দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪৮ জন রোগী। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই হিসাব দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৪৫ জনে।
কোথায় মৃত্যু
নতুন ছয় মৃত্যুর মধ্যে দুজন খুলনা বিভাগের। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। অর্থাৎ ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানীর রোগ নয়। দেশের প্রায় সব বিভাগেই মৃত্যুর খবর আসছে।
বছরের হিসাব
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন। সারা দেশের হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন আছেন প্রায় ৫ হাজার ৪৮৫ জন। সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৪২ জন, যা এ বছরের যেকোনো মাসের চেয়ে বেশি। প্রতিদিন দুই হাজারের কাছাকাছি নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। এর মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাবও চলছে। দুই রোগের রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে অনেক জেলা হাসপাতাল।
জ্বর হলে কী করবেন
চিকিৎসকেরা বলছেন, জ্বর হলে প্রথম দিনেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো ভালো। জ্বর কমে যাওয়ার পরের দুই-তিন দিন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময় পেটব্যথা, বারবার বমি, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া, অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে। প্রচুর পানি, ডাবের পানি, স্যালাইন ও তরল খাবার খেতে হবে। ব্যথানাশক হিসেবে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া যাবে না।
বৃষ্টির মৌসুম পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় এডিস মশার প্রজনন এখনো চলছে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, ফেলে রাখা পাত্র ও নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি সপ্তাহে অন্তত একবার ফেলে দেওয়া জরুরি। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে রোগী কমে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে এ বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে।












