পূজা মানেই লাল-সাদা শাড়ি, এই ধারণা এখনো টিকে আছে। তবে এবারের পূজার পোশাকে দেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো আরও কিছু রং আর কাট যোগ করেছে। শাড়ির পাশাপাশি জায়গা পাচ্ছে আনারকলি, কুর্তা, শ্রাগ আর হালকা কাপড়ের নানা নকশা। ঐতিহ্য ধরে রেখে আরামকে গুরুত্ব দেওয়াই এবারের মূল সুর।
মেরুন আর সোনালির ছোঁয়া
ফ্যাশন হাউস লং-এর কর্ণধার তাজিয়া তানি এবারের পূজার সংগ্রহ সাজিয়েছেন মেরুন, সোনালি, লাল ও সাদা রঙে। প্রতিটি নকশার ধরন বুঝে কাপড় বেছেছেন তিনি, যেমন সুতি, সিনথেটিক আর আধা মসলিনের মতো কাপড়। তাঁর ভাষায়, সংগ্রহটি যেন খুব বেশি প্রথাগত না হয়, আবার ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্নও না লাগে। পূজার আমেজ রেখে পোশাককে আধুনিক আর সহজে পরার মতো করাই ছিল লক্ষ্য।
জামদানি আর চওড়া জরির পাড়
যাঁরা শাড়িতেই থাকতে চান, তাঁদের জন্য বিজেএনএস এনেছে জামদানি মোটিফ আর চওড়া জরির পাড়ের পূজার শাড়ি। অষ্টমীর অঞ্জলি বা নবমীর সন্ধ্যার মতো দিনে এমন শাড়িতে উৎসবের জমকালো ভাবটা থাকে। লাল-সাদা ক্লাসিক শাড়ির আবেদনও কমেনি। প্রথাগত পূজার সাজে এখনো সেটিই প্রথম পছন্দ অনেকের।
পরিবারের সবার জন্য এক জায়গায়
লা রিভ তাদের পূজা সংগ্রহে উৎসবের প্রথাগত পোশাকের সঙ্গে শরতের রং ও প্রিন্ট মিলিয়েছে। নারীদের জন্য আছে কাফতান কাটের শ্রাগ, টিউনিকের সঙ্গে শ্রাগ, নকশা করা ও সোজা কাটের সালোয়ার-কামিজ আর একক কুর্তা। শাড়ির মধ্যে আছে মসলিন, কাতান ও হাফসিল্কে এমব্রয়ডারি, প্যাচওয়ার্ক আর হাতের কাজ। পুরুষদের জন্য রয়েছে বাঁশের তন্তুর সুতি ও জ্যাকার্ড কাপড়ের পাঞ্জাবি। শিশু-কিশোরদের পোশাক, ব্যাগ, জুতা আর ঘর সাজানোর পণ্যও আছে সংগ্রহে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহীসহ বিভিন্ন শহরের দোকানে ও অনলাইনে মিলছে এসব পোশাক।
আড়ংও ‘পূজা ২৬’ নামে আলাদা সংগ্রহ এনেছে। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুদের পোশাকের পাশাপাশি পূজার উপহারসামগ্রীও রাখা হয়েছে। ফলে পরিবারের সবার পোশাক আর আত্মীয়দের উপহার এক জায়গা থেকেই কেনার সুযোগ থাকছে।
কেনার আগে যা মাথায় রাখবেন
অক্টোবরে দিনের বেলা এখনো গরম আর আর্দ্রতা বেশি। তাই দিনের মণ্ডপ ঘোরার জন্য সুতি বা হালকা কাপড় বেছে নেওয়াই ভালো। কাতান, সিল্ক বা ভারী জরির কাজ রাখুন সন্ধ্যার অনুষ্ঠান আর অঞ্জলির জন্য। পূজার আগের শেষ সপ্তাহে বিপণিবিতানে ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে। ভিড় এড়াতে চাইলে এখনই কেনাকাটা সেরে ফেলুন, অথবা অনলাইনে আগেভাগে অর্ডার দিন। দর্জির কাছে ব্লাউজ বা পাঞ্জাবি বানাতে দিলে হাতে অন্তত কয়েক দিন সময় রাখুন।












