মানুষের ভেতরের আকাঙ্ক্ষা, ক্রোধ, লোভ, মোহ, অহংকার ও ঈর্ষা কীভাবে ব্যক্তিজীবন, সম্পর্ক এবং প্রকৃতির ওপর প্রভাব ফেলে—সেই ভাবনাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় শুরু হয়েছে শিল্পী ড. আবু কালাম শামসুদ্দীনের একক চিত্রপ্রদর্শনী ‘দ্য সং অব অ্যাগনি: আরিশদ্বর্গ’।
শুক্রবার ধানমন্ডির মিরপুর রোডে অবস্থিত অ্যালায়েন্স ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে প্রদর্শনীটির উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ভিজ্যুয়াল শিল্পী ও আর্ট বাংলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর তালুকদার এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বজুর রশীদ খান।
ছয় প্রবৃত্তির দৃশ্যরূপ
ভারতীয় দর্শনের ‘আরিশদ্বর্গ’ বা ‘ষড়রিপু’ ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনীটি। এখানে কাম বা অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষা, ক্রোধ, লোভ, মোহ বা আসক্তি, মদ বা অহংকার এবং মাত্সর্য বা ঈর্ষাকে মানুষের অন্তর্গত ছয় প্রবল প্রবৃত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
চিত্রকর্মগুলোর মাধ্যমে শিল্পী দেখিয়েছেন, এসব প্রবৃত্তি কীভাবে মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করে এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর ছাপ ফেলে। একই সঙ্গে তিনি এসব মানবিক প্রবণতার বৃহত্তর প্রভাবকে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

মানবিক লোভে প্রকৃতির ক্ষয়
প্রদর্শনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মানুষের লাগামহীন আকাঙ্ক্ষা ও আত্মকেন্দ্রিক আচরণের সঙ্গে পরিবেশের অবক্ষয়ের সম্পর্ক। বন উজাড়, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হওয়া এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার মতো বিষয়গুলো শিল্পীর চিত্রকর্মে প্রতিফলিত হয়েছে।
শিল্পী ড. আবু কালাম শামসুদ্দীন বলেন, একজন শিল্পী হিসেবে পরিবেশ ও বিশ্বের প্রতি তাঁরও দায়িত্ব রয়েছে। তাঁর মতে, মানুষের আকাঙ্ক্ষা, আচরণ এবং প্রাকৃতিক জগতের মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তা উপলব্ধি করা জরুরি।
শিল্প ও উপকরণে নতুন পরীক্ষা
প্রদর্শনীতে বিষয়বস্তুর পাশাপাশি চিত্রাঙ্কনের কৌশল ও উপকরণ নিয়েও শিল্পীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রকাশ ঘটেছে। অজন্তার গুহাচিত্র এবং থাংকা শিল্পধারা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি বালি, মাটি, জিংক অক্সাইড ও অ্যাক্রিলিক রঙ ব্যবহার করেছেন। এসব উপকরণের স্তর ও পৃষ্ঠের বৈচিত্র্য চিত্রকর্মগুলোতে আলাদা দৃশ্যমান ও স্পর্শনির্ভর বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে।
বাদামি, মৃদু নীল, হলুদ-সবুজ এবং সোনালি রঙের প্রাধান্য রয়েছে কাজগুলোতে। অসমমিত বিন্যাস ও স্তরযুক্ত পৃষ্ঠের মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্ব ও দর্শনের নানা ধারণাকে দৃশ্যমান করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রদর্শনীর ভাবনায় সোনালি রঙকে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ও আত্মসচেতনতার সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে।
প্রদর্শনীটি আগামী ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। লা গ্যালারি, অ্যালায়েন্স ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা, ২৬ মিরপুর রোড, ধানমন্ডিতে এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।












