সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে ডাক পেয়েছেন অফস্পিনার আলিস আল ইসলাম। দলকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন দাস, সহ-অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। সিরিজে বাংলাদেশের সঙ্গে খেলবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। সব ম্যাচ হবে আবুধাবিতে। বিসিবি শনিবার এই দল ঘোষণা করে। ঘোষিত দলে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়ের মিশ্রণ রাখা হয়েছে।
সিরিজে প্রতিটি দল একে অপরের সঙ্গে একবার করে খেলবে। এরপর শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনাল। ১৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। ১৯ অক্টোবর আফগানিস্তান খেলবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২১ অক্টোবর বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের। ফাইনাল ২৩ অক্টোবর। এক সপ্তাহের এই ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ তাই টাইগারদের জন্য ব্যস্ত সূচি নিয়ে আসছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ভালো শুরু পেলে ফাইনালের পথ সহজ হয়ে যাবে।
দলে আছেন লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। আরও আছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, কাজী নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসেন। স্পিনে আছেন তানভীর ইসলাম ও আলিস আল ইসলাম। পেস বিভাগে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। আলিস এর আগে এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক করেছিলেন। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে বড় ভূমিকা রাখা হাসান মাহমুদও দলে আছেন। তবে চোট থেকে সেরে না ওঠায় দলে নেই গতিময় পেসার নাহিদ রানা। তিনি এখনো সাইড স্ট্রেইন থেকে সেরে উঠছেন।
এই সিরিজের গুরুত্ব শুধু শিরোপায় সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই এ বছরের শুরুতে লিটন দাসকে ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয়। বিশ্বকাপের আগে দলের সমন্বয় খুঁজে নিতে প্রতিটি ওয়ানডে এখন গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ মেহেদী, তাসকিন ও মোস্তাফিজের সঙ্গে তরুণদের মিশ্রণ কেমন কাজ করে, সেটিই দেখার বিষয়। আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে ব্যাটিং বরাবরই বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা। তাই আমিরাতের ধীর উইকেটে টপ অর্ডারের দায়িত্ব থাকবে বেশি। মাঝের ওভারে রিশাদ ও তানভীরের স্পিন কতটা কাজে আসে, সেটিও ম্যাচের ফল ঠিক করে দিতে পারে। অভিজ্ঞ শান্ত ও সৌম্যের ব্যাটে রান এলে মিডল অর্ডারে চাপ কমবে।
দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন আরেক জায়গাতেও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্ট শেষ হওয়ার পরপরই ওয়ানডের প্রস্তুতিতে নামতে হবে দলকে। টেস্ট থেকে সাদা বলের ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়ার সময়ও খুব কম। লম্বা সংস্করণের ক্লান্তি কাটিয়ে দ্রুত ছন্দে ফেরাই হবে খেলোয়াড়দের প্রথম কাজ। পেসারদের কাজের চাপ সামলানোও টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য বড় চিন্তা। নতুন মুখ আলিস সুযোগ পেলে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন কি না, তা নিয়ে কৌতূহল আছে। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ জিতলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে লিটনের দলের। আর ব্যর্থ হলে দল নির্বাচন ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হবে। সিরিজটি তাই বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।












