পাকিস্তানে আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত আনমল, যিনি ‘ম্যাডাম পিঙ্কি’ নামে পরিচিত, কীভাবে মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন—তা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলছেন, গণমাধ্যমে তাকে যতটা বড় মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবে তিনি ছিলেন মাঝারি পর্যায়ের একজন খেলোয়াড়।
ঘটনার শুরু চলতি বছরের ৭ এপ্রিল। করাচির লিয়ারি এলাকার একটি স্কুলের কাছে ফুটপাত থেকে প্রায় ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে বাগদাদি থানা পুলিশ। তার পরনে ছিল বাদামি শার্ট ও চেক প্যান্ট। পরিচয় শনাক্ত করার মতো কোনো কাগজপত্র ছিল না।
তবে তার কাছে পাওয়া একটি ছোট ধাতব কৌটা পুলিশের নজর কাড়ে। সোনালি রঙের মোড়কে মোড়ানো ওই কৌটায় লেখা ছিল—‘কুইন ম্যাডাম পিঙ্কি’ এবং আরও কিছু প্রচারধর্মী কথা।
প্রথমে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে অজ্ঞাত মাদকাসক্ত হিসেবে নথিভুক্ত করে মরদেহ মর্গে পাঠায়। পরে ৯ মে একটি হত্যা মামলা করা হয় এবং কৌটার গায়ে লেখা ‘পিঙ্কি’ নামটিও মামলায় আসে। কয়েক দিন পর ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই কৌটায় ‘এ শ্রেণির’ মাদক কোকেনের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
১২ মে পিঙ্কিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, করাচির গার্ডেন এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে সিন্ধু পুলিশ ও একটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, পিঙ্কির সাবেক স্বামী তার অবস্থান সম্পর্কে এক উপপরিদর্শককে তথ্য দিয়েছিলেন।
ওই কর্মকর্তা ২০১৯ সাল থেকেই পিঙ্কির বিষয়ে অনুসন্ধান করছিলেন। পুলিশের কাছে পিঙ্কি দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। লাহোর ও করাচি পুলিশ, সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগ এবং মাদকবিরোধী বাহিনীর কাছে তিনি ২৮টি মামলায় চাওয়া ব্যক্তি ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলায় মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও সহিংস অপরাধের অভিযোগ ছিল।

পুলিশের দাবি, পিঙ্কির ফ্ল্যাট থেকে মাদক প্যাকেট করার বিভিন্ন সামগ্রী, একই ধরনের সিল করা কৌটা, অন্যান্য মাদক এবং ১০টি গুলিসহ একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল উদ্ধার করা হয়। সবচেয়ে বড় উদ্ধার ছিল প্রায় ১ দশমিক ৫ কেজি কোকেন। পুলিশের হিসাবে এর মূল্য প্রায় ৩ কোটি পাকিস্তানি রুপি।
তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পিঙ্কির নিজের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। ১৭ মে করাচির কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরের জুডিশিয়াল কমপ্লেক্সে তাকে আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় তিনি চিৎকার করে দাবি করেন, তাকে লাহোর থেকে ধরে করাচিতে আনা হয়েছে এবং এর আগেই ২২ দিন ধরে তিনি আটক ছিলেন।
এই বক্তব্য দ্রুত গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এমনকি তার ফোন থেকে ৩২৬টি করাচিভিত্তিক ফোন নম্বরের একটি তালিকা ফাঁস হয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এতে ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, ব্যাংকার ও শিল্পোদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে জানানো হয়, ওই তালিকাটি ভুয়া।
এর মধ্যেই পিঙ্কি পাকিস্তানের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল আলোচিত চরিত্রে পরিণত হন। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল তাকে ‘কুইনপিন’ হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘কোকেন কুইন’ নামেও ডাকা হয়।
কীভাবে চলত মাদক সরবরাহ
পুলিশের তদন্তে পিঙ্কির মাদক ব্যবসার সঙ্গে লাহোরের একটি বড় যোগাযোগের কথা উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ১ হাজার ২৮৬টি যোগাযোগের মধ্যে ৭৮৫ জনই লাহোরে থাকতেন।

পাকিস্তানের লাহোর, ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে কোকেনের বাজার রয়েছে বলে একজন সাবেক মাদকবিরোধী কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে বিভিন্ন উপায়ে পাকিস্তানে কোকেন প্রবেশ করে। এর একটি অংশ বিমানে করে আসে। কিছু ক্ষেত্রে মানুষকে ব্যবহার করে শরীরের ভেতরে ক্যাপসুল বহন করানো হয়। আফ্রিকা থেকে আসা ব্যক্তিদের এ কাজে ব্যবহার করার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউরোপ থেকেও ছোট চালানে সাধারণ জিনিসপত্রের সঙ্গে মাদক লুকিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। সমুদ্রপথেও বড় চালান আসে। বাণিজ্যিক জাহাজের কনটেইনারের ভেতর বা কনটেইনারের কাঠামোর বিভিন্ন অংশে মাদক লুকিয়ে রাখা হয়।
পিঙ্কির মামলার নথি অনুযায়ী, তার সরবরাহকারীদের একজন ছিলেন নাইজেরিয়ার নাগরিক চিকি ওচুবা চিনউব্বা। বিদেশ থেকে আসা কোকেন প্রথমে শিয়ালকোটে পৌঁছাত, এরপর তা লাহোরে নেওয়া হতো।
তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, পিঙ্কি ওই কোকেনের সঙ্গে বিভিন্ন পদার্থ মিশিয়ে এর পরিমাণ বাড়াতেন। পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ‘গুগল আঙ্কেল’ নামে পরিচিত একজন তাকে মেশানোর পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন। তবে প্রতিবেদনে থাকা এসব বক্তব্য মামলার অভিযোগ ও তদন্তের অংশ হিসেবেই এসেছে।
একজন সাবেক মাদকবিরোধী কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তানে বিশুদ্ধ কোকেন খুবই বিরল। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন পদার্থ মিশিয়ে এর কার্যকারিতা বা অনুভূত শক্তি পরিবর্তন করা হয়। তার দাবি, এ ধরনের মিশ্রণের কারণে মৃত্যুও ঘটেছে।
হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার, পরে নির্দিষ্ট ঠিকানায় সরবরাহ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পিঙ্কির মাদক বিক্রির পদ্ধতি ছিল সংগঠিত। তার ভাই নাসির মাদক মেশানো ও প্যাকেট করার কাজে সহযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রাহকরা সরাসরি ‘ম্যাডাম’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তবে পরিচিত বা সুপারিশ ছাড়া নতুন কাউকে তিনি গ্রহণ করতেন না বলে তদন্তে উঠে এসেছে। যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা ও ভয়েস নোট।

অর্ডার পাওয়ার পর একজন হিসাবরক্ষকের ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠাতে বলা হতো। টাকা পাঠানোর প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট পাওয়ার পর গ্রাহকের অবস্থান একজন সরবরাহকারীর কাছে পাঠানো হতো। এরপর নির্দিষ্ট ঠিকানায় মাদক পৌঁছে দেওয়া হতো।
করাচিতে সরবরাহের জন্য পিঙ্কির নিয়োগ করা কয়েকজন ব্যক্তি বাসে করে মাদক নিয়ে যেতেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ছোট প্যাকেটে করে মাদক পোশাক ও লাগেজের মধ্যে লুকিয়ে নেওয়া হতো। বাসের কিছু কর্মীও এ কাজে সহযোগিতা করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহে প্রায় এক কেজি কোকেন করাচিতে পাঠানো হতো।
করাচিতে পৌঁছানোর পর পিঙ্কির আরেক ভাই শওকত সেই চালান গ্রহণ করতেন। এরপর মাদক নির্দিষ্ট পরিমাণে ভাগ করে কৌটায় ভরা, ব্র্যান্ডিং করা এবং তিনজন সরবরাহকারীর হাতে দেওয়া হতো। তারা আবার মোটরসাইকেলে করে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতেন।
টাকার লেনদেনও সরাসরি পিঙ্কির নামে হতো না। তদন্তে বলা হয়েছে, সোহেল ও জিশান নামে দুই ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হতো। মুহাম্মদ সামির চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে এটিএম ও অনলাইন লেনদেন পরিচালনা করতেন। একটি হিসাবে দেড় বছরের বেশি সময়ে প্রায় ২ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার পাকিস্তানি রুপির লেনদেন হয়। চারটি হিসাবে মোট প্রায় ৩ কোটি ২৭ লাখ রুপি থাকার কথাও তদন্তে উঠে এসেছে।
কারা ছিলেন গ্রাহক?
কোকেনকে তুলনামূলকভাবে উচ্চমূল্যের মাদক হিসেবে উল্লেখ করেছেন পুলিশের এক সাবেক তথ্যদাতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর নিয়মিত গ্রাহকদের মধ্যে এমন মানুষ ছিলেন যারা এর ব্যয় বহন করতে সক্ষম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের বয়স ১৪ থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত ছিল।
পিঙ্কির কয়েকজন কথিত গ্রাহকের অভিজ্ঞতাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের একজন জানান, প্রথমবার কোকেন নেওয়ার পর তার মনে হয়েছিল তিনি যেন পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান অবস্থায় আছেন।

আরেকজন গ্রাহক, ৩২ বছর বয়সী এক অন্তর্মুখী ব্যক্তি, দাবি করেন কোকেন নেওয়ার পর তার স্বাভাবিক লাজুক আচরণ বদলে যায়। তিনি অনেক বেশি কথা বলা ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন বলে তার বন্ধুরা জানান।
তবে এই প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয় না। একজন গ্রাহকের ভাষ্য অনুযায়ী, কোকেনের উত্তেজনা সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো স্থায়ী হওয়ার পর দ্রুত কমে যায়। এরপর সেই অনুভূতি আবার পাওয়ার জন্য অনেকে একই রাতে বারবার মাদক নিতে থাকেন।
২০১৯ সাল থেকেই পুলিশের নজরে
পিঙ্কির মাদক সরবরাহ ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত তাকে পুলিশের নজরে নিয়ে আসে। যে উপপরিদর্শক পরে তার গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখেন, তিনি ২০১৯ সালে করাচির ডিফেন্স এলাকায় দায়িত্ব পালন করার সময় প্রথম তার নাম জানতে পারেন।
তখন পুলিশের হাতে ছিল শুধু একটি ডাকনাম ও একটি ফোন নম্বর। ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ হওয়া নম্বরগুলো খতিয়ে দেখা হয়। এরপর এমন একজনকে শনাক্ত করা হয়, যার সঙ্গে যোগাযোগের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
পুলিশ তাকে মাদক কিনে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। বিনিময়ে তাকে দায়মুক্তির আশ্বাস দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি পুলিশের জন্য কোকেন কেনার বিষয়ে রাজি হন।

প্রথমবার সরবরাহের সময় একজন পুরুষ ও একজন নারী মোটরসাইকেলে এসে ধরা পড়েন। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। দ্বিতীয়বার একজন সরবরাহকারী পুলিশের কাছে মুখ খোলেন। তিনি জানান, রাত ৮টা থেকে ভোর ২টা পর্যন্ত কাজ করে মাসে ৭০ হাজার রুপি পেতেন। একটি প্যাকেটের ওজন ছিল প্রায় ১২ গ্রাম এবং মূল্য প্রায় ৩ লাখ রুপি।
পুলিশ তাকে আগের মতোই কাজ চালিয়ে যেতে বলে এবং গোপনে অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে সরবরাহের স্থান বদলে ল্যান্ডির একটি ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের দোকানের কাছে করা হয়। সেখানেই পিঙ্কির ভাই শওকতকে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশের দাবি, শওকত গ্রেপ্তার হওয়ার পর পিঙ্কি তার ভাইকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য দর-কষাকষি করেছিলেন। তার শেষ প্রস্তাব ছিল ৯ লাখ রুপি—শর্ত ছিল আগে ভাইকে ছেড়ে দিতে হবে, তারপর টাকা দেওয়া হবে। পুলিশ সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
এরপর পিঙ্কি সরবরাহের পদ্ধতি আরও বদলে ফেলেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা দাবি করেছেন। সরাসরি হাতে হাতে মাদক দেওয়া বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে, এমনকি এটিএমের ভেতরের বা আশপাশের ডাস্টবিনের নিচেও প্যাকেট রেখে যাওয়ার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘কুইনপিন’ নাকি মাঝারি পর্যায়ের খেলোয়াড়?
পিঙ্কিকে ঘিরে এত আলোচনা হলেও তাকে গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মনে করেন, গণমাধ্যমে তার প্রভাব বাস্তব ব্যবসার তুলনায় অনেক বেশি বড় হয়ে উঠেছিল।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, পিঙ্কি কোনো ‘ড্রাগ কিংপিন’ ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন মাঝারি পর্যায়ের একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার বড় কোনো বাড়ি ছিল না, ছিল না নিরাপত্তার জন্য ভয়ংকর কুকুরের বহরও। বাইরে থেকে তাকে সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করতে দেখা যেত।
তবে তার ব্যবসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—নাম ও পরিচিতি। ভালো পণ্যের কথা গ্রাহকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল, পুরোনো গ্রাহকরা ফিরে আসতেন এবং ধীরে ধীরে ‘পিঙ্কি’ নামটিই একটি পরিচিত ব্র্যান্ডে পরিণত হয়।
আনমল থেকে পিঙ্কি

পিঙ্কির আসল নাম আনমল। ১৯৯৫ সালে পাকিস্তানের গোয়াদরে জন্ম নেওয়া আনমল বড় হয়েছেন করাচিতে। অষ্টম শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে তিনি অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লাহোরে যান।
বেশ কয়েকটি অডিশনে ব্যর্থ হওয়ার পর তার পরিচয় হয় রানা নাসিরের সঙ্গে। পরে তাকে বিয়ে করেন। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, এরপর তিনি নাসিরের হয়ে মাদক পরিবহনের কাজে যুক্ত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার ব্যবসার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও উঠে আসেন।
প্রায় এক দশক পর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। কিন্তু ততদিনে নাসিরের অনেক পুরোনো গ্রাহকের সঙ্গে পিঙ্কির যোগাযোগ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে একটি নাম—পিঙ্কি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৈশোরেই আনমল নিজের জন্য ‘পিঙ্কি’ নামটি বেছে নিয়েছিলেন। মডেলিং ও অভিজাত পার্টির জগতে এই নাম ব্যবহার করতেন তিনি। পুলিশের এক কর্মকর্তা মনে করেন, নামটির মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ ছিল—যা তাকে অন্যদের তুলনায় সহজে মনে রাখার মতো করে তুলেছিল।

লাহোরে চলে যাওয়ার পরও তার পুরোনো গ্রাহকেরা তাকে খুঁজে বের করতেন।
তবে পিঙ্কিই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন—এমন দাবি করার মতো তথ্য প্রতিবেদনে নেই। বরং তদন্তে যুক্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, তার চেয়ে অনেক বড় খেলোয়াড় নীরবে আরও বড় পরিসরে কাজ করেন এবং আলোচনার বাইরে থাকেন।
পিঙ্কির ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। তার নামই হয়ে উঠেছিল তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। সেই নাম, মাদক ব্যবসার অভিযোগ এবং তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক আগ্রহ—সব মিলিয়ে আনমল ওরফে ‘ম্যাডাম পিঙ্কি’ পাকিস্তানের সবচেয়ে আলোচিত মাদক মামলাগুলোর একটি চরিত্রে পরিণত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে কয়েকজন ব্যক্তির নাম পরিবর্তন করে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।










