আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর সামনে রেখে এখনই প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। দেশটির জাতীয় নির্বাচক মার্কাস নর্থ বলেছেন, উপমহাদেশের কন্ডিশনে লড়তে দলের স্পিন বোলিংয়ের গভীরতা বাড়াতে হবে। এ জন্য ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) স্পিনারদের পেছনে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশকে নিয়ে নর্থের মূল্যায়ন স্পষ্ট। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ভালো ক্রিকেট দল, ভালো টেস্ট দল। শুধু ভালো স্পিনার নয়, তাদের কয়েকজন খুব ভালো পেসারও আছে, তাই সিরিজটা কঠিন পরীক্ষা হবে। তার মতে, এমন একটি স্কোয়াড দরকার, যা ওই কন্ডিশনে সব ধরনের বিকল্প দেবে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নতুন সহকারী কোচদের একজন করা হয়েছে রিচার্ড ডসনকে। তিনি ইংল্যান্ডের জাতীয় স্পিন বোলিংয়ের দায়িত্বও পেয়েছেন।
ইংল্যান্ডের স্পিন নীতি নিয়ে প্রশ্নও আছে। বেন স্টোকসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর প্রথম সিরিজে তারা কোনো বিশেষজ্ঞ স্পিনার খেলায়নি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জেতা সেই সিরিজে অফ স্পিনের দায়িত্ব সামলেছেন ড্যান লরেন্স ও জো রুট। স্পিনার শোয়েব বশিরকে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে। ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও একই রকম দল দেখা যেতে পারে। ফলে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরই হয়ে উঠছে তাদের স্পিন পরিকল্পনার আসল পরীক্ষা।
অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার জ্যাক লিচের টেস্ট দলে ফেরার সম্ভাবনা কম। ৩৫ বছরের লিচ শেষ টেস্ট খেলেছেন ২০২৪ সালের শেষ দিকে, পাকিস্তানে। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে সমারসেটের হয়ে গত দুই মৌসুমে তিনি ২১.৭৩ গড়ে ৮৮ উইকেট নিয়েছেন। তবু নর্থ এক পডকাস্টে জানিয়েছেন, নির্বাচকেরা এখন ভিন্ন পথে হাঁটছেন। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা শোয়েব বশির ও রেহান আহমেদের সঙ্গে উন্নয়ন চুক্তিতে আছেন ম্যাসন ক্রেন, জেমস কোলস ও লিয়াম প্যাটারসন-হোয়াইট।
ইংল্যান্ডের এমন প্রস্তুতি বাংলাদেশের টেস্ট দলের প্রতি সম্মানেরই স্বীকৃতি। ঘরের মাঠে স্পিনবান্ধব উইকেটে বাংলাদেশ বরাবরই কঠিন প্রতিপক্ষ। এখন পেস আক্রমণও আলোচনায় আসছে। ফেব্রুয়ারির সিরিজটি তাই টাইগারদের জন্যও নিজেদের প্রমাণের বড় সুযোগ। ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর কেমন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে কোন দল কন্ডিশন বেশি কাজে লাগাতে পারে তার ওপর।












