনি, জ্বর বা অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না—এসব তথ্য চিকিৎসকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই রক্তপাত হলে কতটা রক্ত গেছে, রক্তের ধরন কেমন ছিল এবং রক্তের সঙ্গে জমাট অংশ বা কোনো টিস্যু বের হয়েছে কি না, তা চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন।
গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহে হালকা রক্তের দাগ বা অল্প রক্তপাত কিছু ক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য হতে পারে। যদি এমন রক্তপাত এক দিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী গর্ভকালীন নিয়মিত পরীক্ষার সময় চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো উচিত।

তবে রক্তপাত এক দিনের বেশি স্থায়ী হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। আর রক্তপাত মাঝারি থেকে বেশি হলে, যোনিপথ দিয়ে কোনো টিস্যু বের হলে কিংবা রক্তপাতের সঙ্গে পেটে ব্যথা, পেটে টান বা খিঁচুনি, জ্বর অথবা কাঁপুনি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
প্রথম তিন মাসে রক্তপাত হলে রক্তের গ্রুপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে কারও রক্তের গ্রুপ যদি আরএইচ নেগেটিভ হয়, তাহলে চিকিৎসককে তা জানানো জরুরি। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন একটি ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে, যা শরীরে এমন অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়া ঠেকাতে সাহায্য করে, যা ভবিষ্যতের গর্ভধারণে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক অর্থাৎ ১৩ থেকে ২৭ সপ্তাহের মধ্যে যোনিপথে রক্তপাত কয়েক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। রক্তপাতের সঙ্গে পেটে ব্যথা, পেটের খিঁচুনি, জ্বর, কাঁপুনি বা জরায়ুর সংকোচন থাকলেও দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

তৃতীয় ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ ২৮ থেকে ৪০ সপ্তাহের মধ্যে যেকোনো ধরনের যোনিপথে রক্তপাতকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। এ সময় রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। বিশেষ করে রক্তপাতের সঙ্গে পেটে ব্যথা থাকলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে।
গর্ভাবস্থার একেবারে শেষ দিকে যোনিপথের স্রাব গোলাপি বা রক্তমিশ্রিত হতে পারে। এটি কখনো কখনো প্রসব শুরু হওয়ার লক্ষণ হতে পারে, যাকে ‘ব্লাডি শো’ বলা হয়। তবে শুধু দেখে নিশ্চিত হওয়া সবসময় সম্ভব নয় যে এটি স্বাভাবিক প্রসবের প্রস্তুতির অংশ, নাকি কোনো জটিলতার লক্ষণ। তাই গর্ভাবস্থার শেষ দিকে এমন স্রাব দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত।
গর্ভাবস্থায় রক্তপাতের কারণ একেক সময়ে একেক রকম হতে পারে এবং সব রক্তপাতের অর্থ একই নয়। তাই নিজের মতো করে কারণ নির্ধারণ না করে গর্ভাবস্থার সময়কাল, রক্তপাতের পরিমাণ এবং সঙ্গে থাকা উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।











