বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান, ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো রোববার অল্প সময়ের জন্য ঢাকায় থেমেছিলেন। মরক্কো থেকে ভুটানের রাজধানী থিম্পু যাওয়ার পথে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। দুই জায়গার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় ঢাকায় এই যাত্রাবিরতি। বিমানবন্দরে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা ছিলেন। এটি আনুষ্ঠানিক সফর ছিল না। তবু এই অল্প সময়েই বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে কথা হয়েছে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। সঙ্গে ছিলেন ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।
বিমানবন্দরেই দুই পক্ষের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সৌজন্য বৈঠক হয়। তাবিথ আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা মূলত ফুটবল উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছেন। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অন্য মহাদেশের দলের সঙ্গে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ চায় বাংলাদেশ। ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বাংলাদেশকে একটি বড় ও ফুটবলপ্রেমী দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও একাডেমির মতো ভালো কিছু প্রকল্প আছে। দেশের অন্য এলাকাতেও এমন প্রকল্প নিয়ে কাজ হচ্ছে।
ফিফার সহায়তায় বাফুফের হাতে বেশ কিছু পরিকল্পনা আছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি টেকনিক্যাল সেন্টার বা প্রশিক্ষণকেন্দ্র। এ জন্য সরকারের কাছ থেকে প্রায় ১৫ একর জমি পেয়েছে ফেডারেশন। সিলেটে একটি হাইব্রিড মাঠ তৈরির পরিকল্পনাও আছে। হাইব্রিড মাঠে প্রাকৃতিক ঘাসের সঙ্গে কৃত্রিম তন্তু মেশানো থাকে। এতে মাঠ বেশি টেকসই হয় এবং বৃষ্টির পরও খেলা চালানো সহজ হয়। বাফুফের অধীন স্টেডিয়াম সংস্কার এবং ফ্লাডলাইট বসানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। এর আগে এ মাসেই জাকার্তায় ফিফা আসিয়ান কাপের সময় তাবিথ আউয়াল ইনফান্তিনোর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুবার সরাসরি দেখা হওয়া যোগাযোগ ধরে রাখতে সহায়ক।
বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এই যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। দেশে ফুটবলের দর্শক ও সমর্থক বিপুল। বিশ্বকাপ এলে পাড়ায় পাড়ায় প্রিয় দলের পতাকা ওড়ে, রাত জেগে খেলা দেখে লাখো মানুষ। এই আগ্রহকে মাঠের সাফল্যে বদলাতে দরকার পরিকল্পিত কাজ। কিন্তু অবকাঠামো আর প্রশিক্ষণের ঘাটতি অনেক পুরোনো। ভালো মাঠ, আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র আর বয়সভিত্তিক দল গড়তে বড় বিনিয়োগ দরকার। ফিফার উন্নয়ন তহবিল সেখানে বড় ভরসা। শুধু ফেডারেশনের নিজস্ব আয়ে এত বড় অবকাঠামো গড়া কঠিন। চলতি বছরের জুনে ইউরোপে গিয়ে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ইউরোপের মাটিতে এমন জয় দেশের ফুটবলে নতুন আত্মবিশ্বাস দেয়। এমন ম্যাচ বাড়লে খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়বে, দেশের ফুটবলের পরিচিতিও বাড়বে।
এখন প্রশ্ন হলো, আশ্বাস কত দ্রুত কাজে রূপ নেয়। ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো প্রকল্পের কথা বললেও কোনো নির্দিষ্ট অর্থ বা সময়সীমা ঘোষণা করেননি। প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কাজ শুরু হলে বা সিলেটের মাঠ তৈরি হলে তা হবে দৃশ্যমান অগ্রগতি। এসব কাজের অগ্রগতিই বলে দেবে, আলোচনার ফল মাঠে কতটা পৌঁছাল। বাফুফেকেও তাই প্রকল্পগুলো দ্রুত শুরু করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আপাতত দুই ঘণ্টার এই যাত্রাবিরতি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি আশার বার্তা হয়ে থাকল।












