এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটে সোনা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে সহজ জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
একপর্যায়ে পাকিস্তানের জয়ের জন্য শেষ চার ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৬ রান। হাতে ছিল চার উইকেট। তখনও ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের দ্বিতীয় ওভারেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়।

ওই ওভারে ২৩ রান দেন বাঁহাতি এই পেসার। ওভারটিতে আসে পাঁচটি বাউন্ডারি। ফলে শেষ তিন ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন নেমে আসে মাত্র ১৩ রানে। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন আবদুল সামাদ। তিনি ১৫ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন। হাসান নওয়াজ ২২ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাদের ব্যাটে ভর করে অনায়াসে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
এর আগে বল হাতে দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। মাত্র দুই ওভারে পাকিস্তানের দুই উইকেট তুলে নিয়ে তাদের স্কোর ১৭ রানে নিয়ে আসে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান সাজঘরে ফেরান সাহিবজাদা ফারহানকে। এরপর নাসুম আহমেদ আউট করেন মাজ সাদাকাতকে।
সাইম আইয়ুব ১২ বলে ২১ রান করে পাকিস্তানের ইনিংসে গতি আনার চেষ্টা করেন। তবে নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে তাকে ক্যাচে পরিণত করেন মুস্তাফিজুর। শেষ পর্যন্ত ২ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন ও মেহেদী হাসানও একটি করে উইকেট পান।

এর আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন তাওহীদ হৃদয়। ২৫ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে চারটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন তিনি। দল ২১ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ব্যাট করতে নেমে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন হৃদয়।
সাইফ হাসান ১৭ বলে ১৯ রান করেন। মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। মেহেদী হাসান ৪ বলে ৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান মুকিম ২৬ রানে তিনটি উইকেট নেন।
এই হারের ফলে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনার পদকের আশা শেষ হলো। এখন ব্রোঞ্জ পদকের জন্য খেলতে হবে তাদের। বৃহস্পতিবার ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে যে দল হারবে, রোববার সেই দলের বিপক্ষে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ।











