১০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬
ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন আকাশযুদ্ধের কিংবদন্তি ল্যাঙ্কাস্টার: ভুল পরিকল্পনা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ বোমারু বিমানের উত্থান ‘প্যানজার’ ভেবে ভুল, আসলে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্যাটন ট্যাংক চীনের চাপের মুখে যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার, তাইওয়ানের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু এক দশকের ভালোবাসার প্রতিদান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম স্টেডিয়াম কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন চার্লি পুথ রোগীর আস্থা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল ব্যবহার সম্ভব নয়: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাপটের গাড়ি থেকে ‘ভয়ের প্রতীক’: কেন বদলে গেল মাহিন্দ্রা থারের ভাবমূর্তি? কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের আইনি লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে, আইনজীবীর সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি জাতিসংঘের সামনে তিব্বতি কর্মীর আত্মাহুতি, নতুন করে আলোচনায় তিব্বত আন্দোলন ব্ল্যাকপিঙ্কের ১০ বছর: উদযাপনের অপেক্ষায় ভক্তরা, কিন্তু বাড়ছে হতাশা

কেরালায় বন্যায় নিহতদের পরিবারকে ৮ লাখ রুপি সহায়তা, মৃত বেড়ে ২৬

প্রবল বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কেরালায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৮ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া বাড়ি এবং জমিসহ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও শুরু করেছে সরকার।

মৃত ২৬, এখনও নিখোঁজ ৪ জন

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জানান, গত এক সপ্তাহের প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে পৌঁছেছে। এখনও অন্তত ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার ও ত্রাণকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রশাসন নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

৪৬২টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ২৭ হাজারের বেশি মানুষ

বন্যার কারণে বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষকে রাজ্যের বিভিন্ন ত্রাণকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৪৬২টি ত্রাণশিবিরে ২৭ হাজার ৪৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিবির রয়েছে পাথানামথিট্টা জেলায় ১৫৭টি, কোট্টায়মে ১৫৪টি এবং আলাপ্পুঝায় ৮১টি।

Kerala announces comprehensive flood relief package, Rs 8 lakh aid for kin  of deceased

বাড়ানো হলো ক্ষতিপূরণের পরিমাণ

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া বাড়ির জন্য ক্ষতিপূরণ ৪ লাখ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ রুপি করা হয়েছে। আর জমি ও বাড়ি—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ রুপি থেকে বাড়িয়ে ১২ লাখ রুপি করা হয়েছে।

নিহতদের পরিবারের জন্য ঘোষিত ৮ লাখ রুপির মধ্যে ৪ লাখ রুপি রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল থেকে, ২ লাখ রুপি মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এবং বাকি ২ লাখ রুপি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া হবে।

দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ মোকাবিলায় নতুন কর্মসূচি

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে একটি কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ-সহনশীল কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ঘোষিত এই কর্মসূচিকে তিনি দেশের জন্য একটি আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেন।

কৃষিতে অন্তত ৬৭ কোটি রুপির ক্ষতি

প্রাথমিক হিসাবে কেরালার কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ৪৪ লাখ রুপি। প্রায় ১ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ২৩ হাজার ৫৩৭ জন কৃষকের ওপর। সরকার জানিয়েছে, চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের পর ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

কেরালা সরকার বলছে, তাৎক্ষণিক ত্রাণের পাশাপাশি পুনর্বাসন, অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন

কেরালায় বন্যায় নিহতদের পরিবারকে ৮ লাখ রুপি সহায়তা, মৃত বেড়ে ২৬

০৭:৩৯:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

প্রবল বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কেরালায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৮ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া বাড়ি এবং জমিসহ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও শুরু করেছে সরকার।

মৃত ২৬, এখনও নিখোঁজ ৪ জন

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর জানান, গত এক সপ্তাহের প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে পৌঁছেছে। এখনও অন্তত ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার ও ত্রাণকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রশাসন নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

৪৬২টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ২৭ হাজারের বেশি মানুষ

বন্যার কারণে বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষকে রাজ্যের বিভিন্ন ত্রাণকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৪৬২টি ত্রাণশিবিরে ২৭ হাজার ৪৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিবির রয়েছে পাথানামথিট্টা জেলায় ১৫৭টি, কোট্টায়মে ১৫৪টি এবং আলাপ্পুঝায় ৮১টি।

Kerala announces comprehensive flood relief package, Rs 8 lakh aid for kin  of deceased

বাড়ানো হলো ক্ষতিপূরণের পরিমাণ

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া বাড়ির জন্য ক্ষতিপূরণ ৪ লাখ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ রুপি করা হয়েছে। আর জমি ও বাড়ি—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ রুপি থেকে বাড়িয়ে ১২ লাখ রুপি করা হয়েছে।

নিহতদের পরিবারের জন্য ঘোষিত ৮ লাখ রুপির মধ্যে ৪ লাখ রুপি রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল থেকে, ২ লাখ রুপি মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এবং বাকি ২ লাখ রুপি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া হবে।

দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ মোকাবিলায় নতুন কর্মসূচি

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে একটি কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ-সহনশীল কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ঘোষিত এই কর্মসূচিকে তিনি দেশের জন্য একটি আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেন।

কৃষিতে অন্তত ৬৭ কোটি রুপির ক্ষতি

প্রাথমিক হিসাবে কেরালার কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ৪৪ লাখ রুপি। প্রায় ১ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ২৩ হাজার ৫৩৭ জন কৃষকের ওপর। সরকার জানিয়েছে, চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের পর ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

কেরালা সরকার বলছে, তাৎক্ষণিক ত্রাণের পাশাপাশি পুনর্বাসন, অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হবে।