থাইল্যান্ডের সাবেক শিশুশিল্পী এবং বর্তমানে যোগ প্রশিক্ষক হিসেবে পরিচিত ব্রিওহনি স্মিথ একটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, উড়োজাহাজে পরিবেশিত খাবারের সঙ্গে থাকা মুরগির সাটের কাঠের শিকের একটি ধারালো টুকরো অসাবধানতাবশত গিলে ফেলায় তাঁর কণ্ঠনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে তিনি গলার নানা সমস্যায় ভুগছেন, যা তাঁর পেশাগত জীবনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
উড়োজাহাজে খাবার খাওয়ার সময় ঘটে দুর্ঘটনা
মামলায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই সিঙ্গাপুর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী একটি প্রথম শ্রেণির ফ্লাইটে ব্রিওহনি স্মিথকে মুরগির সাটে পরিবেশন করা হয়। খাবার খাওয়ার সময় শিকের প্রায় দেড় ইঞ্চি লম্বা একটি ধারালো কাঠের অংশ ভেঙে তাঁর গলায় আটকে যায় বলে অভিযোগ।
তিনি দাবি করেন, সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ব্যথা, প্রবল কাশি এবং শ্বাসরোধের মতো অনুভূতি শুরু হয়। উড়োজাহাজের মধ্যেই দীর্ঘ চেষ্টার পর তিনি গলা থেকে কাঠের টুকরোটি বের করতে সক্ষম হন।

দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির অভিযোগ
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর থেকে স্মিথের গলায় অস্বস্তি, কণ্ঠ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, কর্কশ স্বর, গলায় টান এবং দীর্ঘ সময় কথা বলা বা গান গাওয়ার সময় ব্যথা অব্যাহত রয়েছে।
পরে তিনি কান, নাক ও গলা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হলে পরীক্ষায় তাঁর কণ্ঠনালীতে দাগ ও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা ধারালো কোনো বিদেশি বস্তুর কারণে হয়েছে বলে চিকিৎসক মত দেন।
পেশাগত ক্ষতির দাবিও তুলেছেন
মামলায় স্মিথ নিজেকে পেশাদার গায়িকা, পরিবেশক, সুস্থতা বিষয়ক প্রশিক্ষক এবং জনসমক্ষে বক্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, কণ্ঠই তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। ফলে এই ঘটনার কারণে শুধু শারীরিক নয়, পেশাগত ও আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হয়েছেন তিনি।

এছাড়া খাবার খাওয়া ও বিমানে ভ্রমণ নিয়ে মানসিক উদ্বেগও তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ দাবি
স্মিথ আদালতের কাছে অতীত ও ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয়, আয়ের ক্ষতি, ভবিষ্যৎ উপার্জনের সক্ষমতা হ্রাস, মানসিক কষ্ট এবং মামলার ব্যয় বাবদ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















