শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৮:২৬ অপরাহ্ন

আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক হলেন প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ

  • Update Time : রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪, ১০.০১ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ব্যত্তিগত চিকিৎসক প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনিই প্রথম এ সম্মানে ভূষিত হলেন।
বৃহস্পতিবার ২০ জুন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে তাঁর নিয়োগ এর বিষয়টি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। পরে তাঁকে এ সংক্রান্ত নিয়োগপত্র/সম্মাননা সনদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক (Prof. Dr. Deen Mohd. Noorul Huq) ) মহোদয় ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর হাতে তুলে দেন।
এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মহোদয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (Prof. Dr. Mohammed Atiqur Rahman), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মনিরুজ্জামান খান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, এধরণের সম্মাননা আরও বেশি কাজ করার উৎসাহ জোগায়। অশেষ কৃতজ্ঞতা মহান আল্লাহর প্রতি। বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা। উল্লেখ্য, ইমেরিটাস অধ্যাপক একটি সম্মানসূচক পদবি বা উপাধি। বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে অবসরপ্রাপ্ত স্বনামধন্য অধ্যাপকের জীবদ্দশায় শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদান এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ প্রদান করা হয়ে থাকে। দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণাসহ সামগ্রিক পেশার উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি ও সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর অসামান্য অবদান রয়েছে। এর স্বীকৃতি স্বরূপ দেশি-বিদেশি ১৬টি পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন প্রখ্যাত এ মেডিসিন বিশেজ্ঞ।
কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা ও অধিকতর উন্নয়নে অবদান রাখায় ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ স্বর্ণপদক পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ। কমিউনিটি ক্লিনিকের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৩০ এপ্রিল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ পদক তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
গত ২৫ নভেম্বর বাংলা একাডেমি ২০২৩ সালের ‘মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কার’ পান ডা. এবিএম আবদুল্লাহ। একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪৬তম বার্ষিক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে। চিকিৎসা সেবায় অবদানের জন্য গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পদকে ভূষিত হন অধ্যাপক আবদুল্লাহ। এর আগে গত বছরের ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে আজীবন সম্মাননা দেয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘দেশ টিভি’।
রাজধানীর একটি হোটেলে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। একই বছরের এপ্রিল মাসে মেডিসিনের বাইবেলখ্যাত পাঠ্যপুস্তক ডেভিডসনস’ প্রিন্সিপ্যাল অ্যান্ড প্রাকটিস অব মেডিসিন’র ২৪তম আন্তর্জাতিক সংস্করণের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য মনোনীত হন প্রখ্যাত এ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। গবেষণায় অবদানের জন্য ২০১৬ সালে সরকার তাঁকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে। ২০১৭ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।
এর পরের বছর আগস্ট মাসে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ‘ইউজিসি প্রফেসরশিপ’ সম্মানে ভূষিত হন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ। করোনা প্রতিরোধে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও অনলাইনে চিকিৎসা সেবাসহ সার্বিক কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে তাঁকে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। একই বছর ‘এটিএন বাংলা-উন্নয়নে বাংলাদেশ এ্যাওয়ার্ড-২০২১’ পান ডা. আব্দুল্লাহ। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত সুপরিচিত ও জনপ্রিয় এই গুণী চিকিৎসক ১৯৫৪ সালে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার হাড়িয়াবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। এরপর ১৯৬৯ সালে ইসলামপুর নেকজাহান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে ১৯৭৮ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। এরপর কিছুদিন গ্রামে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন মেডিকেল অফিসার হিসেবে হিসেবে। এরপর চলে যান সৌদি আরব।
সেখানে পাঁচ বছর চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৯২ সালে চলে যান লন্ডনে। যুক্তরাজ্যে রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি লাভ করে দেশে এসে রাজধানীর হলিফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগে দুই বছর পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে পিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) যোগদান করেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন অনুষদের ডিন ও মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউ থেকে অবসরে যান অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ।
এদিকে গত ২৮মে ২০২৪ইং তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নূরুল হক মহোদয় ২৪ জন গুণী শিক্ষক এঁর হাতে গ্রেড-১ সংক্রান্ত নিয়োগপত্র সম্মানিত শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন। গ্রেড ১ প্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন- অধ্যাপক ডা. আছিয়া খানম, অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী, অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা, অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ মুনির রশিদ, অধ্যাপক ডা. মোঃ আসাদুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মোঃ আনোয়ারুল কবির,
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোহছেন চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মোঃ সাহাদত হোসেন সেখ, অধ্যাপক ডা. দেওয়ান সাইফুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. মোঃ ইব্রাহিম সিদ্দিক, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, অধ্যাপক ডা. এমএ হাসনাত, অধ্যাপক ডা. আয়েশা খাতুন, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, অধ্যাপক ডা. তৃপ্তি রানী দাশ, অধ্যাপক ডা. সারোয়ার আলম, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফিউদ্দিন, অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল মান্নান, অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূইয়া, অধ্যাপক ডা. মোঃ আনোয়ারুল করিম, অধ্যাপক ডা. ইশতিয়াক আহমেদ শামীম, অধ্যাপক ডা. বেগম নাসরীন, অধ্যাপক ডা. নাহরিন আখতার এবং অধ্যাপক ডা. রেজওয়ানুল হক।
এছাড়া গত ২৪মে ২০২৪ইং তারিখে বি ব্লকের ২য়তলায় কনফারেন্স রুম ১২৭-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নূরুল হক মহোদয় ৩০ জন গুণী শিক্ষক এঁর হাতে গ্রেড-২ সংক্রান্ত নিয়োগপত্র সম্মানিত শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন। গ্রেড ২ প্রাপ্ত- শিক্ষকরা হলেন- অধ্যাপক ডা. সুনীল কুমার বিশ্বাস, অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল আজিজ, অধ্যাপক ডা. হরষিত কুমার পাল, অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদ, অধ্যাপক ডা. এমএমএ সালাহউদ্দিন কাউসার, অধ্যাপক ডা. মঞ্জুর মাহমুদ, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, অধ্যাপক ডা. একেএম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. ফাহমিদা জাবিন, অধ্যাপক ডা. আখলাক হোসেন খান,
অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ, অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, অধ্যাপক ডা. মোঃ কামরুল আহসান, অধ্যাপক ডা. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. কৃষ্ণ প্রিয় দাশ, অধ্যাপক ডা. আবু তাহের, অধ্যাপক ডা. মোঃ মোসলেহ উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. শেখ হাসানুর রহমান, অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ, অধ্যাপক ডা. ধীমান চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. রোকুনুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে, অধ্যাপক ডা. আফজালুননেসা, অধ্যাপক ডা. মুনিরা জাহান, অধ্যাপক ডা. তাসকিনা আলী, অধ্যাপক ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমান ্এবং অধ্যাপক ডা. কাজী বিল্লুর রহমান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024