চীনের পাহাড়, বন আর বরফঢাকা চূড়ায় এখন প্রকৃতি মেতেছে রঙের উৎসবে। কোথাও লাল-কমলা-সোনালি পাতায় সেজেছে পাহাড়ের ঢাল, কোথাও আবার বরফাবৃত চূড়ায় সূর্যের প্রথম আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে সোনালি আভা। প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে দেশটির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। ব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে দূরে এসব জায়গায় তাঁরা খুঁজে পাচ্ছেন প্রশান্তির মুহূর্ত।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ছিংহাই প্রদেশের খানবুলা ইউনেস্কো গ্লোবাল জিওপার্কে এখন শরতের সৌন্দর্য বিশেষভাবে চোখে পড়ছে। মিষ্টি রোদে লাল, কমলা ও সোনালি রঙে সেজেছে বিস্তীর্ণ বনভূমি। কোটি কোটি বছর ধরে গড়ে ওঠা লাল তানসিয়া পাহাড়ের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে হলুদ নদীর পান্না-সবুজ পানি। পাহাড় ও নদীর এই বৈচিত্র্যময় দৃশ্য পার্কটিকে করে তুলেছে আরও আকর্ষণীয়।

ছুটির পর খানবুলায় পর্যটকদের ভিড়
চীনের জাতীয় দিবসের ছুটিতে সাধারণত বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ব্যাপক ভিড় হয়। তবে সেই ব্যস্ত সময় পেরিয়ে এখন খানবুলায় আসছেন অনেক পর্যটক। তাঁদের কাছে এই সময়ের আকর্ষণ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, বরং তুলনামূলক কম খরচে এবং স্বস্তিতে ভ্রমণের সুযোগও।
পর্যটক ওয়াং চি জানান, ছুটির পর ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিমানভাড়া ও হোটেলের খরচ দুটোই তুলনামূলক কম পেয়েছেন তিনি। পর্যটকের চাপ কম থাকায় ধীরে-সুস্থে খানবুলার শরতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন।
আরেক পর্যটক চাং ইউহানের কাছে এই সময়ের বিশেষত্ব হলো জায়গাটির ভৌগোলিক ইতিহাস জানার সুযোগ। তাঁর মতে, পর্যটনের ব্যস্ত মৌসুমে গাইডের কাছ থেকে এত বিস্তারিতভাবে স্থানীয় ভূপ্রকৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে জানা কঠিন।
পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে পার্ক কর্তৃপক্ষ আয়োজন করেছে পাতার হস্তশিল্প কর্মশালা, তানসিয়া পাহাড়ে গাইডের সঙ্গে ভ্রমণ এবং বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার।
ইয়ুননানে শুরু সোনালি সূর্যোদয়ের মৌসুম

খানবুলার শরতের রঙিন প্রকৃতির পর পর্যটকদের আকর্ষণের আরেক কেন্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইয়ুননান প্রদেশের লিচিয়াং। সেখানে অবস্থিত ইয়োলং স্নো মাউন্টেনে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘গোল্ডেন সানরাইজ’ বা সোনালি সূর্যোদয়ের মৌসুম।
বছরের নির্দিষ্ট সময়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভোরের প্রথম সূর্যালোক বরফে ঢাকা পাহাড়ের চূড়ায় পড়ে। তখন সাদা বরফের ওপর ছড়িয়ে পড়ে সোনালি আভা, যা পাহাড়ের দৃশ্যকে দেয় অন্যরকম রূপ। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই দৃশ্য দেখার সুযোগ থাকে।

প্রতিদিন ভোরে হাজারো মানুষ সেখানে জড়ো হন এই বিরল সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে। পর্যটক লি সিছি জানান, পাহাড়ের গায়ে সূর্যের প্রথম আলো পড়ার মুহূর্তটি তাঁর কাছে ছিল অত্যন্ত মহিমান্বিত ও প্রশান্তিদায়ক।
চীনের এই দুই পর্যটনকেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখিয়ে দিচ্ছে, ভ্রমণ শুধু নতুন জায়গা দেখার অভিজ্ঞতা নয়; প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোও মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দিতে পারে। শরতের রঙিন বন থেকে বরফঢাকা পাহাড়ের সোনালি ভোর—প্রকৃতির এই বৈচিত্র্যই পর্যটকদের কাছে চীনের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোকে করে তুলেছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।
তথ্য ও ছবি: সিএমজি













