শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৯:২৫ অপরাহ্ন

ইন্ডিয়ার কেনো আরো রাজ্য সৃষ্টি দরকার ?

  • Update Time : রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪, ৭.১০ পিএম

সারাক্ষণ ডেস্ক

অধিক রাজ্য থাকলে সরকারের হয়তো সমস্যা হতে পারে। আবার অধিক সরকার কিছু ভালো কাজ, কিছু ভালো নেতা তৈরী করতে পারে। যেমন মোদি সরকারের প্রথম দশকে তিনি দেশকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে কেন্দ্রকে ব্যবহার করেছেন। তার আদর্শ হলো শক্তিশালী নেতা হতে হবে তার সাথে থাকবে দেশের মানুষের সমর্থন ও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে শাসাতে পারবেন যাতে অনেক বড় একটি দেশের উন্নতি দেখা যায়।

হায়দ্রাবাদ, তেলেঙ্গানা, ভারত
হায়দ্রাবাদ, তেলেঙ্গানা, ভারতের স্কাইলাইন।

ইন্ডিয়ার  সংবিধানের সূচনা লাইনের ঘোষণায় লেখা আছে যে দেশটি “রাষ্ট্রগুলির একটি ইউনিয়ন হবে”। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, রাজা শাষিত অঞ্চলগুলিকে নতুন রাজ্যে বিভাজন করা হয়েছিল, এবং অবশিষ্ট ঔপনিবেশিক অঞ্চলগুলিকে সংযুক্ত করা হয়েছিল পাশাপাশি এর ভাষাগত দিকদিয়েও সীমানা পুনর্গঠিত হয়েছিল। সবাই তখন নিয়ম মেনে চলতে থাকে।

তিনটি নতুন রাজ্য সৃষ্টি হয়েছিল ২০০০ সালে । সবশেষ রাজ্য তেলেঙ্গানা এই মাসে দশ বছরে পদার্পণ করেছে । বর্তমানে ভারতের ২৮টি রাজ্যই শক্তিশালী। তারা স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের চেয়েও বেশি লোকের কর্মসংস্থান করে। এখানে তারা সাংবিধানিকভাবে দায়বদ্ধ আছেন নয়তো যৌথভাবে, বেশিরভাগ মৌলিক কার্যক্রমের জন্য, যার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা, কৃষি এবং কল্যাণমূলক সেবা সরবরাহ।

 

বর্তমান অবস্থায় দুটি সমস্যা রয়ে গেছে। একটি হল -ভারতের মেগাসিটিগুলোর স্বায়ত্তশাসন নেই: এগুলো সাধারণত বৃহৎ গ্রামীণ জনসংখ্যা সম্পন্ন রাজ্যগুলোর অংশ, যেখানে রাজনীতিবিদরা গ্রামীণ জনগণকে অগ্রাধিকার দিতে মরিয়া। অন্যটি হল – অনেক রাজ্য অনেক বেশী বড়। আমেরিকায় এক-চতুর্থাংশ জনসংখ্যা নিয়ে ৫০টি রাজ্য রয়েছে। চায়নাতে ২৭টি প্রদেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল রয়েছে, কিন্তু তার প্রশাসনিক শক্তি উপ-প্রাদেশিক স্তরে কেন্দ্রীভূত।

উত্তর প্রদেশ (ইউপি), ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য, যেখানে ২৪ কোটি মানুষ বসবাস করে, যা নাইজেরিয়া বা ব্রাজিলের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। ভারতের বিশাল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের কারণে, কেন্দ্রীয়ভাবে আরোপিত একক-আকারের নীতিগুলো কেবলমাত্র কখনও কখনও ভালো কাজ করে কিন্তু  এটি অনেক নীতিগত ক্ষেত্রকে বাদ দিয়ে রাখে যেগুলো পরিবর্তন করা দরকার।

 

আরও স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন নমনীয়তা, জবাবদিহিতা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে সংস্কারের একটি বিকল্প পদ্ধতি তৈরি করে। এর প্রতিষ্ঠার পর থেকে, তেলেঙ্গানার জিডিপি বেড়ে ৪.১% থেকে ৪.৮% হয়েছে। অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের অংশ থাকাকালীন অবহেলিত হলেও, এখন এর গ্রামাঞ্চলে নিয়মিত বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ হয়।

এই সংবাদপত্রটি সাধারণত বেশি সরকারের পক্ষে যুক্তি দেয় না। কিন্তু এটি আরও বেশি সরকারের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিধা করে না। সত্যি কথা বলতে, ভারত এর আগেও এটি চেষ্টা করেছে। ১৯৯০-এর দশকে সংসদ রাজ্য থেকে স্থানীয় সরকারগুলোতে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে সাংবিধানিক সংশোধনী পাস করেছিল, কিন্তু রাজ্যগুলো নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে অনিচ্ছুক ছিল ।

তেলেঙ্গানা মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়

আমরা ভিন্ন উপায়ে সমাধান চাই: মেগা-শহরগুলোকে নিজেদের শাসন করতে দেওয়া এবং আরও রাজ্য তৈরি করা। সংবিধান সংসদকে একতরফাভাবে রাজ্য তৈরি করার, বিদ্যমান রাজ্যগুলোকে বিলুপ্ত করার (যেমন মোদি ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে করেছিলেন) এবং সীমানা পরিবর্তন করার ক্ষমতা দেয়।

উত্তর প্রদেশকে বিভক্ত করা উচিত। আবার অন্যান্য জায়গাগুলোতেও পৃথক রাজ্য গঠনের জন্য শক্ত দাবি রয়েছে। মহারাষ্ট্রে, মুম্বাইয়ের আরও প্রভাব থাকা উচিত; তুলনামূলকভাবে দরিদ্র পূর্বাঞ্চল মহারাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের মর্যাদা দাবি করে আসছে। আবার এটাও ভাবতে হবে যে, বিকেন্দ্রীকরণের অসুবিধাও রয়েছে।

আরও অনেক রাজ্য এবং শহর থাকলে, নির্বাচন চলতে থাকবে অবিরাম, তাই ভারতকে সমন্বিত, নিয়মিত ভোটদান চক্র তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে অনেক বিষয়ই ভাববার বিষয় আছে যেমন, কর-রাজস্ব থেকে বিদ্যুৎ পর্যন্ত। পাশাপাশি, রাজ্যগুলির মধ্যে সম্পদের বণ্টন একটি সূক্ষ্ম বিষয় কারন অতিরিক্ত রাজ্য থাকলে শহরগুলি এটিকে আরও সমস্যার মধ্যে ফেলবে।

তেলেঙ্গানায় বিশাল বিনিয়োগ হয়েছে আদানী গ্রুপ 

এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সীমানা পুনর্নির্মাণ করলে এর সংসদীয়-আসন সীমানার ঝামেলা সামনে নিয়ে আসবে।তবুও এই সমস্যাগুলি উন্নত প্রশাসন, আরও প্রতিক্রিয়াশীল সরকার, উন্নত পরিষেবা এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির সুবিধার চেয়ে কম হবে। এককথায় বলা যায়, ভবিষ্যতে নতুন রাজ্য তৈরি হলে ইন্ডিয়া উন্নতির মুখ দেখতে পাবে।

যেমন, তেলেঙ্গানায় সরকার দীর্ঘস্থায়ী ব্যাপারগুলির উপর অধিক দৃষ্টি নিবদ্ধ করে-এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য  হলো, বিদ্যুৎ, জল এবং তহবিল। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৭.৮GW থেকে ১৯.৫GW-এ উন্নীত হয়েছে। পানীয় ও সেচের জন্য পানি বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু প্রকল্প চালু করা হয়েছে। কৃষকদের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

নাগার্জুন সাগর বাঁধ, ভারত
নাগার্জুন সাগর বাঁধ, দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের মধ্যে কৃষ্ণা নদীর উপর

তেলেঙ্গানার একটি সুবিধা ছিল: হায়দ্রাবাদ। ১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে অবিভক্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু নিজেকে একজন প্রযুক্তি-সচেতন নেতা হিসাবে অবস্থান করেছিলেন, যার ফলে শহরটিকে “সাইবারাবাদ” ডাকনাম হয়। কেসিআরের সরকার প্রযুক্তি-প্রথম কৌশলে দ্বিগুণ হয়েছে। রাজ্য-সরকারের একটি রিপোর্ট অনুসারে, ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে IT রপ্তানি চারগুণ বেড়ে ২.৪trn রুপি ($২৯bn) হয়েছে, এবং IT জব প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৯০০,০০০-এ পৌঁছেছে।

গোলকুন্ডা ফোর্ট, তেলেঙ্গানা, ভারত
১৬ শতকের গোলকুন্ডা দুর্গ, তেলেঙ্গানা, ভারতের, কুতুব শাহী রাজবংশের (১৫১৮-১৬৮৭) সময় নির্মিত।

যদিও ইন্ডিয়ায় শাসনকাজ সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য মাঝেমধ্যে বিভিন্ন রাজ্য ভাঙাগড়া হয়েছে। এ ধরনের ভাঙাগড়ায় বিপরীতমুখী স্বার্থের সংঘাত ঘটে যায় বলে ব্যাপারটি সহজে করা যায়না। অতীতের ভাঙাগড়াগুলোও সহজে সংগঠিত হয়নি। ক্ষেত্রবিশেষে ঘটেছে নানা সংঘাত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিদের সুবিবেচনাপ্রসূত মতামতের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হয়েছে। ঠিক তেমনি দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশকে ভেঙে তেলেঙ্গানা নামের একটি রাজ্য গড়ার জোর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এটা নিয়ে দফায় দফায় আন্দোলন হয়েছে। প্রাণহানিও ঘটেছে বেশ কিছু মানুষের। ১৯৬৯ আর ১৯৭২-এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উল্লেখযোগ্য।

অবশেষে ২০১৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ ভেঙে নতুন রাজ্য তেলেঙ্গানা জন্ম লাভ করে।
ইন্ডিয়ায় ফেডারেল সরকারব্যবস্থা থাকলেও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার, সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল, সুসংগঠিত সামরিক বাহিনী ও দক্ষ আমলাতন্ত্র রয়েছে। ব্যাপকভাবে না হলেও এ ধরনের দু-একটি ক্ষেত্রে নতুন রাজ্য গঠনকে প্রয়োজনীয় বিকেন্দ্রীকরণ বলে ইতিবাচক রূপে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024