মধ্যপ্রাচ্যে টানা পাঁচ মাস ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরান-সংকটের অবসান ঘটাতে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার মৌলিক কাঠামো নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই আপাতত ইরানের ওপর নতুন সামরিক হামলার নির্দেশ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শক্তি প্রয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সমঝোতার সুযোগ দিতে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়। সেই অনুরোধ বিবেচনায় নিয়েই হামলা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
‘হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দিতে হবে’
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো হরমুজ প্রণালিকে অবিলম্বে, সম্পূর্ণ এবং নিঃশর্তভাবে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য খুলে দেওয়া। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকিরও স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ফলে হরমুজ প্রণালি সচল রাখার প্রশ্নটি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘ইসরায়েলও এই সিদ্ধান্তে একমত’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সম্ভাব্য সমঝোতা সফল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের সঙ্গে ইসরায়েলও একমত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, দ্রুত একটি চুক্তি সম্পন্ন করা গেলে তা শুধু বিশ্বের জন্যই নয়, একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ইরানের ভবিষ্যতের জন্যও ইতিবাচক হবে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুতই আবার সামরিক পদক্ষেপে ফিরতে পারে।
উত্তেজনার পটভূমি
সম্প্রতি জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের আকস্মিক হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করে ওয়াশিংটন। এরপর থেকেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য সংঘাতের অবসান ঘটানো, তবে প্রয়োজনে ইরানের ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করা হবে, যা তারা আর সহ্য করতে পারবে না।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট অভিযোগ করেছেন, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির সমঝোতা ইরান নিজেই লঙ্ঘন করেছে। তাঁর দাবি, সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পরও ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং মার্কিন সেনাদের হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে, ইরান এ অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী অবস্থান নিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা
এদিকে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের ১০টি দেশে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। সম্ভাব্য বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া, আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কতা জারি করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















