জিম্বাবুয়ে আর আফগানিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ আজ শুরু হচ্ছে আবুধাবিতে। উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। জুলাইয়ের শেষে মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় ওয়ানডে অধিনায়ক হয়েছিলেন লিটন দাস। প্রায় তিন মাস পর এটাই তাঁর প্রথম পরীক্ষা। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের রেকর্ডও ভালো নয়। ১৩টি এমন টুর্নামেন্টে খেলে শিরোপা মাত্র একটি।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে লিটনকে প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশ কি চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে। লিটনের উত্তর ছিল চেনা, ভালো ক্রিকেট খেললে কেন নয়। তবে চিন্তার জায়গা ব্যাটিং। ২০২৫ সালের অক্টোবরে এই আবুধাবিতেই আফগানিস্তানের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ দুই ম্যাচে দল অলআউট হয় ১০৯ আর ৯৩ রানে। এ বছরের জুলাইয়ে হারারেতে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারে ২-১ ব্যবধানে। প্রথম ম্যাচে ১৪১ রান তাড়া করতে নেমে দল গুটিয়ে যায় ১১৬ রানে। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের উইকেট সাধারণত মন্থর থাকে। এখানে বড় রান তাড়া করা কঠিন, তাই টসও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
লিটন নিজেই সমস্যাটা মেনে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সিনিয়রদের দায়িত্ব নিতে হবে। আফগানিস্তান আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি দল। তাঁর মতে, বেশির ভাগ সময় ছয়জন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার নিয়ে খেলায় বিকল্প সীমিত। নিচের সারির ব্যাটাররা অবদান না রাখলে ইনিংস আটকে যায়। এ বছর ওয়ানডেতে লিটনের নিজের ফর্ম অবশ্য আশাব্যঞ্জক। দীর্ঘ রানখরার পর তিনি আবার ছন্দে ফিরেছেন। নয় ইনিংসে করেছেন ৩০০ রান, গড় ৪২ দশমিক ৮৬। চলতি মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ফিফটি আর সেঞ্চুরিও করেছেন।
মিরাজের অধিনায়কত্বে দেশের মাটিতে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই জয় এসেছিল। কিন্তু দেশের বাইরে গেলেই ব্যাটিং ভেঙে পড়ে। বিসিবি তাই শুধু ফল নয়, খেলার ধরন দেখেও নেতৃত্ব বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নজরে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ, যা হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে আর নামিবিয়ায়। লিটন এর আগে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে ২০২২ সালে ভারতকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন। এই সিরিজে বাংলাদেশ দলের জন্য বড় প্রশ্ন একাদশ সাজানো। ছয়জন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার আর পাঁচজন বোলার নিয়ে খেললে নিচের সারি দুর্বল থাকে। আবার সাতজন ব্যাটার নিলে বোলিং বিকল্প কমে যায়। অধিনায়ক লিটন জানিয়েছেন, এই ভারসাম্য খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ যদি ফাইনালে উঠতে পারে, তবে সেটিই হবে বড় অগ্রগতি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয় পেলে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। হারলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচে চাপ আরও বাড়বে।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের একমাত্র শিরোপা এসেছিল ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে। ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছিল দল। ২০০৯ আর ২০১৮ সালে দেশের মাটিতে ফাইনালে উঠেও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছিল। আবুধাবির মন্থর উইকেটে স্পিনাররা বড় ভূমিকা রাখবেন। আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ সামলানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ ভালো শুরু করতে পারলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে লিটনের হাতে আত্মবিশ্বাসের পুঁজি জমবে।












