দুর্গাপূজার পাঁচ দিন মানে পাঁচ রকম আয়োজন। কোনো দিন সকালে অঞ্জলি, কোনো দিন সারা দিন মণ্ডপ ঘোরা, আবার কোনো সন্ধ্যায় আড্ডা আর অনুষ্ঠান। সব দিনে একই রকম সাজ মানায় না, আরামও হয় না। শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, নানা ধর্মের মানুষও এ সময় মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে বের হন। তাই পূজার সাজ ঠিক করার আগে দিনের আয়োজন আর আবহাওয়া দুটোই মাথায় রাখা দরকার।
ষষ্ঠী: হালকা রঙে শুরু
ষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হয়। এদিন হালকা রঙের সুতি শাড়ি বা কুর্তা বেশ মানায়। সন্ধ্যায় মণ্ডপে গেলে হালকা জামদানি বা ছাপা শাড়ি বেছে নিতে পারেন। ছেলেদের জন্য হালকা রঙের সুতি পাঞ্জাবিই যথেষ্ট।
সপ্তমী: আরামই আসল
সপ্তমীতে অনেকেই সারা দিন একটার পর একটা মণ্ডপ ঘোরেন। এদিন হাঁটাহাঁটি বেশি হয়, ভিড়ও থাকে। তাই সালোয়ার-কামিজ বা কুর্তার মতো সহজে সামলানো যায় এমন পোশাক ভালো। পায়ে রাখুন ফ্ল্যাট জুতা বা আরামদায়ক স্যান্ডেল। সঙ্গে ছোট একটি ব্যাগে পানি আর টিস্যু রাখলে সুবিধা হয়।
অষ্টমী: অঞ্জলির সাজ
অষ্টমীর সকালে অঞ্জলি দেওয়ার রেওয়াজ আছে, অনেকে এদিন নতুন শাড়ি পরেন। লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, গরদ বা তাঁতের শাড়ি এদিনের প্রথাগত পছন্দ। ছেলেরা পরতে পারেন ধুতি-পাঞ্জাবি বা সাদা পাঞ্জাবি। সকালের অনুষ্ঠান হওয়ায় সাজ রাখুন পরিমিত, গয়নায় রাখুন হালকা ভাব।
নবমী: সন্ধ্যার জমকালো সাজ
নবমীর সন্ধ্যায় অনেক জায়গায় গান, আরতি আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এই সন্ধ্যার জন্য রাখতে পারেন কাতান, সিল্ক বা জরির কাজ করা শাড়ি। সঙ্গে মানানসই গয়না আর একটু গাঢ় সাজ মানিয়ে যায়। ছেলেদের জন্য এমব্রয়ডারি করা পাঞ্জাবি বা কোটি ভালো বিকল্প।
দশমী: সিঁদুরখেলার দিন
দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের আগে বিবাহিত নারীরা সিঁদুরখেলায় মাতেন। এদিনের প্রথাগত পোশাক লাল পাড়ের সাদা শাড়ি। তবে সিঁদুরের দাগ সহজে ওঠে না, তাই খুব দামি বা প্রিয় শাড়ি এড়িয়ে চলাই ভালো। চুল বেঁধে রাখলে আর পুরোনো গয়না পরলে দুশ্চিন্তা কম থাকে।
যে কথাগুলো সব দিনেই খাটে
অক্টোবরে দিনের বেলা এখনো গরম আর আর্দ্রতা বেশি, তাই দিনের জন্য সুতি কাপড়ই আরামদায়ক। মণ্ডপে প্রদীপ আর ধুনুচির আগুন থাকে। লম্বা আঁচল বা ঢিলেঢালা ওড়না আগুনের কাছে সাবধানে সামলাতে হবে। সিনথেটিক কাপড় আগুনে দ্রুত গলে যায়, তাই ধুনুচিনাচের সময় সুতি বা সিল্কই নিরাপদ। ভিড়ের মধ্যে দামি গয়না কম পরা আর মোবাইল ফোন সাবধানে রাখাও জরুরি। সাজ যতই সুন্দর হোক, পূজার আনন্দের জন্য আরাম আর নিরাপত্তাই আগে।












