ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের মাঠে হামজা চৌধুরী লাল কার্ড দেখেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডার ফাউলের দায়ে প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়েন। বুধবার রাতে ফ্র্যাটন পার্কে তাঁর দল শেফিল্ড ইউনাইটেড ৩-২ গোলে হেরেছে। প্রথমার্ধেই দশজনের দলে পরিণত হয় শেফিল্ড। তারপরও দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে সমতা ফিরিয়েছিল তারা। কিন্তু ৮৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা এবু অ্যাডামসের গোলে শেষ হাসি হাসে পোর্টসমাউথ। দশজন নিয়ে এমন লড়াই দলের মনোবলের প্রমাণ দিলেও শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট মেলেনি।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় পোর্টসমাউথ। এর কয়েক মিনিট পরেই আসে শেফিল্ডের জন্য বড় ধাক্কা। স্বাগতিক দলের রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউল করে আগেই একবার হলুদ কার্ড দেখেছিলেন হামজা। একই খেলোয়াড়কে আবার ফাউলের দায়ে রেফারি তাঁকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। ফলে হামজা চৌধুরী লাল কার্ড নিয়ে মাঠ ছাড়েন বিরতির আগেই। পরে পোর্টসমাউথ ব্যবধান দ্বিগুণ করে। দশজনের দলের বিপক্ষে তখন ম্যাচ পুরোপুরি স্বাগতিকদের নিয়ন্ত্রণে বলে মনে হচ্ছিল।
দশজন নিয়েও লড়াই ছাড়েনি শেফিল্ড। দুই গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরে তারা। তখন মনে হচ্ছিল অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়বে দলটি। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে দশজনের দলের এমন প্রত্যাবর্তন সহজ ছিল না। কিন্তু শেষ মিনিটের আগে অ্যাডামসের গোল সব হিসাব বদলে দেয়। শেফিল্ডের জন্য এটি ছিল হতাশার রাত। কোচের চোখে একটি সিদ্ধান্তই ম্যাচের গতি ঘুরিয়ে দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন শেফিল্ডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। তিনি বলেন, দ্বিতীয় ফাউলের সময় হামজার সরে যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না। ওয়াইল্ডারের দাবি, রেফারি প্রথমে হামজাকে বলেছিলেন তাঁকে মাঠ থেকে বের করা হচ্ছে না। পরে সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। জার্সি টানার মতো ঘটনায় রেফারিরা কীভাবে মাপকাঠি ঠিক করেন, সেটা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, এই ম্যাচে তাঁর দল কিছুটা অবিচারের শিকার হয়েছে। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় স্তরের এই লিগে প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শেষ মুহূর্তে পয়েন্ট হারানোর আক্ষেপ দলটির জন্য আরও বড়।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে হামজা এখন বড় তারকা। জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার পর থেকে ইংল্যান্ডে তাঁর প্রতিটি ম্যাচের দিকে নজর রাখেন দেশের ভক্তরা। ক্লাবের হয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ তাঁর ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হামজা চৌধুরী লাল কার্ড দেখায় সামনের ম্যাচে তাঁর খেলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইংলিশ ফুটবলের নিয়মে দুই হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখলে সাধারণত পরের এক ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকতে হয়। ফলে শেফিল্ডের পরের লিগ ম্যাচে তাঁকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। মাঝমাঠে তাঁর লড়াকু খেলা আর বল কেড়ে নেওয়ার দক্ষতার জন্যই তিনি পরিচিত। তবে এই আগ্রাসী ধরনই মাঝে মাঝে তাঁকে কার্ডের ঝুঁকিতে ফেলে। দেশের ভক্তরা চাইবেন, দ্রুত এই ধাক্কা কাটিয়ে আবার মাঠে ফিরুন তিনি। লাল কার্ডের ঘটনাটি তাই দেশের সমর্থকদের কাছেও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতীয় দলের সামনের ম্যাচগুলোর আগে ক্লাবে তাঁর নিয়মিত খেলা তাই দেশের ফুটবলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।












