ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। রাজ্য লোকসেবা কমিশন (জেপিএসসি) এবং জেএসএসসি সিজিএল নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তারা ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১০ আগস্ট ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি নির্ধারিত সময়েই পালন করা হবে।
রাঁচিতে চলমান বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচির মধ্যে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর ও ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যদিও সরকার আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে, আন্দোলনকারীরা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, তারা দৃশ্যমান ব্যবস্থা চান।
পরিস্থিতির মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গোয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জেপিএসসি নিয়োগ-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা করেন। রাজভবনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাজ্যপাল অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং কমিশনগুলোর কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত যাতে তাদের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাহুল ক্রান্তি সংবাদমাধ্যম এএনআইকে বলেন, শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত থাকলেও সরকারের আচরণে ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, সরকার নিজস্ব সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের কথা বলছে, কিন্তু যদি সত্যিই নিরপেক্ষ তদন্তের ইচ্ছা থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে আপত্তি কোথায়?
আরেক আন্দোলনকারী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করছেন না। তাই তারা মনে করেন, তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তার পদত্যাগ করা উচিত।
শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব এলেও তারা নিজেরাই একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুরুতে তারা চেয়েছিলেন সরকারি প্রতিনিধিরা আন্দোলনস্থলে এসে কথা বলুক। তবে তা না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ
শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র পীযূষ কুমার সিং জানান, বুধবার বিকেলে সরকারের প্রতিনিধিরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করেন এবং পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে বৈঠকে পাঠানোর অনুরোধ জানান। তবে বন্ধ কক্ষে বৈঠকে অংশ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তখনও শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেননি। শিগগিরই প্রতিনিধি দল চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে আন্দোলনকারীরা ‘তিরঙ্গা মার্চ’ কর্মসূচি পালন করে আবারও মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চাকরি বিক্রির অভিযোগ বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতে হওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
অনশনকারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
টানা তিন দিনের অনশনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। একজন আন্দোলনকারী জানান, দাঁড়ালেই মাথা ঘোরে এবং দুর্বলতার কারণে কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে।
আরেক শিক্ষার্থী আবেগঘন ভাষায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তাদের অভিভাবকের মতো। সন্তানরা অনাহারে থাকলে একজন অভিভাবকেরও কষ্ট হওয়া উচিত। তারা শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপ ও ন্যায়বিচার চান।
এই আন্দোলনে ঝাড়খণ্ড ক্রান্তিকারী লোকতান্ত্রিক মোর্চার (জেকেএলএম) নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোও অনির্দিষ্টকালের অনশনে যোগ দিয়েছেন। সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি বুধবার পানি পান করেন। ওয়াংচুক তাকে বলেন, আন্দোলনের উদ্দেশ্য সরকারের বিবেক জাগিয়ে তোলা, আত্মাহুতি দেওয়া নয়। তিনি অনশনকারীদের পানি ও লবণ গ্রহণেরও পরামর্শ দেন।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, পরীক্ষা ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাদের অনশন ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















