২০২৭ সাল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহছানুল হক মিলন এ কথা জানিয়েছেন। কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ৫৩তম জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনে তিনি এ ঘোষণা দেন। মন্ত্রী বলেন, নতুন বিষয়গুলোতে আনন্দময় পাঠ, কারিগরি শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন বিষয় চালুর মধ্য দিয়ে মাধ্যমিক স্তরের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও শখের দিকে নজর দিতে চায় সরকার। এতে শ্রেণিকক্ষে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ বাড়তে পারে।
মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ২০২৮ সাল থেকে পাঠ্যক্রম নতুন করে সংশোধন ও হালনাগাদ করা হবে। প্রয়োজন যাচাই করে দরকার হলে আরও নতুন বই যুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। চারটি বিষয়ের নাম ও পাঠ্যসূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। কোন শিক্ষক এসব বিষয় পড়াবেন, তাঁদের প্রশিক্ষণ কীভাবে হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি। ফলে বছরের শুরুর আগে বই ছাপা ও শিক্ষক প্রস্তুতির জন্য হাতে খুব বেশি সময় থাকছে না।
শিক্ষামন্ত্রী এই ঘোষণা দিয়েছেন একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মঞ্চে। ফলে খেলাধুলা নতুন বিষয়গুলোর একটি হতে পারে, এমন ইঙ্গিত মিলছে। তবে বাকি বিষয়গুলো কী হবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন বিষয় যোগ হলে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতেও ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। নইলে এক শ্রেণিতে শেখা বিষয় পরের শ্রেণিতে হারিয়ে যাবে। প্রতি বছর জানুয়ারির শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে নতুন বই তুলে দেয় সরকার। তাই ২০২৭ সালের বই ছাপার কাজ এখনই গুছিয়ে আনা দরকার।
খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমে আনার আলোচনা আরও বিস্তৃত। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, আগামী পাঠ্যক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাবিষয়ক বই রাখার পরিকল্পনা আছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে খেলাধুলাকে নিয়মিত পড়াশোনার অংশ করার কথা বলছে সরকার। এর লক্ষ্য শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ। পাশাপাশি তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করাও এর উদ্দেশ্য। সব মিলিয়ে পরিবর্তনের ঘোষণা যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি পরিকল্পনার স্বচ্ছতা।
গত কয়েক বছরে দেশের শিক্ষাক্রম বারবার বদলেছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাই পরিবর্তন ধীরে ও পরিকল্পিতভাবে হওয়া জরুরি। নতুন বিষয় যুক্ত হলে পড়ার চাপ ও খরচ বাড়বে কি না, সেটিও অভিভাবকদের প্রশ্ন। কারিগরি ও সৃজনশীল বিষয় চালু করা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। তবে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, খেলার মাঠ ও উপকরণ ছাড়া এসব বিষয় শুধু বইয়ের পাতায় আটকে থাকতে পারে।
দেশের অনেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ বা আলাদা শিক্ষক নেই। গ্রামের অনেক স্কুলে ল্যাব ও কারিগরি সরঞ্জামেরও ঘাটতি রয়েছে। তাই ঘোষণার পাশাপাশি অবকাঠামো ও শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাও জানানো দরকার। ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন বিষয় চারটির নাম ও পাঠ্যসূচি প্রকাশ হলে বোঝা যাবে, এই পরিবর্তন শ্রেণিকক্ষে কতটা কাজে আসবে। আপাতত অভিভাবকদের নজর থাকবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পরবর্তী ঘোষণার দিকে।












