১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
সিউতার ট্র্যাজেডি: সীমান্ত ভেঙেছে শুধু মানুষ নয়, ভেঙেছে ডিজিটাল বিভ্রান্তির প্রতিরোধও মাত্র ২০ ডলারে বিশ্বতারকাদের কনসার্ট! বাড়তি টিকিটের দামে ভক্তদের স্বস্তি ফেরাতে নতুন উদ্যোগ আগুনে দুবার পুড়ে ধ্বংস: স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক শিল্পবিদ্যালয় কি আবারও ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব? চীনের আগ্রাসন ঠেকাতে যুদ্ধ প্রস্তুতি জোরদার তাইওয়ানের, শুরু ১০ দিনের বৃহৎ সামরিক মহড়া মিশিগানের প্রাইমারিকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েল ও ইহুদিবিদ্বেষ বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় রেকর্ড আয়, তবু কমছে দর্শক: বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমা দেখার অভ্যাস কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৭, দুর্বল হয়ে পড়ছে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে অভিবাসন অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, আইসিইর পদক্ষেপে আপত্তি বিমান সংস্থাগুলোর শেখ হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিলো- প্রশ্ন বিএনপির মৃত্যুদণ্ড সত্ত্বেও দেশে ফেরার পরিকল্পনার ‘জুয়া’ কেন খেলছেন শেখ হাসিনা

আগুনে দুবার পুড়ে ধ্বংস: স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক শিল্পবিদ্যালয় কি আবারও ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব?

স্কটল্যান্ডের স্থাপত্য ঐতিহ্যের অন্যতম সেরা নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত গ্লাসগো স্কুল অব আর্ট আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দুই দফা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এই ঐতিহাসিক ভবন পুনর্নির্মাণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিজেদের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। ফলে ভবনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শতবর্ষেরও বেশি পুরোনো স্থাপত্যের সংকট

১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্লাসগো স্কুল অব আর্ট ১৮৯৯ সালে নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু করে। ভবনটির নকশা করেছিলেন স্কটিশ স্থপতি চার্লস রেনি ম্যাকিন্টশ। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং স্কটল্যান্ডের শিল্প ও স্থাপত্য ইতিহাসের অন্যতম মূল্যবান সৃষ্টি হিসেবে পরিচিত।

ভবনটির নকশায় কার্যকারিতা ও নান্দনিকতার অসাধারণ সমন্বয় দেখা যায়। প্রশস্ত উত্তরমুখী স্টুডিও, সূক্ষ্ম লোহার অলংকরণ, কাচের নকশা, কাঠের শিল্পসমৃদ্ধ আসবাব এবং শিল্পনির্ভর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা এটিকে বিশ্বজুড়ে স্থাপত্যপ্রেমীদের কাছে অনন্য মর্যাদা এনে দেয়।

দুই অগ্নিকাণ্ডে অপূরণীয় ক্ষতি

২০১৪ সালে শিক্ষার্থীদের একটি শিল্পপ্রকল্পে ব্যবহৃত দাহ্য উপাদানে আগুন লেগে ভবনের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর দীর্ঘ পুনর্নির্মাণ কাজ চললেও ২০১৮ সালে ভবনটি পুনরায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যায়। দ্বিতীয় অগ্নিকাণ্ডের কারণ আজও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

দুই দফা অগ্নিকাণ্ডে ভবনের ঐতিহাসিক গ্রন্থাগার, অভ্যন্তরীণ কাঠের কাজ এবং বহু অমূল্য অলংকরণ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

অর্থের অভাবে থমকে পুনর্নির্মাণ

সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটি পুনর্নির্মাণে প্রয়োজন প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। কিন্তু এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, দ্বিতীয় দফার পুনর্নির্মাণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাস্তবে অর্থসংকটের কারণে সেই পরিকল্পনা এগোয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবনটির বীমা থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা পুনর্নির্মাণের মোট ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম।

Charles Rennie Mackintosh's Glasgow School of Art: Requiem for a  Masterpiece - WSJ

স্বাধীন ট্রাস্ট গঠনের দাবি

এই পরিস্থিতিতে স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন মহল ভবনটির পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব একটি স্বাধীন ট্রাস্টের হাতে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। তাদের যুক্তি, একটি বিশেষায়িত সংস্থা শুধুমাত্র সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণে মনোযোগ দিলে কাজ দ্রুত এবং আরও কার্যকরভাবে এগোতে পারে।

অন্যদিকে শিল্পবিদ্যালয়টি ২০১৪ সালের পর থেকে নিজেদের অন্য ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ঐতিহাসিক ভবনটি এখনও ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

পুনর্নির্মাণ নিয়ে মতভেদ

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, ভবনের বাইরের অবয়ব আগের মতো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও অভ্যন্তরের শিল্পনির্ভর পরিবেশ পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ মূল ভবনের সৌন্দর্য শুধু নকশায় নয়, বরং সেই সময়ের দক্ষ কারিগরদের হাতে তৈরি বিশেষ কাঠ, কাচ, ধাতু ও অলংকরণে নিহিত ছিল।

তাদের মতে, আধুনিক উপকরণ ব্যবহার করে একই রূপ তৈরি করা গেলেও সেটি মূল ভবনের শিল্পমান পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

অন্যদিকে অনেকে মনে করেন, ভবনটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা আরও বড় ক্ষতির কারণ হবে। অন্তত বাইরের কাঠামো দ্রুত সংরক্ষণ করা এবং ধাপে ধাপে অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকলে ভবনের অবশিষ্ট কাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা জরুরি। অনেকের আশা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, দক্ষ কারিগর এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলে স্কটল্যান্ডের এই ঐতিহাসিক শিল্পবিদ্যালয় একদিন আবারও তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিউতার ট্র্যাজেডি: সীমান্ত ভেঙেছে শুধু মানুষ নয়, ভেঙেছে ডিজিটাল বিভ্রান্তির প্রতিরোধও

আগুনে দুবার পুড়ে ধ্বংস: স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক শিল্পবিদ্যালয় কি আবারও ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব?

০৯:২৭:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

স্কটল্যান্ডের স্থাপত্য ঐতিহ্যের অন্যতম সেরা নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত গ্লাসগো স্কুল অব আর্ট আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দুই দফা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এই ঐতিহাসিক ভবন পুনর্নির্মাণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিজেদের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। ফলে ভবনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শতবর্ষেরও বেশি পুরোনো স্থাপত্যের সংকট

১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্লাসগো স্কুল অব আর্ট ১৮৯৯ সালে নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু করে। ভবনটির নকশা করেছিলেন স্কটিশ স্থপতি চার্লস রেনি ম্যাকিন্টশ। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং স্কটল্যান্ডের শিল্প ও স্থাপত্য ইতিহাসের অন্যতম মূল্যবান সৃষ্টি হিসেবে পরিচিত।

ভবনটির নকশায় কার্যকারিতা ও নান্দনিকতার অসাধারণ সমন্বয় দেখা যায়। প্রশস্ত উত্তরমুখী স্টুডিও, সূক্ষ্ম লোহার অলংকরণ, কাচের নকশা, কাঠের শিল্পসমৃদ্ধ আসবাব এবং শিল্পনির্ভর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা এটিকে বিশ্বজুড়ে স্থাপত্যপ্রেমীদের কাছে অনন্য মর্যাদা এনে দেয়।

দুই অগ্নিকাণ্ডে অপূরণীয় ক্ষতি

২০১৪ সালে শিক্ষার্থীদের একটি শিল্পপ্রকল্পে ব্যবহৃত দাহ্য উপাদানে আগুন লেগে ভবনের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর দীর্ঘ পুনর্নির্মাণ কাজ চললেও ২০১৮ সালে ভবনটি পুনরায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যায়। দ্বিতীয় অগ্নিকাণ্ডের কারণ আজও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

দুই দফা অগ্নিকাণ্ডে ভবনের ঐতিহাসিক গ্রন্থাগার, অভ্যন্তরীণ কাঠের কাজ এবং বহু অমূল্য অলংকরণ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

অর্থের অভাবে থমকে পুনর্নির্মাণ

সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটি পুনর্নির্মাণে প্রয়োজন প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। কিন্তু এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, দ্বিতীয় দফার পুনর্নির্মাণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাস্তবে অর্থসংকটের কারণে সেই পরিকল্পনা এগোয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবনটির বীমা থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা পুনর্নির্মাণের মোট ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম।

Charles Rennie Mackintosh's Glasgow School of Art: Requiem for a  Masterpiece - WSJ

স্বাধীন ট্রাস্ট গঠনের দাবি

এই পরিস্থিতিতে স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন মহল ভবনটির পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব একটি স্বাধীন ট্রাস্টের হাতে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। তাদের যুক্তি, একটি বিশেষায়িত সংস্থা শুধুমাত্র সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণে মনোযোগ দিলে কাজ দ্রুত এবং আরও কার্যকরভাবে এগোতে পারে।

অন্যদিকে শিল্পবিদ্যালয়টি ২০১৪ সালের পর থেকে নিজেদের অন্য ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও ঐতিহাসিক ভবনটি এখনও ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

পুনর্নির্মাণ নিয়ে মতভেদ

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, ভবনের বাইরের অবয়ব আগের মতো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও অভ্যন্তরের শিল্পনির্ভর পরিবেশ পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ মূল ভবনের সৌন্দর্য শুধু নকশায় নয়, বরং সেই সময়ের দক্ষ কারিগরদের হাতে তৈরি বিশেষ কাঠ, কাচ, ধাতু ও অলংকরণে নিহিত ছিল।

তাদের মতে, আধুনিক উপকরণ ব্যবহার করে একই রূপ তৈরি করা গেলেও সেটি মূল ভবনের শিল্পমান পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

অন্যদিকে অনেকে মনে করেন, ভবনটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা আরও বড় ক্ষতির কারণ হবে। অন্তত বাইরের কাঠামো দ্রুত সংরক্ষণ করা এবং ধাপে ধাপে অভ্যন্তরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘদিন ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকলে ভবনের অবশিষ্ট কাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা জরুরি। অনেকের আশা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, দক্ষ কারিগর এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলে স্কটল্যান্ডের এই ঐতিহাসিক শিল্পবিদ্যালয় একদিন আবারও তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে।