মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

ফিলিস্তিন আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সম্মত হয়েছে ইউরোপের চার দেশ, বিশ্বে পণ্যের দাম কমার সুফল দেশে মেলেনি

  • Update Time : শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৪, ৮.০৬ পিএম

ভারত থেকে খাদ্যশস্য আমদানি কমেছে ৯৩ শতাংশ, চিনি কমেছে ৭০ শতাংশ, এই শিরোনাম বণিক বার্তার।

 

বাণিজ্য বিভাগের হালনাগাদকৃত তথ্য থেকে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে খাদ্যশস্য ও চিনি আমদানিতে বরাবরই প্রতিবেশী ভারতের ওপর বড় মাত্রায় নির্ভরশীল বাংলাদেশ। যদিও দেশটির বাণিজ্য বিভাগের হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে খাদ্য ও চিনি আমদানি হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে খাদ্যশস্য আমদানি কমেছে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯৩ শতাংশ। আর চিনি আমদানি কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। ভারতের বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে (ভারতে অর্থবছর হিসাব হয় এপ্রিল-মার্চ সময়সীমায়) দেশটি থেকে মোট ১২৮ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের খাদ্যশস্য আমদানি করেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে চাল, গম ও ভুট্টা আমদানি হয়েছে যথাক্রমে ৪১ কোটি ৮৭ লাখ ডলার, ৫৫ কোটি ১৭ লাখ ও ৩১ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (এপ্রিল-জানুয়ারি) ভারত থেকে খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে মাত্র ৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের। এর মধ্যে ৭ কোটি ১৫ লাখ ডলারের ভুট্টা ও ১ কোটি ২১ লাখ ডলারের চাল আমদানি করা হয়েছে। এ সময়ে কোনো গম আমদানি করেনি বাংলাদেশ। দেশটি থেকে অর্থবছরের বাকি দুই মাস অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি ও মার্চে চাল আমদানি এক প্রকার বন্ধ ছিল। ভুট্টা আমদানিও তেমন একটা হয়নি। সে হিসেবে দেশটি থেকে বাংলাদেশে খাদ্যশস্য আমদানি কমেছে প্রায় ৯৩ শতাংশ। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারত থেকে গত অর্থবছরের চেয়েও বেশি খাদ্যশস্য আমদানি করেছিল বাংলাদেশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ২২৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের খাদ্যশস্য। এর মধ্যে ১১৯ কোটি ১৬ লাখ ডলারের গম, ৪৩ কোটি ২৪ লাখ ডলারের ভুট্টা ও ৬২ কোটি ডলারের চাল আমদানি হয়।

 

একইভাবে চিনি আমদানিও প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে (এপ্রিল-মার্চ) ভারত থেকে ৪৭ কোটি ৭২ লাখ ডলারের চিনি আমদানি করে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে চিনি ও চিনি জাতীয় পণ্য আমদানি হয় ১৩ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে চিনি ও চিনিজাতীয় পণ্য ভারত থেকে আমদানি হয়েছিল ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ডলারের। এছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলার, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭ কোটি ৫২ লাখ ডলারের চিনি আমদানি করে বাংলাদেশ। এক সময় চাল ও চিনি আমদানিতে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা ছিল সবচেয়ে বেশি।

 

তুরস্কের আনাদোলু পত্রিকার প্রধান  শিরোনাম Spain, Ireland, Slovenia and Malta agree to recognize Palestinian state

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ফিলিস্তিন আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সম্মত হয়েছে ইউরোপের চার দেশ। দেশগুলো হলো- স্পেন, আয়ারল্যান্ড, মাল্টা ও স্লোভেনিয়া। পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে আলাদা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন ফিলিস্তিনি জনগণের বহুদিনের স্বপ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা পেয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শুক্রবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কাউন্সিলের বৈঠকের পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ চার দেশের সম্মতির এ কথা জানান। সাংবাদিকদের সানচেজ বলেন, কাউন্সিলের সমাবেশের ফাঁকে আইরিশ, মাল্টিজ এবং স্লোভেনিয়ান নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই চুক্তি হয়েছে। তিন দেশের সঙ্গে মিলে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছে স্পেন।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে আয়ারল্যান্ড বলেছে, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়ন করা। তবেই শান্তি ও নিরাপত্তায় বসবাস করতে পারবে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিরা। এর আগে নভেম্বরে স্পেনে এক বৈঠকে একমত হয়ে আরব রাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছিল, ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাত বন্ধ করার উপায় হলো একটি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান। ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৩৯টি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির মার্কিন প্রস্তাব পাস হয়নি। পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় প্রস্তাবটি পাস হতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

কান্তজিউ মন্দিরের জমিতে নির্মাণ হচ্ছে মসজিদ শিরোনাম দৈনিক কালবেলা পত্রিকার।

এ খবরে বলা হয়েছে, দিনাজপুরের কাহারোলে ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ মন্দিরের জমিতে মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এই স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। কান্তনগর গ্রামে রাজ দেবোত্তর এস্টেটের জমিতে মসজিদ নির্মাণের ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনাজপুর-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাকারিয়া জাকা এ কাজে সহযোগিতা করছেন। গত ১ মার্চ সবকিছু জেনেশুনেও মসজিদ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তিনি। এ নির্মাণকাজ বন্ধ চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দিনাজপুর রাজ দেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট রণজিৎ কুমার সিংহ। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বলছে, অভিযোগের পর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত হবে। তবে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, মসজিদের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে পুরাকীর্তি সমৃদ্ধ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দিরের দেবোত্তর ভূমিতে অবৈধভাবে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। মন্দিরের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিষদের নেতারা। দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদ কালবেলাকে বলেন, মন্দিরের পাশে মালিকানায় বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থায়ী অবকাঠামো দিয়ে পাকা করে মসজিদ নির্মাণের চেষ্টা হচ্ছিল। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কাগজপত্র যাচাই করে সেটির কাজ স্থগিত রেখেছে। পুলিশ সুপার বলেন, ওই ঘটনার জেরে কেউ যেন গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সেদিকে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল শুক্রবার রণজিৎ কুমার সিংহ কালবেলাকে বলেন, কান্তনগর মৌজায় কান্তজিউ মন্দিরের জমিতে এ মসজিদটি নির্মাণ হচ্ছে। অথচ জমির কোনো রেকর্ড তাদের নামে নেই। তিনি জানান, খবর নিয়ে দেখেছি, শুক্রবার নির্মাণকাজ হয়নি। তবে রাতের অন্ধকারে কাজ করলে কে ঠেকাবে। মন্দিরের জমিতে মসজিদ নির্মাণ করায় ক্ষুব্ধ সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন বলছেন, পুরকীর্তি সমৃদ্ধ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান ঐতিহাসিক এই কান্তজিউ মন্দির। মন্দিরের বিশাল জমি দীর্ঘদিন ধরে বেহাত পড়ে আছে। এই সুযোগে একটি চক্র আগে থেকেই টিনের চালা দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করে। এখন সেখানে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একটি গোষ্ঠী এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তাদের। এদিকে স্থানীয় সুমলমানরা বলছেন, মামলা এবং আপস নামামূলে এই জমির মালিক কান্তনগর গ্রাম জামে মসজিদ।

 

 

দৈনিক নয়া দিগন্তেরশিরোনাম, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে গেছে সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠনের সদস্যরাও ।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলের রাখাইন রাজ্য ঘিরে চলা জান্তা বিরোধী সঙ্ঘাত বেশ বেগবান হয়। এত দিনে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্রগোষ্ঠী আরাকান আর্মির কতদূর এগিয়েছে- সেটি এখন বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এই অবস্থায় সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সীমান্তে বসবাসকারীদের মধ্যে। স্থানীয়রা বলছেন, আরাকানে সঙ্ঘাতময় এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর কেউ কেউ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আরাকান আর্মির সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে। কোনো কোনো সংগঠন আবার মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ফেলে যাওয়া অস্ত্রগুলো নিয়ে প্রবেশ করছেন বাংলাদেশে। স্থানীয়রা এমন ২৩ জনকে আটকের পর বিজিবির হেফাজতে নিয়ে তাদেরকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১২টি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম হোসেন বলেন, এই ২৩ জন ব্যক্তি সশস্ত্র ছিল। যাদের অনেকের কাছে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কার্ড ছিল। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। তবে তারা কেন যাচ্ছে? কিভাবে যাচ্ছে এই প্রশ্ন আমাদেরও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের বেশির ভাগ নবী হোসেনের নেতৃত্বাধীন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্য। আটক হওয়ার আগের রাতে আরাকান আর্মির সাথে তাদের যুদ্ধ হয়। এতে তাদের দশজনের মতো মারাও গেছে। তিনি জানান, তারা আরাকান আর্মির সাথে যুদ্ধে টিকতে না পেরে কেউ কেউ পালিয়ে এসেছেন। তাদেরকেই মূলত স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। প্রশ্ন থেকে যায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যুদ্ধেই বা কেন জড়াচ্ছে বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো? রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জুনাইদ নামে এক শিক্ষিত যুবকের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সশস্ত্র সংগঠনগুলো সবাই চায় নিজেদের শক্তি জানান দিতে। তাদের জন্য দশ লাখ রোহিঙ্গা কষ্ট পাচ্ছে।

26 items selling at higher prices শিরোনাম দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার, অর্থাৎ ২৬টি পণ্য বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে গত সপ্তাহে সরকার ২৯ টি খাদ্যদ্রব্যের দাম বেঁধে দিলেও ব্যবসায়ীরা তার মধ্যে ২৬টিই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। বলা হয়েছে, ১৫ই মার্চে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নির্ধারিত দামে শুধুমাত্র ডিম, কাতলা মাছ এবং পেঁয়াজ বিক্রি হয়। সোনালী মুরগীর দাম যেখানে ২৬২ টাকা কেজি নির্ধারণ করা হয়েছিল সেখানে কয়েকটি বাজারে প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা দেখা গেছে। মসুর, মুগ বা মাসকলাইয়ের মতো বিভিন্ন ধরনের ডাল প্রতি কেজি দাম সীমার চেয়ে ৫-৩৫ টাকা বেশি। দোকানদাররা জানাচ্ছেন তারা বেশি দামে পণ্য কেনেন এবং নির্ধারিত দাম মেনে চললে তারা ব্যবসা চালাতে পারবেন না। সীমিত এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের লোকেরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামের কারণে হিমশিম খাচ্ছেন।

 

বিশ্বে পণ্যের দাম কমার সুফল দেশে মেলেনি শিরোনাম যুগান্তর পত্রিকার। আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমলেও বাংলাদেশের বাজারে সে হারে প্রভাব পড়েনি বলা হচ্ছে প্রতিবেদনে।

এর প্রধান কারণ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নকে। ডলারের দাম বৃদ্ধির সাথে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যে হারে কমেছে, সে হারে বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব পড়েনি। এর প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নকে। ডলারের দাম বৃদ্ধিতে আমদানি খরচ বেড়েছে। ফলে বেড়েছে পণ্যের দামও। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম যেটুকু কমেছে, তার একটি অংশ টাকার মান কমার সঙ্গে সমন্বয় হয়েছে। এছাড়া রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পণ্যের সরবরাহে বাধাগ্রস্ত হওয়া, দেশের বাজারে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে পণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতাও পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে দেখা যায়, পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মানুষের খাদ্যসহ নিত্যপণ্য ও সেবা কেনার খরচ বেড়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারিতে হয়েছে ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ হার বেড়েছে। যদিও গত ডিসেম্বরের তুলনায় বেড়েছে, গত জানুয়ারির তুলনায় সামান্য কমেছে। এদিকে বারো মাসের হিসাবে গড় মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত বছরের চড়া মূল্যস্ফীতির সঙ্গে এবারের সমন্বয় হওয়ার কারণে গড় মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে।

সূত্র জানায়, ২০২২ সালের এপ্রিলে ডলারের দাম ছিল ৮৫ টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে এখন তা বেড়ে ১১০ টাকা দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বাজারে আমদানিতে প্রতি ডলারের দাম গড়ে ১২২ থেকে ১২৪ টাকা। এক মাস আগে ১২৭ টাকায় উঠেছিল। এ হিসাবে টাকার মান কমেছে ৩০ শতাংশ থেকে ৪৮ শতাংশ। একই সঙ্গে ডলার সংকটের কারণে বেশির ভাগ পণ্য আমদানি হচ্ছে ঋণের মাধ্যমে। দুইভাবে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। দেশের ব্যাংক থেকে টাকায় ঋণ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশ থেকে ডলার ঋণ করে পণ্য আনা হচ্ছে। দুই বাজারেই সুদ হার বেড়েছে। আমদানি ঋণের বিপরীতে এখন ১৩ শতাংশের বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। আগে ছিল ৯ শতাংশ। বিদেশি ঋণের সুদ আগে ছিল ৪ থেকে ৫ শতাংশ। এখন তা বেড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশ হয়েছে। একদিকে বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে দেশি ঋণের সুদ দিতে হচ্ছে আগের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি। বিদেশি ঋণের সুদ দিতে হচ্ছে আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। এতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপণ্যসহ প্রায় সব পণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে সয়াবিন তেলের দাম কমেছে ৫২ শতাংশ, গমের দাম ৩৬ শতাংশ, চিনির দাম গত অক্টোবর পর্যন্ত ১৮ শতাংশ বেড়ে এখন ৯ শতাংশ কমেছে। পামওয়েলের দাম কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। কিন্তু দেশের বাজারে এর দাম আরও বেড়েছে। আগে প্রতি লিটার বোতলজাত পামওয়েল ছিল ১৪৫ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৮ টাকা। অথচ ওই সময়ে পামওয়েলের কর কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৩৬ শতাংশ কমে এখন আবার ৯ শতাংশ বেড়েছে। কমার হার বেশি হওয়ায় জাহাজ ভাড়া কমেছে। এতে পণ্যের দাম আরও বেশি হ্রাস পাওয়ার কথা। কিন্তু সেটি হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের বাজারে পণ্যের দাম না কমার পেছনে তারা আরও একটি কারণকে চিহ্নিত করেছে। সেটি হচ্ছে বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা। কোন পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমা বা বাড়ার কারণে দেশের বাজারে এর কি প্রভাব পড়বে তার কোনো কাঠামো তৈরি করা নেই। যে কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারে পণ্যের দামে সমন্বয় সঠিকভাবে হচ্ছে না।

 

 

চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ট্রাফিক পুলিশ, নেই শৌচাগার ও বিশ্রামের সুবিধা, বাড়ছে কিডনিসহ নানা রোগ দৈনিক ইত্তেফাকের খবর এটি। খবরে রাজধানী ঢাকার পরিবেশ পরিস্থিতিতে ট্রাফিক পুলিশের কতটা কঠিন অবস্থা তৈরি করছে সেটা বর্ননা করা হয়েছে।

রাজধানীতে ধারণক্ষমতার চেয়েও প্রায় ছয় গুণ যানবাহন চলাচলের কারণে তীব্র পরিবেশদূষণ হচ্ছে। ধুলাবালি ও হর্নের কারণে একজন সুস্থ মানুষের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার পরিবেশ থাকে না। মাস্ক ছাড়া চলাচল করলে ফুসফুসজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন অবস্থায় সারা দিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডিউটি করেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। বিশেষ করে ট্রাফিক কনস্টেবলরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। ঢাকা শহরে ট্রাফিক পুলিশ মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এছাড়া ঢাকার বাইরে মেট্রোপলিটন শহরে এবং হাইওয়েতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ডিউটি করছেন তারা। ধুলোবালি রোদ-বৃষ্টি, ঝড় ও শব্দদূষণ যেন ট্রাফিক পুলিশের নিত্যসঙ্গী। দিন-রাত রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয় তাদের। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে নানা বিড়ম্বনা। গাড়ির চালক ও পথচারীদের বেশির ভাগেরই রয়েছে আইন ভাঙার প্রবণতা। আইন মানাতে ট্রাফিক পুলিশকে অনেকটা হুমকি-ধমকির মুখোমুখি হতে হয়। তবুও এত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দায়িত্ব পালন করতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। নগরীর চাকা সচল রাখতে এক নাগাড়ে আট ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করে ট্রাফিক পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে শ্বাসকষ্ট, টিবি কিডনি, হার্ট, কান ও মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জটিল সমস্যা হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশরা তো আমাদেরই পরিবারের সদস্য। এটা ভুলে গেলে হবে না, তারা এদেশের নাগরিক। তাদের নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন করা উচিত। আমাদের রক্ষা করতে গিয়ে তারা নিজেরাই ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। ধুলোবালি রোদ-বৃষ্টি, ঝড়ের মধ্যেও একজন মানুষ হিসেবে যে পরিশ্রম তারা করে, সেই তুলনায় তারা বিশ্রামের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের জন্য রাস্তার পাশে শৌচাগারসহ বিশ্রামের ব্যবস্থা সিটি করপোরেশনসহ দায়িত্বশীল বিভাগকে মানবিক বিবেচনায় করা উচিত। দীর্ঘ সময় বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের মধ্যে ডিউটিতে থাকার কারণে সবচেয়ে জটিল রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা। একাধিক সদস্য পালাক্রমে ডিউটি করতে পারলে কিছুটা ঝুঁকি কমে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ডিউটি করতে গিয়ে অনেক ট্রাফিক পুলিশ নানা রোগে ভুগছেন। রাজধানী ঢাকা বায়ু ও শব্দদূষণে বিশ্বের শীর্ষে। গাড়ির ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের প্রেক্ষিতে যেসব রোগ হতে পারে, তার সব হওয়ার ঝুঁকি সবচে বেশি ট্রাফিক পুলিশের।’ চর্ম ও যৌনরোগ-বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এনএন হুদা বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে থাকা ও বায়ুদূষণের প্রভাবে ট্রাফিক পুলিশের চর্মরোগ, এলার্জি হতে পারে। তারা একধরনের পলেস্টার জাতীয় কাপড় পরিধান করে রোদ্রের মধ্যে ডিউটি করেন। এই কারণে তাদের চর্ম রোগের ঝুঁকি অনেক বেশি। এই ধরনের রোগী তার কাছে প্রায়ই আসছে। ট্রাফিক পুলিশকে যে ছাতা দেওয়া হয়, সেটা তেমনভাবে সান প্রোটেকশন দিতে পারে না। এতে শারীরিক নানা সমস্যার ঝুঁকির মধ্যে তারা রয়েছেন।’

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024