ব্রডওয়ের জনপ্রিয় মঞ্চনাটক ‘ওহ, মেরি!’-তে মেরি টড লিংকনের চরিত্রে অভিনয় করে নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন অভিনেতা, লেখক ও পডকাস্ট উপস্থাপক বাওয়েন ইয়াং। তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনে এটি ব্রডওয়েতে অভিষেক। এবার এই ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চাইছেন, কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী চের যেন একদিন নাটকটি দেখতে থিয়েটারে আসেন।
নাট্যকার কোল এসকোলার লেখা ‘ওহ, মেরি!’ ব্রডওয়েতে মঞ্চস্থ হওয়ার আগেই নাটকটি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল সাময়িকী ভোগ। এবার নাটকটির মেরি চরিত্রে অভিনয় করছেন বাওয়েন ইয়াং। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’-এর লেখক ও অভিনয়শিল্পী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি পডকাস্ট উপস্থাপক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
ভোগের পডকাস্ট ‘দ্য রান-থ্রু’-তে এক আলোচনায় ইয়াং জানিয়েছেন, সপ্তাহে আটটি প্রদর্শনীতে অভিনয় করা তাঁর জন্য নতুন ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার মতো। নিউইয়র্কের লাইসিয়াম থিয়েটারে নিয়মিত মঞ্চে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝিয়েছে, ব্রডওয়ের অভিনয়শিল্পীদের কাজ কতটা পরিশ্রমসাধ্য।
ইয়াং বলেন, আগে কেউ যখন ব্রডওয়ের অভিনয়শিল্পীদের ক্রীড়াবিদের সঙ্গে তুলনা করতেন, তখন তিনি সম্মতিসূচক মাথা নাড়তেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁর কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু এখন নিজে নিয়মিত অভিনয় করতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারছেন, এই তুলনা কতটা যথার্থ।
দীর্ঘ সময় ধরে অভিনয়ের শক্তি ধরে রাখতে তাঁর ভরসা নির্দিষ্ট স্বাদের এনার্জি ড্রিংক এবং ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাপদ্ধতি। বিশেষ করে ফুজি আপেল স্বাদের সেলসিয়াস এনার্জি ড্রিংকের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
মেরি চরিত্রের সঙ্গে নিজের মিল কোথায়?
মেরি টড লিংকনের চরিত্রের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের মিল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইয়াং তুলে ধরেছেন এক বিচিত্র দ্বৈততার কথা। তাঁর মতে, এই চরিত্রের মধ্যে যেমন সমাজের চোখে ভুল বোঝা ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তেমনি রয়েছে অস্বাভাবিক ও বিপজ্জনক আচরণের দিকও।
এ প্রসঙ্গে তিনি ভৌতিক চরিত্র পেনিওয়াইজ ও হাস্যরসাত্মক ক্লাউন বোজোর উদাহরণ দেন। ইয়াংয়ের ভাষায়, মেরি চরিত্রের মধ্যে এমন এক বৈপরীত্য রয়েছে, যা একই সঙ্গে হাস্যকর, অদ্ভুত এবং অস্বস্তিকর।
নিজেকে খুনে বা বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে দেখেন না ইয়াং। তবে তাঁর মধ্যে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা ও দুষ্টুমিপূর্ণ স্বভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সমাজের কিছু প্রচলিত নিয়মকানুন মানুষকে যেভাবে বিচ্ছিন্ন বোধ করায়, সেই অনুভূতির সঙ্গেও নিজের মিল খুঁজে পান এই অভিনেতা।
নাটক দেখতে কাকে চান ইয়াং?
এ পর্যন্ত নাটকটি দেখতে আসা অতিথিদের মধ্যে পাকিস্তানের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের উপস্থিতি ইয়াংয়ের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা, একদিন যেন সংগীতশিল্পী চেরও নাটকটি দেখতে আসেন।
ইয়াংয়ের বিশ্বাস, নাটকটির ব্যতিক্রমী হাস্যরস ও অদ্ভুত উপস্থাপনা চেরের ভালো লাগবে। তাঁর মন্তব্যে উঠে এসেছে চেরের তারকাখ্যাতি ও নাটকটির প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী রসিকতার প্রতি ইঙ্গিত।
মেরি চরিত্রে ভবিষ্যতে আর কাদের অভিনয় করা উচিত, সে বিষয়েও নিজের পছন্দ জানিয়েছেন ইয়াং। তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছেন কেকে পামার ও লিসা রিনা। ফলে নাটকটির এই আলোচিত চরিত্রে ভবিষ্যতে নতুন কোনো অভিনয়শিল্পী আসেন কি না, তা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ থাকছেই।
ব্রডওয়েতে নতুন অধ্যায় শুরু করে ইয়াং একদিকে যেমন কঠোর অভিনয়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনি নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শকদের আনন্দ দিতে চাইছেন। আর তাঁর সেই প্রত্যাশার তালিকায় রয়েছে একটি বিশেষ ইচ্ছা—একদিন দর্শকসারিতে বসে চেরও উপভোগ করবেন ‘ওহ, মেরি!’।












