দেশে প্রথমবারের মতো দুই ডোজের মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা কর্মসূচির প্রথম ধাপে লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন। ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪০ জনের লক্ষ্যের বিপরীতে টিকা নিয়েছেন ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ১৮ জন। বাদ পড়েছেন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৪২২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে পিছিয়ে নারায়ণগঞ্জ
বাদ পড়া মানুষের বড় অংশই নারায়ণগঞ্জের। সেখানে ১০ লাখ ৩২ হাজার ৯৬৩ জনের মধ্যে টিকা পেয়েছেন ৬ লাখ ৭২ হাজার ২৮৭ জন। অর্থাৎ ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাদ পড়েছেন, যা মোট বাদ পড়াদের প্রায় ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাভারেজ ছিল ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ। কিশোরগঞ্জে ৯৪ দশমিক ৮ এবং মুন্সীগঞ্জে ৮০ দশমিক ৮ শতাংশ। ঢাকা উত্তর সিটিতে ৮২ দশমিক ৬ এবং দক্ষিণ সিটিতে ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন।
কেন লক্ষ্য পূরণ হয়নি
কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল ৯৫ শতাংশ। শিশুদের নিয়মিত টিকার বদলে এবার এক বছরের বেশি বয়সী সবাই লক্ষ্যের মধ্যে ছিলেন। কর্মজীবী অনেকে কাজের সময়ের কারণে টিকাকেন্দ্রে আসতে পারেননি। ঢাকায় সন্ধ্যায় বাড়তি সেশন চালিয়ে কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া গেলেও নারায়ণগঞ্জে তা সম্ভব হয়নি। সেখানে ছড়ানো-ছিটানো জনবসতি আর মানুষের ঘন ঘন যাতায়াতও বাধা হয়েছে। অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ বলেন, এটি প্রতিরোধমূলক টিকা। যতটুকু কাভারেজ হয়েছে, তা-ই জানানো হয়েছে।
চলছে দ্বিতীয় ডোজ
২২ আগস্ট শুরু হওয়া কর্মসূচিতে প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ শুরু হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর, চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। ঢাকার লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও থানা এলাকা এর আওতায় রয়েছে। ঢাকার বাইরে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও হোসেনপুর, মুন্সীগঞ্জ সদর এবং নারায়ণগঞ্জ সদর। অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গুরুতর অসুস্থরা এর বাইরে। টিকাটি বিনা মূল্যে দিয়েছে টিকা জোট গ্যাভি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইসিডিডিআর,বির যৌথ গবেষণায় দেশে ১৪৪টি কলেরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত হয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি এলাকা দিয়ে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। তবে বাকি এলাকায় কলেরার টিকা কবে পৌঁছাবে, তা নির্ভর করছে অর্থায়নের ওপর।












