স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের টেস্ট স্পিনারদের পারফরম্যান্স পরিষ্কারভাবে উন্নত হয়েছে। আড়াই বছরে ২০ টেস্টে স্পিনাররা নিয়েছেন ১৭৭ উইকেট। আগের সমান সময়ে উইকেট ছিল ১৫১টি। বোলিং গড় ৩২ দশমিক ৪১ থেকে নেমে এসেছে ২৮ দশমিক ৭৭-এ। স্ট্রাইক রেট ৬৮ থেকে কমে হয়েছে ৫৫ দশমিক ৮। পাঁচ উইকেট পাওয়ার ঘটনা সাত থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪। এসব হয়েছে ২০২৪ সালের কানপুর টেস্টের পর থেকে সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই। তবু বাংলাদেশের টেস্ট স্পিন ফ্ল্যাট উইকেটে এখনো বড় প্রশ্নের মুখে।
২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশের স্পিনপ্রেম পরিষ্কার রূপ নেয়। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় জয়ে স্পিনারদের ভূমিকা ছিল বড়। জাতীয় ক্রিকেট লিগেও আবদুর রাজ্জাক, নাঈম হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম আর হাসান মুরাদ সেরা উইকেটশিকারিদের তালিকায় ছিলেন। পরে পেস বোলিং গুরুত্ব পায়। বড় টুর্নামেন্টে ব্যাটিং দুর্বলতার কারণে নিচু আর মন্থর উইকেট থেকেও সরে আসে দল।
সমস্যা দেখা যায় যখন উইকেট থেকে স্পিনাররা সাহায্য পান না। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চেন্নাই টেস্টে মেঘলা আবহাওয়ায় হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে পেসাররা ভারতকে ১৪৪ রানে পাঁচ উইকেট ফেলে দেন। কিন্তু উইকেট পেসারদের সাহায্য করা বন্ধ করতেই রবিচন্দ্রন অশ্বিন আর রবীন্দ্র জাদেজা ১৯৯ রানের জুটি গড়েন। মিরাজ ৭৭ রানে পান মাত্র এক উইকেট। পুরো টেস্টে বাংলাদেশের দুই প্রধান স্পিনারের গড় দাঁড়ায় ১০৩। একই বছরের অক্টোবরে চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকা ছয় উইকেটে ৫৭৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। সেখানে মিরাজ আর তাইজুলের উইকেটপ্রতি খরচ ছিল ৭৩ দশমিক ৮ রান।
২০২৫ সালের জুনে কলম্বোতেও একই চিত্র। শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা দুই ইনিংসে গড়ে ১৭ দশমিক ১৪ রানে উইকেট নেন। বাংলাদেশের তাইজুল, মিরাজ আর নাঈমের গড় ছিল ৩৬ দশমিক ৬। শ্রীলঙ্কা ৪৫৮ রান করে ইনিংস আর ৭৮ রানে জেতে। অর্থাৎ বাংলাদেশের টেস্ট স্পিন ঘূর্ণি উইকেটে ভয়ংকর, কিন্তু সমতল উইকেটে ধার হারায়। ভারত বা শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা যেখানে বৈচিত্র্য আর ধৈর্য দিয়ে উইকেট বের করেন, বাংলাদেশের স্পিনাররা সেখানে রান আটকাতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। মুশতাক আহমেদ নিজে ছিলেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী লেগ স্পিনার। ইংল্যান্ড আর পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে স্পিন কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। তাঁর অধীনে তাইজুল ইসলাম আর নাঈম হাসান ধারাবাহিকভাবে উইকেট পাচ্ছেন। তবু বাংলাদেশের টেস্ট স্পিন নিয়ে বিশ্লেষকদের প্রধান আপত্তি একটাই। উইকেট সাহায্য না করলে বোলাররা বিকল্প পরিকল্পনা খুঁজে পান না। একই লাইন আর লেংথে বল করে যান, আর প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা স্বচ্ছন্দে রান তোলেন। ঘরোয়া লিগে স্পোর্টিং উইকেট বানানো হলে এই দুর্বলতা কাটানো সহজ হতো।
সামনে দেশের বাইরে আরও টেস্ট আছে। সেখানে ঘূর্ণি উইকেট পাওয়া যাবে না। বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্পিনারদের বলের গতির বৈচিত্র্য, ড্রিফট আর লম্বা স্পেল টানার সক্ষমতায় কাজ করতে হবে। একজন রিস্ট স্পিনার তৈরির কথাও উঠছে বহুদিন ধরে। মুশতাক আহমেদের অধীনে উন্নতির ভিত তৈরি হয়েছে। এখন সেই উন্নতিকে সব ধরনের উইকেটে টেকসই করাই পরের ধাপ।












