দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা এবার পর্দার বাইরের এক মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন। একসঙ্গে ৪০০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। আগামী এক বছর এসব পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনার খরচ বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিন মাস অন্তর পর্যায়ক্রমে পরিবারগুলোর বাজারের খরচ জোগাবেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু দৈনন্দিন খাবারের ব্যয় মেটানো নয়, বরং পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ কিছুটা কমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি করা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন রাশমিকা। তাঁর মতে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব সময় বড় কোনো আয়োজন কিংবা বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয় না। সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট একটি উদ্যোগও অন্যের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। নিজের কাজের মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।
৪০০ পরিবারকে নিয়ে এক বছরের পরিকল্পনা
রাশমিকার এই কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে ৪০০ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস অন্তর এসব পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের খরচ বহন করবেন তিনি। অর্থাৎ, সহায়তাটি এককালীন না রেখে নির্দিষ্ট সময় পরপর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনার খরচ একটি পরিবারের নিয়মিত ব্যয়ের বড় অংশ। এই খাতে সহায়তা পেলে পরিবারগুলো নিজেদের আয়ের কিছু অর্থ অন্য প্রয়োজনেও ব্যবহার করতে পারবে। বিশেষ করে ভবিষ্যতের জরুরি ব্যয় মেটানো কিংবা কিছু অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে প্রতিটি পরিবার কত টাকা করে পাবে, কর্মসূচিতে মোট কত অর্থ ব্যয় হবে এবং কোন কোন খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হবে—এসব বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। রাশমিকা অবশ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্যসামগ্রীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন।
‘প্রজেক্ট অন্নপূর্ণা’: আট অঞ্চলে সহায়তার উদ্যোগ
রাশমিকার এই কর্মসূচির নাম ‘প্রজেক্ট অন্নপূর্ণা’। দক্ষিণ ভারতের আটটি অঞ্চলে এই উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। অঞ্চলগুলো হলো হায়দরাবাদ, মাহবুবনগর, অনন্তপুর, বেঙ্গালুরু, কোচি, চেন্নাই, কোডাগু ও বিজয়ওয়াড়া। কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলোর জন্য চাল, গমের আটা, ডাল, রান্নার তেল, রাগি ও মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী রাখার কথা বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এই সহায়তার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবারগুলোর নিয়মিত খাদ্যব্যয়ের চাপ কমানো। বাজারের খরচে সাশ্রয় হলে সেই অর্থ দিয়ে চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব খাতে পরিবারগুলো অর্থ ব্যয় করবে কি না, তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
এত দিন গোপনেই করতেন মানবিক কাজ
রাশমিকা জানিয়েছেন, আগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে অংশ নিলেও সেগুলো প্রকাশ্যে আনতে চাইতেন না। তাঁর বিশ্বাস ছিল, তিনি নিজে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ দলের সদস্যরা বিষয়টি জানলেই যথেষ্ট। এবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে উদ্যোগটি প্রকাশ করার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
অভিনেত্রীর আশা, তাঁর এই পদক্ষেপ দেখে ভক্ত ও অনুসারীরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত হবেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, সাহায্য করার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ কিংবা বিশাল আয়োজনের প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট উদ্যোগ একত্র হয়েও মানুষের জীবনে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারে।
পর্দার চরিত্র থেকে বাস্তব জীবনের অনুপ্রেরণা
রাশমিকার এই উদ্যোগের সঙ্গে তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘রণবালি’র একটি যোগসূত্রও রয়েছে। ছবিটিতে তিনি জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনেত্রীর ভাষ্য, চরিত্রের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের কিছু মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি, বিশেষ করে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায়।
তাঁর মতে, অভিনীত চরিত্র কখনো কখনো একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। জয়াম্মা চরিত্রের সঙ্গে নিজের এই মিলের কথা বলতে গিয়েই তিনি মানবিক উদ্যোগটি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাশমিকা আরও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নির্ঘুম রাত, শারীরিক আঘাত, মানসিক কষ্ট ও নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে। কিন্তু সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর মুখে হাসি দেখতে পারা তাঁর কাছে অমূল্য। মানুষের এই আনন্দই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
‘রণবালি’ মুক্তির আগে আলোচনায় রাশমিকা
কর্মজীবনেও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন রাশমিকা। তাঁর নতুন সিনেমা ‘রণবালি’ পরিচালনা করেছেন রাহুল সাংকৃত্যায়ন। ছবিতে তাঁর সহশিল্পী বিজয় দেবেরাকোন্ডা। ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’-এর পর এটি তাঁদের তৃতীয় যৌথ সিনেমা।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবিটির পটভূমি ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের ভয়াবহ মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষ। ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে।
সিনেমার প্রচারপর্বের মধ্যেই ৪০০ পরিবারের জন্য খাদ্যসহায়তার ঘোষণা রাশমিকার ব্যক্তিগত উদ্যোগকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তবে তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্যোগটি প্রকাশ করার উদ্দেশ্য কেবল নিজের কাজের কথা জানানো নয়; বরং অন্যদেরও মানবিক কাজে উৎসাহিত করা।
একটি ছোট উদ্যোগও কারও জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে—রাশমিকার এই বার্তাই তাঁর নতুন মানবিক কর্মসূচির মূল কথা।












