০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ, প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বলল মেক্সিকোর শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান অনুমোদন করল মিয়ানমারের জান্তা যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন? রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১৭ মিয়ানমারের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ২১ শতকের নতুন ‘গ্রেট গেম’  ও বাংলাদেশ    এআই কর্মসংস্থান, ফেডের নতুন দিকনির্দেশনা ও মূল্যস্ফীতির বৈষম্য—বিশ্ব অর্থনীতিতে তিন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন মোদির ভিডিও সরানো বিতর্ক: তিন দিনের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা হারানোর হুঁশিয়ারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাকরি-ঝড়, নতুন ফেড ও ‘দুই গতির’ মূল্যস্ফীতি: বিশ্ব অর্থনীতি কোন মোড়ে দাঁড়িয়ে?

যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন?

যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সম্পর্ক নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনেক ঐতিহ্যগত মিত্র দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়লেও টোকিওর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক বরং আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ একযোগে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করে ইয়েনের মান শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়ায় সেই ঘনিষ্ঠতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ইয়েনকে সমর্থনে যৌথ পদক্ষেপ

সম্প্রতি জাপানের মুদ্রা ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান সমন্বিতভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করে। এই পদক্ষেপকে অনেক অর্থনীতিবিদ শুধু আর্থিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি অংশগ্রহণ জাপানের দীর্ঘদিনের মুদ্রানীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এতদিন ইয়েনের মান রক্ষায় টোকিওকে এককভাবে উদ্যোগ নিতে হলেও এখন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সমর্থন পাওয়ায় পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে।

How safe is the yen under the U.S. umbrella? - The Japan Times

‘বন্ধুত্বের নিদর্শন’ বললেন ট্রাম্প

এই যৌথ হস্তক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এটি ছিল ‘বন্ধুত্বের নিদর্শন’। তিনি আরও বলেন, জাপান সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভালো আচরণ করেছে—তবে তিনি আবারও পার্ল হারবারে ১৯৪১ সালের হামলার প্রসঙ্গ টেনে রসিকতা করেন।

ট্রাম্প অতীতেও একাধিকবার এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের সময়ও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন, যা কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়েছিল।

কূটনৈতিক অস্বস্তির চেয়ে অর্থনৈতিক লাভ বেশি গুরুত্বপূর্ণ

US dollar weakens sharply against the Japanese yen after market  interventions | WJTV

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের মন্তব্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হলেও জাপানের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব সহায়তা।

ওয়াশিংটনের সরাসরি সমর্থন জাপানের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক বার্তা। কারণ এতে শুধু মুদ্রাবাজারে আস্থা বাড়বে না, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও স্পষ্ট হবে যে প্রয়োজনে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী অর্থনীতি জাপানের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।

অর্থনৈতিক জোটের নতুন রূপ

পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোট এখন শুধু নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রয়োজনে দুই দেশ একে অপরের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষাতেও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যৌথ হস্তক্ষেপ সেই পরিবর্তিত বাস্তবতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ভবিষ্যতে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে জাপানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন?

০৪:১৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সম্পর্ক নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনেক ঐতিহ্যগত মিত্র দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়লেও টোকিওর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক বরং আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ একযোগে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করে ইয়েনের মান শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়ায় সেই ঘনিষ্ঠতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ইয়েনকে সমর্থনে যৌথ পদক্ষেপ

সম্প্রতি জাপানের মুদ্রা ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান সমন্বিতভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করে। এই পদক্ষেপকে অনেক অর্থনীতিবিদ শুধু আর্থিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সরাসরি অংশগ্রহণ জাপানের দীর্ঘদিনের মুদ্রানীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এতদিন ইয়েনের মান রক্ষায় টোকিওকে এককভাবে উদ্যোগ নিতে হলেও এখন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সমর্থন পাওয়ায় পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে।

How safe is the yen under the U.S. umbrella? - The Japan Times

‘বন্ধুত্বের নিদর্শন’ বললেন ট্রাম্প

এই যৌথ হস্তক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এটি ছিল ‘বন্ধুত্বের নিদর্শন’। তিনি আরও বলেন, জাপান সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ভালো আচরণ করেছে—তবে তিনি আবারও পার্ল হারবারে ১৯৪১ সালের হামলার প্রসঙ্গ টেনে রসিকতা করেন।

ট্রাম্প অতীতেও একাধিকবার এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের সময়ও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন, যা কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়েছিল।

কূটনৈতিক অস্বস্তির চেয়ে অর্থনৈতিক লাভ বেশি গুরুত্বপূর্ণ

US dollar weakens sharply against the Japanese yen after market  interventions | WJTV

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের মন্তব্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হলেও জাপানের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব সহায়তা।

ওয়াশিংটনের সরাসরি সমর্থন জাপানের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক বার্তা। কারণ এতে শুধু মুদ্রাবাজারে আস্থা বাড়বে না, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও স্পষ্ট হবে যে প্রয়োজনে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী অর্থনীতি জাপানের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।

অর্থনৈতিক জোটের নতুন রূপ

পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোট এখন শুধু নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রয়োজনে দুই দেশ একে অপরের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষাতেও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যৌথ হস্তক্ষেপ সেই পরিবর্তিত বাস্তবতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান ভবিষ্যতে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে জাপানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।