ভারতে বাণিজ্যিক তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম প্রায় ২০০ রুপি কমানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে কয়েক দফায় দাম বেড়ে যাওয়ার পর এটি দ্বিতীয় দফার মূল্যহ্রাস। তবে একই সঙ্গে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবহৃত বিমান জ্বালানির (এটিএফ) দাম প্রতি লিটারে ৫ রুপি বাড়ানো হয়েছে।
বাণিজ্যিক গ্যাসে স্বস্তি, গৃহস্থালি গ্যাস অপরিবর্তিত
তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো শনিবার নতুন মূল্য ঘোষণা করে। এতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হলেও গৃহস্থালি এলপিজির দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অন্যদিকে, অভিবাসী শ্রমিকদের ব্যবহৃত ৫ কেজির মুক্তবাজার এলপিজি সিলিন্ডারের দামও ৪৬ রুপি কমানো হয়েছে।
নতুন দামে দিল্লিতে একটি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৩৮ রুপি, যা আগের তুলনায় ১৯২ রুপি কম। একই সঙ্গে ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম কমে হয়েছে ৭৬২ রুপি।
কলকাতায় সবচেয়ে বেশি মূল্যহ্রাস
মুম্বাইয়ে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কমে হয়েছে ২ হাজার ৬৯১ দশমিক ৫০ রুপি। চেন্নাইয়ে নতুন মূল্য ২ হাজার ৯০৬ রুপি। বড় শহরগুলোর মধ্যে কলকাতায় সবচেয়ে বেশি ২০৯ রুপি কমেছে, ফলে সেখানে একটি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৭২ দশমিক ৫০ রুপি।
রেস্তোরাঁ ও শিল্পখাতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
রেস্তোরাঁ খাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই মূল্যহ্রাস বিশেষ করে ছোট ও স্বাধীন রেস্তোরাঁগুলোর জন্য বড় স্বস্তি এনে দেবে। তাদের মতে, পরিচালন ব্যয় কমলে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দেওয়া সহজ হবে।
অন্যদিকে, কাচশিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, সার্বক্ষণিক চালু থাকা কারখানার জন্য নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় ২০০ রুপি সাশ্রয়ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। উৎসব মৌসুম সামনে থাকায় এই সিদ্ধান্ত শিল্পখাতের জন্য সময়োপযোগী বলেও তারা মনে করছেন।
সরবরাহে চাপ কমলেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংকটের পর এলপিজি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় হওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আগে উল্লেখযোগ্য অংশের গ্যাস একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে এলেও এখন বিকল্প উৎস ব্যবহারের ফলে চাপ কিছুটা কমেছে। তবে এলপিজি বিক্রিতে ক্ষতির চাপ পুরোপুরি কাটেনি।
বিমান জ্বালানির দাম আবার বেড়েছে
এদিকে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবহৃত বিমান জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে ৫ রুপি বাড়িয়ে ১১৫ রুপি করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে একই পরিমাণ দাম কমানোর পর এবার সেই হ্রাস পুরোপুরি সমন্বয় করা হলো।
সব মিলিয়ে, চলতি বছরের দুই দফার মূল্যহ্রাসে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মোট প্রায় ৩৮০ রুপি কমেছে। একই সময়ে ৫ কেজির মুক্তবাজার সিলিন্ডারের দামও মোট প্রায় ৬০ রুপি কমেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















