যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা শেন গিলিসের নারীদের পোশাক নিয়ে করা মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ১০ অক্টোবর ২০২৬-এ মার্কিন টেলিভিশন অনুষ্ঠান স্যাটারডে নাইট লাইভ (এসএনএল)-এর সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি ব্যায়ামাগারে নারীদের পোশাক নিয়ে অবমাননাকর রসিকতা করেন। তাঁর এই মন্তব্যকে নারীবিদ্বেষী বলে সমালোচনা করেছেন দর্শক ও বিনোদনজগতের কয়েকজন পরিচিত মুখ।
ভোগের সংস্কৃতিবিষয়ক লেখক এমা স্পেক্টর তাঁর নিবন্ধে বলেছেন, নারীদের নিয়ে অপমানজনক রসিকতাকে ‘সাহসী’ বা প্রচলিত ধারার বাইরে থাকা কৌতুক হিসেবে দেখানোর প্রবণতা নিয়ে তিনি ক্লান্ত। ছোটবেলায় লুই সি কে, বিল বার ও রিকি জারভেইসের মতো কৌতুকাভিনেতাদের অনুষ্ঠান দেখে বড় হওয়ার সময় তিনি বুঝতে শিখেছিলেন, এসব রসিকতায় নারীদের প্রায়ই হাসির পাত্র বানানো হয়। তখন তিনি নিজেকে এমন একজন নারী হিসেবে ভাবতে চেয়েছিলেন, যিনি অন্য নারীদের নিয়ে করা রসিকতায় আহত না হয়ে বরং সেই হাসির অংশ হতে পারবেন।
কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর উপলব্ধি বদলেছে। জন মুলানি, নিক ক্রল ও কনার ওম্যালির মতো কৌতুকাভিনেতাদের কাজের মধ্যে তিনি এমন হাস্যরস খুঁজে পেয়েছেন, যা নারীদের অবমাননা না করেও দর্শককে আনন্দ দিতে পারে। তাঁর মতে, প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা আর নারীকে ছোট করা এক বিষয় নয়।
গিলিসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পেক্টরের আপত্তি মূলত এখানেই। ব্যায়ামাগারে নারীদের আঁটসাঁট বা ছোট পোশাক পরা নিয়ে কৌতুক করতে গিয়ে গিলিস তাঁদের অপমানজনক ভাষায় বর্ণনা করেন। স্পেক্টরের মতে, এমন রসিকতা নারীদের শরীরকে পুরুষের দৃষ্টিতে বিচার করার প্রবণতাকে স্বাভাবিক করে তোলে। একই সঙ্গে নারীদের পোশাক ও শরীর নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করার সংস্কৃতিকেও উৎসাহিত করতে পারে।
গিলিসের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন অভিনেতা ড্যান লেভিও। তাঁর বক্তব্য, ব্যায়ামাগারে ছোট প্যান্ট পরলেই কোনো নারীকে অপমানজনক নামে ডাকা যায় না; বরং এভাবে নারীদের হেয় করা পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যাকেই প্রকাশ করে। এসএনএলের সাবেক অভিনয়শিল্পী ইগো নওডিমও ব্যায়ামাগারের পোশাকে নিজের ছবি প্রকাশ করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
স্পেক্টর তাঁর নিবন্ধে ২০২৪ সালে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে যৌন নিপীড়নের মামলার প্রসঙ্গও তুলেছেন। তাঁর মতে, যখন যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছেন এবং নারীদের অবমাননার বিষয়টি নিয়ে সমাজে আলোচনা চলছে, তখন নারীদের নিয়ে গতানুগতিক অপমানজনক রসিকতা আরও বেশি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
লেখকের বক্তব্য, নারীরা এসব রসিকতায় হাসছেন না মানেই তাঁরা অতিরিক্ত সংবেদনশীল—এমন ধারণা ঠিক নয়। বরং কৌতুকের নামে কাউকে হেয় করার প্রবণতাকে প্রশ্ন করা জরুরি। তাঁর কাছে সমস্যা শুধু এই নয় যে রসিকতাগুলো নারীদের আহত করতে পারে; আরও বড় সমস্যা হলো, এগুলো আদৌ যথেষ্ট মজার নয়।
নিবন্ধের শেষ বক্তব্য স্পষ্ট: ভালো কৌতুক তৈরির জন্য নারীদের ছোট করা বা তাঁদের শরীরকে হাসির বিষয় বানানোর প্রয়োজন নেই। যে কৌতুকাভিনেতারা নারীদের প্রতি অবজ্ঞাকে হাস্যরসের প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেন, তাঁদের পক্ষে আর অজুহাত খুঁজতে রাজি নন স্পেক্টর। তাঁর মতে, নারীবিদ্বেষী রসিকতাকে সাহসী কৌতুক বলে চালিয়ে দেওয়ার সময় শেষ হওয়া উচিত।












