মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা বুধবার পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০২৪, ৭.৩৯ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক 

সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের করা আবেদন শুনানি নিয়ে কোটা পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর করা আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির জন্য আজ বুধবার দিন ঠিক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের চেম্বার এ আদেশ দেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষের আইনজীবী শাহ মজ্ঞুরুল হক জানিয়েছেন , ‘সার্বিক বিবেচনায় হাইকোর্টের রায় স্থগিত চাওয়া হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের বক্তব্য হচ্ছে, কোটা পদ্ধতির সংস্কার।
আদালতে দুই শিক্ষার্থীর পক্ষে শুনানি করেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এম হারুনুর রশীদ খান। শুনানির পর আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ আবেদন করা হয়েছে।

যারা আন্দোলন করছে তাদের পক্ষে এ আবেদন করা হয়নি। যারা আন্দোলন করছে তাদের আন্দোলনের একটি মোটিভ (উদ্দেশ্য) আছে। আবেদনকারীরা হাইকোর্টের রায়ের জাস্টিফিকেশনের (ন্যায্যতার) জন্য আবেদনটি করেছেন। মঙ্গলবার দুই জন শিক্ষার্থীর পক্ষে আবেদনটি করা হয়েছে। আরো একজন শিক্ষার্থী আবেদনকারী হিসেবে যুক্ত হবেন। সে আবেদন আমরা প্রস্তুত করছি।’ তিনি আরো বলেন , ‘সার্বিক বিবেচনায় হাইকোর্টের রায় স্থগিত চাওয়া হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের বক্তব্য হচ্ছে, কোটা পদ্ধতির সংস্কার। আমরা চাচ্ছি এটার (কোটা পদ্ধতির) একটা সম্মানজনক সমাধান হোক। আপিল বিভাগ হচ্ছে আমাদের সর্বোচ্চ আদালত।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে আবেদন দায়ের করার জন্য হলফনামার অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বারজজ আদালতে আবেদন করেন ওই দুই শিক্ষার্থী। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হলফনামা করার অনুমতি দেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর সূর্যসেন হলের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আল সাদী ভূঁইয়াসহ দুজন এ আবেদন করেন। তার সঙ্গে উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ সাঈদ খান রয়েছেন।

অনুমতির পর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনটি দায়ের করা হয়, যা মঙ্গলবারই চেম্বার আদালতে শুনানি হয়। দুই শিক্ষার্থীর আইনজীবী এম হারুনুর রশীদ খান বলেন, হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে দুই শিক্ষার্থী আবেদনটি করেন। চেম্বার আদালত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বুধবার শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কোটাপদ্ধতি বাতিল করে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন চাকরিপ্রত্যাশী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে পরিপত্রের পাশাপাশি এর আগে দেওয়া হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের আদেশ প্রতিপালন না করা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্য অধিকারের প্রতি অবজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে গত ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে, যা আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হয়ে ৪ জুলাই আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। রিট আবেদনকারীপক্ষের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন আপিল বিভাগ নট টুডে (৪ জুলাই নয়) বলে আদেশ দেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলা হয়। এ অবস্থায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ওই দুই শিক্ষার্থী আবেদন করেন।

বেসরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে ৫ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট। ওই রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে।

সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেড (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওই পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো। যেখানে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ, উপজাতি ৫ ও প্রতিবন্ধীর ১ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়।

এই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। সে রুল যথাযথ ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে গত ৫ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রপক্ষ’ আবেদন করলে ৪ জুলাই পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করে দেয় চেম্বার জজ আদালত। বিষয়টি শুনানির জন্য কাল দিন ধার্য করে আদেশ দেয় আজ চেম্বার কোর্ট।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024