দেশের ওটিটি ও ডিজিটাল কনটেন্টের সেরাদের সম্মান জানাতে পঞ্চমবারের মতো বসেছিল ব্লেন্ডার্স চয়েস ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডসের আসর। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই আয়োজন হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মুক্তি পাওয়া কাজ থেকে ২৮টি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়। এবারের ওটিটি পুরস্কারে সবচেয়ে উজ্জ্বল নুহাশ হুমায়ূনের ‘দুই শ’।
সমালোচকদের বিচারে ‘দুই শ’
সমালোচকদের বিচারে ‘দুই শ’ একাই জিতেছে নয়টি পুরস্কার। সেরা অভিনেতা হয়েছেন মোশাররফ করিম। সেরা পরিচালক ও সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার নিয়েছেন নুহাশ হুমায়ূন। মঞ্চে তার পাশে ছিলেন মা গুলতেকিন খান। নুহাশ পুরস্কার মা ও পুরো দলকে উৎসর্গ করেন। মোশাররফ করিমের হয়ে পুরস্কার নিয়ে তাকে দেশের সম্পদ বলে উল্লেখ করেন তিনি। চিত্রগ্রহণ, রূপসজ্জা, সম্পাদনা, শিল্প নির্দেশনা, পোশাক ও শব্দ পরিকল্পনার পুরস্কারও গেছে এই সিরিজের ঝুলিতে। সমালোচকদের বিচারে সেরা অভিনেত্রী তমা মির্জা, ‘আমলনামা’র জন্য। চরকির ‘ফেউ’ পেয়েছে সেরা কাজের পুরস্কার।
দর্শকের ভোটে নিশো ও মেহজাবীন
দর্শকের ভোটে সেরা অভিনেতা আফরান নিশো, ‘একেএ’-এর জন্য। সেরা অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী, ‘নীল সুখ’-এর জন্য। মেহজাবীন পুরস্কার উৎসর্গ করেন নির্মাতা ভিকি জাহেদকে। বড় পর্দায় দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাবে কি না, এমন প্রশ্নে রহস্য রেখে বলেন, কিছু একটা তৈরি হচ্ছে। নিশো পুরস্কার উৎসর্গ করেন প্রয়াত অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিকে, যাকে তিনি গুরু মানেন। ‘একেএ’-এর জন্য সেরা পরিচালক (নাটক বা সিরিজ) হয়েছেন ভিকি জাহেদ। ‘আমলনামা’র জন্য সেরা চলচ্চিত্র পরিচালক রায়হান রাফী দর্শকদের হলে গিয়ে দেশি সিনেমা দেখার অনুরোধ জানান।
আরও যারা পুরস্কার পেলেন
সেরা পার্শ্ব অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক, ‘অমীমাংসিত’র জন্য। সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী রুনা খান, হইচইয়ের ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’র জন্য। এই সিরিজটিই পেয়েছে সেরা নাটক বা সিরিজের পুরস্কার। চরকির ‘ঘুমপরী’ সেরা চলচ্চিত্র, আর দর্শকের পছন্দের পুরস্কার পেয়েছে ‘দাগি’। ‘ঘুমপরী’র গান ‘প্রেমেরই জখম’ জিতেছে তিনটি পুরস্কার: গীতিকার জাহিদ প্রীতম, শিল্পী মাহতিম সাকিব ও শিথি সাহা এবং সুরকার জাহিদ নিরব। কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে দর্শকের ভোটে সেরা সুনেহরা তাসনিম, সমালোচকদের বিচারে সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময়।
আয়োজনের স্বাগত বক্তব্যে ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি বলেন, এত ভালো কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে যে বিজয়ী বাছাই দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এবারের ওটিটি পুরস্কার দেখিয়ে দিল, চরকি আর হইচইয়ের মতো প্ল্যাটফর্মে দেশের গল্প বলার মান কোথায় পৌঁছেছে।












