যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে চীন। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন ও ড্রোন-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এবং প্রযুক্তি রপ্তানিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের পাশাপাশি ছয়টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বেইজিং।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্ক বৃদ্ধি, জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নেওয়া নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে আরোপিত বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা চীনের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ কারণে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ড্রোন রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ
চীনের ঘোষিত পদক্ষেপের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন, এর গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ। বেইজিংয়ের মতে, এসব পণ্যের রপ্তানি সীমিত করা তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অংশ।
এর পাশাপাশি চীনা স্বীকৃতি প্রদানকারী সংস্থাগুলোর কারখানা পরিদর্শন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কয়েকটি মার্কিন মান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং অফিসে ব্যবহৃত প্রিন্টার ও নথি অনুলিপি যন্ত্র আমদানির বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা তদন্তও শুরু করা হয়েছে।
ছয়টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা
চীন ছয়টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর মধ্যে জৈবপ্রযুক্তি এবং ভূবিজ্ঞান গবেষণার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। চীনের ভেতরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন, সহযোগিতা কিংবা অন্য কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান শিনজিয়াং ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন ও সহায়তা করেছে। তাদের কর্মকাণ্ডকে বেইজিং গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে।
শিনজিয়াং নিয়ে পুরোনো বিরোধ
শিনজিয়াং অঞ্চলে প্রধানত মুসলিম উইঘুর জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বহুদিনের। জাতিসংঘ সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। তবে চীন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে।
উত্তেজনা বাড়াচ্ছে নতুন শুল্ক
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র চীনসহ ৫৯টি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে। এর আগে বিদেশে তৈরি মানবাকৃতির এবং চার পায়ের চলমান যন্ত্রমানব আমদানিও নিষিদ্ধ করে ওয়াশিংটন। এসব পদক্ষেপকে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দমন করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে বেইজিং।
চীনের শীর্ষ বাণিজ্য কর্মকর্তা হে লিফেং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলেও জানানো হয়েছে।
বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা আবারও জোরালো
গত বছর দীর্ঘ সময় ধরে বাণিজ্যিক উত্তেজনার পর দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল। তবে নতুন শুল্ক এবং পাল্টা পদক্ষেপ সেই সমঝোতাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দুই বৃহৎ অর্থনীতির এই পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি খাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















