প্যারিস ফ্যাশন উইকে নতুন চুলের সাজে হাজির হয়ে নজর কাড়লেন হলিউড অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স। ডিওরের ২০২৭ সালের বসন্তের ফ্যাশন শোতে তার নতুন ছোট ও হালকা ব্যাংস বা কপালের সামনের চুল নিয়ে শুরু হয়েছে ফ্যাশনপ্রেমীদের আলোচনা।
প্যারিসে ডিওরের শোতে জেনিফারকে দেখা যায় মধু-সোনালি রঙের লম্বা চুলে। চুলগুলো ছিল হালকা ঢেউ খেলানো, যা বুকের নিচ পর্যন্ত নেমে এসেছে। তবে পুরো সাজের সবচেয়ে নজরকাড়া অংশ ছিল তার নতুন ব্যাংস। ভ্রুর প্রায় এক ইঞ্চি ওপরে রাখা এই ব্যাংস আগের তুলনায় অনেক ছোট, হালকা ও আলাদা আলাদা গোছায় সাজানো।

চুলের এই নতুন সাজ তার মুখকে আরও খোলা ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। চুলের সাজে ছিলেন ম্যাথিউ সোসনোভস্কি। তিনি জানান, পোশাকের সঙ্গে মিল রেখেই চুলের ধরন ঠিক করা হয়েছিল। জেনিফার সেদিন হালকা নীল রঙের পোশাক পরেছিলেন। তাই চুলে রাখা হয় নরম ও স্বাভাবিক ঢেউ।
প্রথমে ভেজা চুলে ব্লো-ড্রাই করে নেওয়া হয়। এরপর হালকা ঢেউ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় হেয়ার আয়রন। সবশেষে টেক্সচার স্প্রে দিয়ে চুলে কিছুটা স্বাভাবিক, অগোছালো ভাব আনা হয়। চুলকে মুখের সৌন্দর্যের একটি ফ্রেম হিসেবে দেখেন সোসনোভস্কি। তার মতে, সামনের চুল বা ব্যাংস সেই ফ্রেমকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
জেনিফার লরেন্স অবশ্য নতুন ধরনের ব্যাংসের সঙ্গে একেবারেই অপরিচিত নন। কয়েক সপ্তাহ আগেই প্যারিসে এলভিএমএইচ পুরস্কার অনুষ্ঠানে তিনি ‘বাটারফ্লাই ব্যাংস’ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। সেই সাজে সামনের চুল মাঝখানে ছোট ও হালকা রাখা হয়েছিল এবং দুই পাশে তা গালের হাড়ের দিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে জেনিফারকে জেন বারকিন-অনুপ্রাণিত ব্যাংস, নরম কার্টেন ব্যাংস এবং ‘ইউ ব্যাংস’-এও দেখা গেছে। অর্থাৎ সামনের চুলের সাজ বদলে ফেলার ক্ষেত্রে অভিনেত্রী বেশ পরীক্ষামুখী।

তবে এবারের ব্যাংস আগের স্টাইলগুলোর চেয়ে কিছুটা আলাদা। নতুন চুলের গোছাগুলো বাকি চুলের সঙ্গে ধীরে ধীরে মিশে যায়নি। বরং কপালের ওপর আলাদা একটি স্তর তৈরি করেছে। চুলের প্রতিটি গোছার মধ্যে রাখা হয়েছে বেশ খানিকটা ফাঁক। এতে পুরো লুক আরও হালকা ও আধুনিক হয়েছে।
প্যারিস ফ্যাশন উইকের পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার দিক থেকেও এই ধরনের ব্যাংস বেশ কার্যকর হতে পারে। আর্দ্রতা ও অনিশ্চিত আবহাওয়ায় ভারী ব্যাংসের বদলে ছোট ও হালকা চুল তুলনামূলক সহজে সামলানো যায়।
এবারের লুকে জেনিফারের চুলের রঙেও পরিবর্তন দেখা গেছে। জুলাইয়ে তিনি কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে গাঢ় চেস্টনাট বাদামি রঙের চুলে হাজির হয়েছিলেন। তাতে ছিল হালকা সোনালি আভা। ডিওরের অনুষ্ঠানে তার চুলে সেই গাঢ় রঙের বদলে কিছুটা বাদামি-সোনালি মিশ্র রঙের আভা দেখা যায়।
শুধু জেনিফার নন, শরতের জন্য ছোট ব্যাংসের দিকে ঝুঁকছেন আরও অনেক তারকা। অভিনেত্রী ডাকোটা জনসনকেও সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক ছোট ব্যাংসে দেখা যাচ্ছে। তার ব্যাংস অবশ্য জেনিফারের চেয়ে বেশি ঘন ও ভারী।
চুলের বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে ‘ডিসকানেক্টেড ব্যাংস’ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এই ধরনের ব্যাংস তুলনামূলক ছোট, পাতলা ও আলাদা আলাদা গোছায় থাকে। ভ্রুর একটু ওপরে রাখলে এটি মুখকে আরও খোলা দেখায় এবং পুরো চেহারায় নরম ভাব আনে।

ডিওরের অনুষ্ঠানে জেনিফারের পুরো সাজেও ছিল স্বাভাবিক সৌন্দর্যের ছাপ। তার ত্বকে ছিল উজ্জ্বল সোনালি আভা এবং ঠোঁটে গোলাপের পাপড়ির মতো হালকা গোলাপি রং। চোখের সাজ ছিল তুলনামূলক সরল।
পোশাকেও ছিল ডিওরের ছোঁয়া। হালকা নীল রঙের সূচিকর্ম করা লেসের স্লিপ ড্রেসে তাকে দেখা যায়। পোশাকটি কোমরের নিচে কিছুটা গুচ্ছানো এবং নরমভাবে ঝুলে থাকা কাটে তৈরি। এর সঙ্গে ছিল একই রঙের ব্যাগ ও ফিতাযুক্ত জুতা। নখে ছিল হালকা গোলাপি রং, আর পায়ের নখে গাঢ় বারগান্ডি রং এনে শরতের আবহ যোগ করা হয়েছিল।
ডিওরের বসন্ত ২০২৭ শোর সামগ্রিক সৌন্দর্যধারাতেও ছিল স্বাভাবিক ও কিছুটা অগোছালো ভাব। মডেলদের চুলে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো স্বাভাবিক টেক্সচার এবং ত্বকে উজ্জ্বল সাজ দেখা গেছে। জেনিফার সেই প্রবণতাকেই নিজের মতো করে আরও নরমভাবে তুলে ধরেছেন।
জেনিফার লরেন্সের নতুন লুক থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—শরতের জন্য চুলের সাজ বদলাতে সবসময় লম্বা চুল কেটে ছোট করার প্রয়োজন নেই। অনেক সময় শুধু ব্যাংস এক ইঞ্চি ছোট করেই পুরো চেহারায় নতুন আবহ তৈরি করা যায়।












