১২:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
অং সান সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কর্মকর্তার সাক্ষাৎ, অভ্যুত্থানের পর প্রথম প্রকাশ্য বিদেশি যোগাযোগ চট্টগ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমছে শিক্ষার্থী, সংকটে শত শত স্কুল যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে লাগতে পারে ১ লাখ ডলার! ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব ঘিরে উদ্বেগ ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা: সোমবার শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, নেই কোনো সময়সীমা পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে রক্তাক্ত বিক্ষোভ: স্বজন হারানোর কান্নায় ভারী রাওয়ালাকোট, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বাড়ছে সংকট পাকিস্তানে জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১৪ সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার অর্থ কী? চুল পড়া ঠেকাতে পেঁয়াজ, মেথি বা কালো জিরার তেল কি সত্যি কার্যকরী? পরপর দু’টি বোমা উদ্ধারের মধ্যেই পুলিশের সতর্কতা জারি, পরিস্থিতি কতটা ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু, আহত আরও দুই

পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ১৭ কর্মী ছাঁটাই, ডিএসই বলছে এটি দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের পরিকল্পনা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ১৭ জন কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি কোনো আকস্মিক বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়; বরং ২০২২ সাল থেকে চলমান দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা

রোববার ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বার্তায় বলা হয়, কর্মী অব্যাহতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে।

ব্যবসায়িক বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত

ডিএসই জানায়, বিশ্বের অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশেও নিয়োগ ও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া একটি স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া। ব্যবসায়িক বাস্তবতা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কিংবা কৌশলগত প্রয়োজনের ভিত্তিতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির মোট ৩৫০ জন কর্মীর মধ্যে মাত্র ১৭ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা মোট জনবলের পাঁচ শতাংশেরও কম। ডিএসইর ভাষ্য, নির্দিষ্ট কিছু পদে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত পক্ষপাত বা বৈষম্যের প্রশ্ন নেই।

Taka gains against dollar in one and a half month

শ্রম আইনের বিধান মেনেই প্রক্রিয়া

ডিএসইর দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২৬ ধারাসহ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান চাকরিবিধি অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে। ওই আইনে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী নোটিশ অথবা নোটিশের পরিবর্তে অর্থ প্রদান করে নিয়োগকর্তা কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, যেমন কর্মীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে কারণ না দেখিয়েও চাকরি ছাড়তে পারেন, তেমনি আইন নিয়োগকর্তাকেও নির্দিষ্ট শর্তে একই ধরনের সুযোগ দিয়েছে।

আইনের চেয়েও বেশি ক্ষতিপূরণ

ডিএসই জানায়, শ্রম আইনে চার মাসের বেতনের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান থাকলেও তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অতিরিক্ত দুই মাসের বেতনও দিয়েছে। ফলে অব্যাহতি পাওয়া প্রত্যেক কর্মী মোট ছয় মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পেয়েছেন।

এ ছাড়া চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে প্রভিডেন্ট তহবিল, অবসর ভাতা, অব্যবহৃত ছুটির অর্থ এবং অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দেওয়া হবে। অনেকের ক্ষেত্রে এসব সুবিধার পরিমাণ আরও কয়েক মাসের বেতনের সমান হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

পাওনা গ্রহণে যোগাযোগের দাবি

ডিএসইর বক্তব্য অনুযায়ী, অব্যাহতি পাওয়া কর্মীদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে যাতে তারা দ্রুত তাদের সব পাওনা বুঝে নেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে অভিজ্ঞতার সনদ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত সহায়তাও অব্যাহত থাকবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে চাকরির সুযোগ, জানুন আবেদন পদ্ধতি ও যোগ্যতা

মর্যাদা রক্ষার দাবি

ডিএসই বলেছে, পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সংবেদনশীলতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হয়েছে এবং কাউকেই কোনো ধরনের অপমানজনক বা অসম্মানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।

গুজব এড়িয়ে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান

কর্মী অব্যাহতির পর বিভিন্ন বক্তব্য ও মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ডিএসই জানায়, অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য বা প্রেক্ষাপট ছাড়াই নানা মন্তব্য করা হচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানিয়েও প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমন বক্তব্য দেওয়ার আগে তথ্য যাচাই করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।

সুশাসন ও আস্থার প্রতিশ্রুতি

ডিএসই পুনরায় জানিয়েছে, তারা আইন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে বিদায় নেওয়া কর্মীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করেছে।

বিনিয়োগকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, অংশীজন এবং সাধারণ জনগণকে আশ্বস্ত করে ডিএসই বলেছে, ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্বশীল, শক্তিশালী ও আধুনিক পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইন ও সর্বোচ্চ পেশাগত মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অং সান সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কর্মকর্তার সাক্ষাৎ, অভ্যুত্থানের পর প্রথম প্রকাশ্য বিদেশি যোগাযোগ

পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ১৭ কর্মী ছাঁটাই, ডিএসই বলছে এটি দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের পরিকল্পনা

১১:০৯:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ১৭ জন কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি কোনো আকস্মিক বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নয়; বরং ২০২২ সাল থেকে চলমান দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা

রোববার ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বার্তায় বলা হয়, কর্মী অব্যাহতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে।

ব্যবসায়িক বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত

ডিএসই জানায়, বিশ্বের অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশেও নিয়োগ ও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া একটি স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া। ব্যবসায়িক বাস্তবতা, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কিংবা কৌশলগত প্রয়োজনের ভিত্তিতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির মোট ৩৫০ জন কর্মীর মধ্যে মাত্র ১৭ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা মোট জনবলের পাঁচ শতাংশেরও কম। ডিএসইর ভাষ্য, নির্দিষ্ট কিছু পদে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত পক্ষপাত বা বৈষম্যের প্রশ্ন নেই।

Taka gains against dollar in one and a half month

শ্রম আইনের বিধান মেনেই প্রক্রিয়া

ডিএসইর দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২৬ ধারাসহ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান চাকরিবিধি অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে। ওই আইনে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী নোটিশ অথবা নোটিশের পরিবর্তে অর্থ প্রদান করে নিয়োগকর্তা কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, যেমন কর্মীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে কারণ না দেখিয়েও চাকরি ছাড়তে পারেন, তেমনি আইন নিয়োগকর্তাকেও নির্দিষ্ট শর্তে একই ধরনের সুযোগ দিয়েছে।

আইনের চেয়েও বেশি ক্ষতিপূরণ

ডিএসই জানায়, শ্রম আইনে চার মাসের বেতনের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান থাকলেও তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অতিরিক্ত দুই মাসের বেতনও দিয়েছে। ফলে অব্যাহতি পাওয়া প্রত্যেক কর্মী মোট ছয় মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পেয়েছেন।

এ ছাড়া চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে প্রভিডেন্ট তহবিল, অবসর ভাতা, অব্যবহৃত ছুটির অর্থ এবং অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধাও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দেওয়া হবে। অনেকের ক্ষেত্রে এসব সুবিধার পরিমাণ আরও কয়েক মাসের বেতনের সমান হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

পাওনা গ্রহণে যোগাযোগের দাবি

ডিএসইর বক্তব্য অনুযায়ী, অব্যাহতি পাওয়া কর্মীদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে যাতে তারা দ্রুত তাদের সব পাওনা বুঝে নেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে অভিজ্ঞতার সনদ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত সহায়তাও অব্যাহত থাকবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে চাকরির সুযোগ, জানুন আবেদন পদ্ধতি ও যোগ্যতা

মর্যাদা রক্ষার দাবি

ডিএসই বলেছে, পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সংবেদনশীলতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হয়েছে এবং কাউকেই কোনো ধরনের অপমানজনক বা অসম্মানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।

গুজব এড়িয়ে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান

কর্মী অব্যাহতির পর বিভিন্ন বক্তব্য ও মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ডিএসই জানায়, অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য বা প্রেক্ষাপট ছাড়াই নানা মন্তব্য করা হচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানিয়েও প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমন বক্তব্য দেওয়ার আগে তথ্য যাচাই করা সবার নৈতিক দায়িত্ব।

সুশাসন ও আস্থার প্রতিশ্রুতি

ডিএসই পুনরায় জানিয়েছে, তারা আইন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে বিদায় নেওয়া কর্মীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করেছে।

বিনিয়োগকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, অংশীজন এবং সাধারণ জনগণকে আশ্বস্ত করে ডিএসই বলেছে, ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্বশীল, শক্তিশালী ও আধুনিক পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইন ও সর্বোচ্চ পেশাগত মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।