বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ১১:৫৯ অপরাহ্ন

চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংবিধান পরিপন্থী: গোলাম মোহাম্মদ কাদের

  • Update Time : রবিবার, ৭ জুলাই, ২০২৪, ৫.৫৩ পিএম

সারাক্ষণ ডেস্ক

বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, কোটা বিরোধী আন্দোলন অত্যন্ত যৌক্তিক আন্দোলন। সব সমাজের মানুষই বৈষম্য পছন্দ করে না। বৈষম্যময় সমাজকে সুষ্ঠু সমাজ বলা যায় না। বাঙালীরা বৃটিশ আমল থেকে বৈষম্যের শিকার হয়েছিলো। বৈষম্য থেকে বাঁচতেই তারা পাকিস্তান আন্দোলনের সাথে জড়িত হয়েছিলো। পরবর্তীতে পাকিস্তানীরাও বাঙালীদের সাথে বৈষ্যম্য সৃষ্টি করেছিলো। তাই প্রথমে শুরু হলো স্বাধীকার আন্দোলন এবং পবরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রাম। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জন করেছিলাম শুধু বৈষম্য থেকেই বাঁচতে। স্বপ্ন ছিলো আমাদের একটি দেশ হবে, আমাদের দেশ হবে বৈষম্যহীন। যেখানে নির্যাতন- নিপিড়ন থাকবে না। সংবিধানে বৈষম্যের বিরুদ্ধে জোর দিয়ে বলা হয়েছে। চাকরিতে কোটা পদ্ধতি হচ্ছে সংবিধান পরিপন্থি।

আজ দুপুরে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আলাপকালে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এ কথা বলেন।

এসময় গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, বৈষম্য সৃষ্টি করতেই বাংলাকে পাকিস্তানীরা রাষ্ট্রভাষা করতে চায়নি। ভাষার মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো তারা। উদ্দেশ্য ছিলো বাঙালীরা যেনো সব দিক থেকে পিছিয়ে থাকে। এই বৈষম্যের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেই আমাদের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে ৫২’র ২১ ফেব্রæয়ারি প্রাণ দিয়ে ছিলেন আমাদের ভাইয়েরা। বৈষম্যহীন এবং ন্যায় বিচার ভিত্তিক সমাজ গড়তেই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়েছিলো। এমন অবস্থায় চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি করে। সংবিধানে সাম্যের কারণে কিছু মানুষকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সুযোগ দেয়ার কথা আছে। যারা পিছিয়ে আছে, তারা যেনো এগিয়ে যেতে পারে। পিছিয়ে পড়াদের কতটুকু সহায়তা দেয়া হবে তাও সংবিধানে বলা আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান বা তাদের উত্তরাধিকারদের কোটা পদ্ধতিতে সুযোগ দেয়া সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রথমে মুক্তিযোদ্ধাদের যে তালিকা করা হয়েছিলো, এখন তা ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি করা হয়েছে। এটা নিয়ে বহু কন্ট্রোভার্সি আছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে করো বয়স ছিলো ২ থেকে ৩ বছর আবার কারো জন্মই হয়নি তারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হয়েছে। অনেকের মুক্তিযুদ্ধের অবদান নিয়ে সন্দেহ আছে। আবার অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন কিন্তু তারা বিভিন্ন কারনে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি।

মুক্তিযুদ্ধে অনেকেই জীবন দিয়েছেন, তাদের সন্তানরাও জীবন দিয়েছেন কিন্তু শিক্ষা ও রাজনৈতিক সচেতনতার কারনে তারা তালিকুভূক্ত হতে পারেনি। মুক্তিযোদ্ধাদের এককালিন সুবিধা দেয়া যেতে পারে কিন্তু তা অন্যকাউকে বঞ্চিত করে বা বৈষম্যের শিকার করে নয়। যেখানে একজন চাকরি পাওয়ার জন্য উপযুক্ত তাকে বঞ্চিত করে অন্যকাউকে চাকরি দেয়াটা স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। বৃটিশরা ডিভাইড এন্ড রুল করে আমাদের নির্যাতন করেছে। বৃটিশদের হয়ে আমাদের দেশের সৈন্যরা এবং প্রশাসকরাই আমাদের ওপর নির্যাতন করেছে। আমাদের দেশের রাজা-মহারাজারা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে বৃটিশদের হয়ে। এখন একটি শাসক শ্রেণী তৈরী হয়েছে। তারা সুবিধাবাদি গোষ্ঠী তৈরী করতেই অনুপযুক্তদের চাকরিতে নিয়োগ দিতে চেষ্টা চালাচ্ছে। অনুপযুক্তদের বিত্তশালী করা হচ্ছে। তারা যেনো সরকারের প্রতি অনুগত থাকে। কারন, অনুপযুক্তরা জানে এই চাকরি বা সম্মানের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই সরকারের অনুগত হয়ে থাকবে। ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবহার করে কোটা পদ্ধতি চালু রাখতে চায়। তাদের উদ্দেশ্য শক্তিশালী একটি অনুগত বাহিনী সৃষ্টির জন্য। সারা দেশের মানুষকে বঞ্চিত করে শাসক গোষ্ঠী লাঠিয়াল বাহিনী তৈরী করতে চায়। তাই কোটা বিরোধী আন্দোলন অত্যন্ত যৌক্তিক। বিচারাধিন বিষয়ে আমরা কথা বলতে চাই না, তবে ফিলোসফিটি আমি বলেছি। সাধারণ মানুষের ধারণা লাঠিয়াল বাহিনী সৃষ্টি করতেই অনুপযুক্ত লোকদের শক্তিশালী করে বৃটিশ ও পাকিস্তানীদের মত অত্যাচার চালানোর অপচেষ্টা চলছে। বৃটিশ ও পাকিস্তানীদের মতই বর্তমান সরকার ডিভাইড এন্ড রুল চালু করেছে। কোটা পদ্ধতীর মাধ্যমে কারো অধিকার বঞ্চিত করা অন্যায়। যে পরিক্ষায় প্রথম হয়েছে তাকে বঞ্চিত করার অধিকার কারো নেই। যে বঞ্চিত হবে তার মা-বাবাও বঞ্চিত হলো। তাদের উত্তরাধিকারও বঞ্চিত হবে এই পদ্ধতিতে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024