চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। নিয়োগদাতার কাছ থেকে বার্তা পাওয়ার পর উত্তর দিতে দেরি করলে হাতছাড়া হতে পারে ভালো সুযোগ। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সম্ভাব্য নিয়োগদাতার বার্তার দ্রুত উত্তর দেওয়া চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। অনেক সময় নিখুঁত ও পেশাদার উত্তর তৈরিতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার চেয়ে দ্রুত যোগাযোগ করাই বেশি কার্যকর।
অনলাইনে স্বাধীন পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ করে দেওয়া একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে লাখ লাখ যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। এতে দেখা গেছে, সম্ভাব্য নিয়োগদাতার বার্তার উত্তর দিতে যত বেশি সময় লাগে, কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা তত কমে যায়।
গবেষণার অংশ হিসেবে পরিচালিত কয়েকটি পরীক্ষায়ও দেখা গেছে, মানুষ সাধারণত দ্রুত উত্তর দেওয়াকে দক্ষতা ও পেশাদারত্বের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করে। এমনকি যারা নিজেরা দ্রুত উত্তর পাওয়ার প্রত্যাশা করেন না, তারাও দ্রুত সাড়া দেওয়া ব্যক্তিদের তুলনামূলকভাবে বেশি পছন্দ করেন।
গবেষণার সহলেখক অন আমিরের মতে, উত্তর দেওয়ার গতি নিজেই একটি বার্তা বহন করে। এর মাধ্যমে একজন চাকরিপ্রার্থী নিজের আগ্রহ ও কর্মদক্ষতা সম্পর্কে নিয়োগদাতার কাছে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারেন।
দ্রুত উত্তর দিলে কি মরিয়া মনে হয়?
চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, নিয়োগদাতার বার্তার উত্তর খুব দ্রুত দিলে তাঁকে অতিরিক্ত আগ্রহী বা চাকরি পাওয়ার জন্য মরিয়া বলে মনে হতে পারে। কিন্তু গবেষণায় এর বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষ করে প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরির বাজারে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করে উত্তর দেওয়া খুব একটা কার্যকর নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সম্ভাব্য নিয়োগদাতার বার্তার উত্তর দিতে মাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিট দেরি হলেও অনলাইন কাজের বাজারে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যাওয়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।
কেন নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে
বর্তমানে একই পদের জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র। চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতা উভয় পক্ষই এআইয়ের সাহায্যে বিপুলসংখ্যক বার্তা তৈরি করছেন। অন্যদিকে, দূরবর্তী কাজ ও সার্বক্ষণিক অনলাইন যোগাযোগের সংস্কৃতিও নিয়োগপ্রক্রিয়ার গতি বাড়িয়েছে।
নিয়োগদাতারা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন। ফলে কোনো প্রার্থী দেরিতে সাড়া দিলে তাঁর পরিবর্তে অন্য কাউকে বেছে নেওয়া সহজ হচ্ছে।
কত দ্রুত উত্তর দেওয়া উচিত
নিয়োগদাতা ও কর্মজীবন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চাকরির বিষয়ে কোনো বার্তা পাওয়ার পর অন্তত একই দিনের মধ্যে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। চাকরিপ্রার্থীদের নিয়মিত ই-মেইল ও লিংকডইনের বার্তা পরীক্ষা করতে হবে, যাতে নতুন সুযোগ সম্পর্কে দ্রুত জানা যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া সম্ভব না হলে সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানিয়ে দেওয়া উচিত কখন যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। নির্ধারিত সময়ে যোগাযোগ করাও পেশাদারত্বের পরিচয়।
এআই দিয়ে তৈরি উত্তরে ঝুঁকি
দ্রুত উত্তর দেওয়ার সুবিধা থাকলেও গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম পাওয়া গেছে। কোনো প্রার্থীর উত্তর দেখে যদি মনে হয় সেটি এআই দিয়ে তৈরি, তাহলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ইতিবাচক প্রভাব কমে যেতে পারে।
অনেক চাকরিপ্রার্থী এখন এআইয়ের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অসংখ্য চাকরিতে আবেদন করছেন। এতে আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়লেও সবাই যে সংশ্লিষ্ট পদে আগ্রহী, তা নয়। কখনো কখনো জীবনবৃত্তান্তে ভুল বা অসত্য তথ্যও যুক্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ই-মেইল লেখার জন্য এআই ব্যবহার করা গেলেও বার্তাটি নিজের ভাষা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে সংশোধন করতে হবে। বার্তায় লেখা প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে নিজের পরিষ্কার ধারণা থাকাও জরুরি।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য মূল শিক্ষা
চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জীবনবৃত্তান্তের পাশাপাশি যোগাযোগের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই নিয়োগদাতার বার্তার উত্তর দিতে অযথা দেরি না করে দ্রুত, সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্টভাবে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করা উচিত।
নিখুঁত উত্তর তৈরির অপেক্ষায় সুযোগ হারানোর চেয়ে সময়মতো আন্তরিক উত্তর দেওয়াই অনেক ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর হতে পারে।












