শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন

জীবন আমার বোন (পর্ব-৩২)

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪, ১২.০০ পিএম

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

বায়ু বললে, ‘রাইফেল ট্রেনিং রাইফেল ট্রেনিং ‘কচু হবে ওতে, শালার এটা একটা ফ্যাশন, যা নড়ুয়ে তোমরা এক একখান, এহা বজ্র খুব ঘনিষ্ঠ হ’য়ে বসলো। বললে, ‘শেষ পর্যন্ত কি হবে বলতো?’ ‘কি আবার হবে, হয় দু’পাঁচশো লোক মেরে সব ঠাণ্ডা ক’রে দেবে না হয়-

বাধা দিয়ে বস্তু অসহিষ্ণু হ’য়ে বললে, ‘সব মেনে নিলেই তো পারে, শুধু শুধু হই হই রক্তারক্তি ক’রে লাভটা কি?

‘তুই বরং ঘচাং ক’রে একটা খত ঝেড়ে দে, কাজ হ’লেও হ’তে পারে, লোকটা নাকি মেয়েলোকের কথায় ওঠে-বসে।’

‘ঠাট্টা রাখ, একটু বুঝিয়ে বলনা ছাই। আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারার সময় তো মুখ দিয়ে কথার তুবড়ি ছোটে।

রজুর বিনুনি ধারে একটা টান মেরে থোকা বললে, ‘তুই যা বুঝিস অন্তত সেটুকুও যদি ওদের মগজে ঢুকতো তাহলে তো আর কোনো ল্যাঠাই ছিলো না।’

‘আচ্ছা ধর, শেষ পর্যন্ত যদি কোনোরকম মীমাংসা না হয় ?’

‘হবে কে বললে?”

‘ধর হ’লো না, তখন?’

‘কেন প্লেন বোঝাই বোরখা পরা সৈন্য নামছে রোজ এয়ারপোর্টে শুনিসনি?’

‘বাপি যে কেন আগেই চ’লে আসছে না।’

‘রাওয়ালপিন্ডির পিন্ডি চটকাবে কে, তুই?’

‘যাই বলিস, চাকরি জিনিশটা এত্তো বাজে–‘

‘এ্যাঁ, পথে এসো বাবা, পথে এসো। সেই জন্যেই তো বেকার ব’সে আছি।’

‘তুই একটা কুড়ের ডিম, চাকরি কেন, তোকে দিয়ে কিছুই হবে না কখনো।’

লম্বা হাই তুলে পটাপট দুটো আঙ্গুল মটকে থোকা আউ আউ ক’রে জড়িয়ে জড়িয়ে বললে, ‘বেশ আছি শালার, কি বল? আহারে, চিরটা কাল যদি এইভাবে আরামসে পিপুফিশু ক’রে কেটে যেতো।

‘শরীরে ঘুণ ধরতো, উইপোকা ধরতো ‘শরীরে উইপোকা না ধরলে কি আর মুনি-ঋষি হওয়া যায় রে, তুই একটা ইস্টুপিট, ষাঁড়ের গোবর, গোমুখ্যু।

একটু পরেই ‘জয়বাংলা’ ব’লে মুরাদ ঘরে ঢুকলো।

রুমাল দিয়ে মুখ মুছে একগ্লাস পানি চেয়ে খেলো সে। বললে, ‘ক’দিন থেকে হাঁটতে হাঁটতে শালার পায়ে ফোল্কা প’ড়ে গিয়েছে।’

‘বলিস কি, ফোস্কা আবার কি; তোর পা জোড়াই তো ফোঙ্কা।’

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024