ঐতিহ্যবাহী মধ্য-শরৎ উৎসবকে কেন্দ্র করে সংগীত, নৃত্য ও মঞ্চনাটকের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরেছেন চীনের মূল ভূখণ্ড ও তাইওয়ান অঞ্চলের শিল্পীরা। জনপ্রিয় গান, ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা এবং সমকালীন সৃজনশীল পরিবেশনায় তাইওয়ান প্রণালির দুই পাশের মানুষের অভিন্ন সাংস্কৃতিক স্মৃতি ও আবেগের বন্ধন ফুটে ওঠে।
চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ বিশেষ কনসার্টে প্রণালির দুই পাশ থেকে ৪০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী যুক্ত হন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সিএমজির বৈচিত্র্যবিষয়ক টেলিভিশন চ্যানেল, বেতার কেন্দ্র এবং একাধিক ডিজিটাল মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়।
ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলায় তুনহুয়াংয়ের সৌন্দর্য
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ব্যালে নৃত্য ‘তুনহুয়াং ফ্লাইং অ্যাপসারাস’। প্রাচীন তুনহুয়াংয়ের দেয়ালচিত্র থেকে অনুপ্রাণিত এ পরিবেশনায় নৃত্যশিল্পীরা চীনের সমৃদ্ধ শিল্পঐতিহ্য তুলে ধরেন।
পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে তাঁদের সুশৃঙ্খল ও গতিময় নৃত্যভঙ্গিতে হাজার বছরের পুরোনো দেয়ালচিত্রের প্রবহমান রেখা এবং শৈল্পিক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। ঐতিহ্যবাহী চিত্রকলার সঙ্গে আধুনিক মঞ্চপরিবেশনার সমন্বয় দর্শকদের সামনে চীনের প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি নান্দনিক রূপ তুলে ধরে।
চিঠিতে ফুটে ওঠে প্রজন্মের আবেগ
কনসার্টে মঞ্চস্থ হয় ‘টি থটস ইন মুনলাইট’ নামের নাটক। তাইওয়ান প্রণালির দুই পাশের পরিবারের মধ্যে আদান-প্রদান করা চিঠিকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ পরিবেশনায় বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও পরস্পরের প্রতি আকুলতা তুলে ধরা হয়।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগের গল্পে ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি দুই অঞ্চলের মানুষের সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে। এর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পারিবারিক স্মৃতির মধ্য দিয়ে মানুষের পারস্পরিক সংযোগের দিকটি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।
চার অঞ্চলের শিল্পীদের সম্মিলিত সংগীত
অনুষ্ঠানে চীনের মূল ভূখণ্ড, তাইওয়ান, হংকং ও ম্যাকাওয়ের চার তরুণ সংগীতশিল্পী একসঙ্গে পরিবেশন করেন ‘অটাম রিফ্লেকশন্স’। বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসংগীত ও ধ্রুপদি সুরের সমন্বয়ে সাজানো এ পরিবেশনায় তরুণ প্রজন্মের পারস্পরিক বোঝাপড়া, ঘনিষ্ঠতা এবং অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়।
এ ছাড়া অনলাইন গায়ক ও গীতিকার ওয়াং পো তাঁর মৌলিক পপ গান ‘হ্যাপি পনি’ পরিবেশন করেন। প্রাণবন্ত সুরের এ গান তরুণদের আত্মবিশ্বাস ও সাহসের সঙ্গে জীবনকে গ্রহণ করার বার্তা দেয়।
সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ঘনিষ্ঠতার প্রয়াস
আয়োজকদের উদ্যোগে কনসার্টটি প্রচলিত সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার গণ্ডি ছাড়িয়ে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি বিশেষ আয়োজনে পরিণত হয়। ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা, পারিবারিক আবেগ, লোকসংগীত এবং আধুনিক পপসংগীতের সমন্বয়ে এতে বিভিন্ন প্রজন্মের দর্শকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।
অনুষ্ঠানের সামগ্রিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাইওয়ান প্রণালির দুই পাশের মানুষের সাংস্কৃতিক নৈকট্য তুলে ধরা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।












