ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণে বহুল ব্যবহৃত একটি সাপ্লিমেন্ট নিয়ে নতুন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা বলছে, ভিটামিন ডি২ গ্রহণ করলে শরীরে ভিটামিন ডি৩-এর মাত্রা কমে যেতে পারে। সূর্যের আলোতে ত্বকে স্বাভাবিকভাবে যে ভিটামিন ডি তৈরি হয়, সেটিই মূলত ডি৩।
ভিটামিন ডি২ ও ডি৩—দুটিকেই এতদিন অনেকটা একই ধরনের সম্পূরক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে সাম্প্রতিক প্রমাণ বলছে, রক্তে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা বাড়ানো এবং তা দীর্ঘসময় ধরে রাখার ক্ষেত্রে ডি৩ সাধারণত ডি২-এর চেয়ে বেশি কার্যকর।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ডি৩ রক্তে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা তুলনামূলক বেশি বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘসময় ধরে রাখতে পারে।
শরীরে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয়। পাশাপাশি পেশি, স্নায়ু ও রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমেও এর ভূমিকা রয়েছে।
২০২৫ সালে Nutrition Reviews জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ভিটামিন ডি২ ও ডি৩ নিয়ে ২০টি গবেষণার তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ১১টি গবেষণার তথ্য মূল বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে দেখা যায়, ভিটামিন ডি২ গ্রহণকারীদের রক্তে ২৫-হাইড্রক্সিভিটামিন ডি৩-এর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
গবেষণার বিভিন্ন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই কমার পরিমাণ গড়ে প্রতি লিটারে প্রায় ৯ থেকে ১৮ ন্যানোমোল। তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে ভিটামিন ডি২ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ডি২ নিজেও শরীরে ভিটামিন ডি-এর অন্য একটি রূপের মাত্রা বাড়ায় এবং সামগ্রিক ভিটামিন ডি পরিস্থিতিতে অবদান রাখতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব সারে-র গবেষক এমিলি ব্রাউন বলেন, এসব ফলাফল থেকে ধারণা করা যায়, ব্যক্তির পরিস্থিতি বিবেচনায় অধিকাংশ মানুষের জন্য ভিটামিন ডি৩ তুলনামূলক বেশি উপকারী হতে পারে।
তবে ডি২ গ্রহণের পর শরীরে ডি৩-এর মাত্রা কেন কমে যায়, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গবেষকদের একটি ধারণা হলো, শরীরে ভিটামিন ডি-এর একটি যৌগের মাত্রা বাড়লে অন্য যৌগগুলো ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়াও দ্রুত হতে পারে।
ভিটামিন ডি২ ও ডি৩ রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থার ওপর ভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে—এমন ইঙ্গিতও আগের কিছু গবেষণায় পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা গেছে, ডি৩ শরীরে টাইপ-১ ইন্টারফেরন সংকেতের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু কার্যক্রম বাড়াতে পারে। সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থায় এই প্রক্রিয়ার ভূমিকা রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভিটামিন ডি৩ গ্রহণ করলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়—এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
২০২৬ সালের আরেকটি পর্যালোচনায় ২৬টি র্যান্ডমাইজড ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ডি২-এরও শরীরে উল্লেখযোগ্য জৈবিক প্রভাব রয়েছে। এটি প্যারাথাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কমাতে পারে এবং রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা সামান্য বাড়াতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, ডি২ ও ডি৩-এর পার্থক্য দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই শুধু এই ফলাফলের ভিত্তিতে কেউ নিজে থেকে ভিটামিন ডি-এর ধরন বা মাত্রা পরিবর্তন না করে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রমাণে অন্তত এটুকু স্পষ্ট হচ্ছে যে ভিটামিন ডি২ ও ডি৩ পুরোপুরি একই নয়। রক্তে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা বাড়ানো এবং তা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ডি৩ তুলনামূলক বেশি কার্যকর হতে পারে।












