১০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব হাসিনার নির্দেশেই সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম, টিএফআই সেলে নির্যাতনের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য মোদি-যোগী বৈঠকে ২০২৭ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন: অযোধ্যা, পরীক্ষার ফাঁস ও তরুণদের ক্ষোভে চাপে বিজেপি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন ট্রাম্পের শীর্ষ জেনারেল, বড় হামলা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে উদ্বেগ ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে আগুন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে ভারতে ইউপিআই লেনদেন থাকবে বিনা খরচে, সীমিত ব্যবসায়িক পেমেন্টে বসতে পারে নামমাত্র ফি ‘ডিগ্রির কোনো মূল্য নেই’ ভারতে, তরুণদের ‘দুঃখ-তথ্য-সম্পদ’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক বক্তব্য চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট, মানুষের চাকরি কি রোবটের দখলে যাচ্ছে? হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ইসলামী আন্দোলন নেতা পাকিস্তানে জামায়াতের দেশব্যাপী বিক্ষোভ, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি দামের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কৌশল, জনতাবাদী রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। পাবের খাবার নিয়ে হালকা আলোচনা থেকে শুরু করে নিজের চেহারা নিয়ে রসিকতা—এমন নানা ধরনের ভিডিও প্রকাশ করে তিনি জনতাবাদী দলগুলোর দীর্ঘদিনের অনলাইন প্রভাবের মোকাবিলায় নতুন কৌশল নিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের লক্ষ্য বিতর্ক সৃষ্টি নয়; বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজ, আন্তরিক এবং ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা। এই কৌশল ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মাত্র দুই সপ্তাহেই তাঁর প্রকাশিত ভিডিওগুলো টিকটক, এক্স ও ইনস্টাগ্রামে মিলিয়ে কোটি কোটি বার দেখা হয়েছে।

নেতৃত্ব পরিবর্তনের পেছনে ছিল যোগাযোগ দক্ষতা
লেবার পার্টি আগের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পরিবর্তে অ্যান্ডি বার্নহামকে নেতৃত্বে আনার অন্যতম কারণ ছিল তাঁর স্বাভাবিক ও সহজ যোগাযোগের ক্ষমতা। দীর্ঘদিনের আইনজীবী স্টারমারের তুলনায় বার্নহামকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন দলীয় নেতারা।

যদিও দেশের অর্থনীতি সচল করা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং অন্যান্য বড় চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে বার্নহাম প্রথমেই জনগণের আস্থা ও সমর্থনের ভিত্তি শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।

বিভাজনের বদলে অন্তর্ভুক্তির বার্তা
বার্নহামের সাবেক সহকর্মী ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ জেমস লায়ন্স বলেন, জনতাবাদী রাজনীতির মতো বিভাজন তৈরির পথ তিনি অনুসরণ করছেন না। বরং তিনি এমন একটি ভাষা ব্যবহার করছেন, যা বেশি মানুষকে একসঙ্গে যুক্ত করে।

তাঁর ভাষায়, একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্বশীল ও গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছেন, কিন্তু নিজেকে অতিরিক্ত গুরুগম্ভীর করে তুলছেন না। এই ভারসাম্য রক্ষা করা রাজনীতিতে খুবই কঠিন।

নাইজেল ফারাজের সঙ্গে অনলাইন প্রতিযোগিতা
জনতাবাদী দল রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বহু বছর ধরে অভিবাসন, অপরাধ ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশাল অনুসারী গড়ে তুলেছেন।

বর্তমানে ফারাজের এক্সে প্রায় ২৩ লাখ, টিকটকে ১৫ লাখ এবং ইনস্টাগ্রামে ১০ লাখ অনুসারী রয়েছে। অন্যদিকে বার্নহামের অনুসারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও দ্রুত বাড়ছে। এক্সে তাঁর অনুসারী প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার, টিকটকে সাড়ে ৪ লাখ এবং ইনস্টাগ্রামে ৬ লাখ। গত সপ্তাহে একদিনেই টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৫০ হাজার নতুন অনুসারী যুক্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর লেবার পার্টি ও রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তার ব্যবধান কিছুটা কমেছে।\

New UK PM Burnham takes to social media to challenge populist parties'  dominance | The Star

সাধারণ মানুষের ভাষায় রাজনৈতিক বার্তা
বার্নহামের সবচেয়ে আলোচিত ভিডিওগুলোর একটি ছিল অর্থমন্ত্রী জন হিলির সঙ্গে একটি পাবে ধারণ করা ভিডিও। সেখানে আতিথেয়তা খাতে কর কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন ধরনের নাস্তার স্বাদ নিয়ে হাস্যরসাত্মক আলোচনা করেন। ভিডিওটি শুধু এক্সেই প্রায় ৪৭ লাখ বার দেখা হয়েছে, অন্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে এর দর্শকসংখ্যা আরও অনেক বেশি।

এছাড়া বিরোধী কনজারভেটিভ নেত্রী কেমি ব্যাডেনক যখন তাঁকে ব্যঙ্গ করে বলেন, তিনি শুধু “এক জোড়া চোখের পাপড়ি আর একটি কালো টি-শার্ট”, তখন বার্নহাম একটি ভিডিও প্রকাশ করে মজার ভঙ্গিতে চোখের পলক ফেলে বলেন, “আসলে এটি গাঢ় নীল।” তাঁর এই আত্মরসিকতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পায়।

লেবারের জন্য নতুন যোগাযোগ কৌশল
রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে লেবার পার্টির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা ছিল বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত। কিন্তু বার্নহামের নেতৃত্বে এখন অনেক বেশি পরিকল্পিত ও সমন্বিত কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে।

অনলাইন জনপ্রিয় বিভিন্ন প্রবণতার সঙ্গে মিল রেখে ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। আবার প্রথম সপ্তাহে সরকারের পাঁচটি সাফল্য তুলে ধরা একটি সাধারণ ভিডিওও টিকটকে প্রায় ৫০ লাখ বার দেখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভিডিওগুলো শুধু তরুণ ভোটারদের কাছেই পৌঁছাচ্ছে না, বরং প্রচলিত সংবাদমাধ্যমও সেগুলো ইতিবাচকভাবে প্রচার করায় এর প্রভাব আরও বাড়ছে।

শক্তিশালী ডিজিটাল দল গড়ছে সরকার
বার্নহামের জন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল কনটেন্ট টিম কাজ করছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরি, প্রযোজনা ও কৌশল নির্ধারণের জন্য নতুন জনবলও নিয়োগ শুরু হয়েছে।

এই পুরো কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যাবি টমলিনসন। তিনি কিশোরী অবস্থায় লেবার পার্টির পক্ষে একটি ভাইরাল প্রচারণা চালিয়ে প্রথম পরিচিতি লাভ করেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কাজের ফল
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সফল উপস্থিতি বার্নহামকে জনগণের কাছে দ্রুত পরিচিতি এনে দিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে তাঁর রাজনৈতিক সাফল্য নির্ভর করবে অর্থনীতি, জনজীবন এবং ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর বাস্তব সমাধান দিতে পারার ওপর।

রাজনৈতিক জরিপ সংস্থার বিশেষজ্ঞ কিয়েরান পেডলির ভাষায়, বার্নহাম ইতিবাচকভাবে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পেরেছেন। কিন্তু সামনে যখন কঠিন পরিস্থিতি আসবে, তখন তিনি সেগুলো কতটা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে পারেন, সেটিই হবে তাঁর প্রকৃত পরীক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়ন্ত্রণ নয়, রাজনৈতিক বাজি: ট্রাম্পের ইয়েন নীতির আসল হিসাব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কৌশল, জনতাবাদী রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জে ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী

০৭:৪৯:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। পাবের খাবার নিয়ে হালকা আলোচনা থেকে শুরু করে নিজের চেহারা নিয়ে রসিকতা—এমন নানা ধরনের ভিডিও প্রকাশ করে তিনি জনতাবাদী দলগুলোর দীর্ঘদিনের অনলাইন প্রভাবের মোকাবিলায় নতুন কৌশল নিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের লক্ষ্য বিতর্ক সৃষ্টি নয়; বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজ, আন্তরিক এবং ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা। এই কৌশল ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মাত্র দুই সপ্তাহেই তাঁর প্রকাশিত ভিডিওগুলো টিকটক, এক্স ও ইনস্টাগ্রামে মিলিয়ে কোটি কোটি বার দেখা হয়েছে।

নেতৃত্ব পরিবর্তনের পেছনে ছিল যোগাযোগ দক্ষতা
লেবার পার্টি আগের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পরিবর্তে অ্যান্ডি বার্নহামকে নেতৃত্বে আনার অন্যতম কারণ ছিল তাঁর স্বাভাবিক ও সহজ যোগাযোগের ক্ষমতা। দীর্ঘদিনের আইনজীবী স্টারমারের তুলনায় বার্নহামকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন দলীয় নেতারা।

যদিও দেশের অর্থনীতি সচল করা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং অন্যান্য বড় চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে বার্নহাম প্রথমেই জনগণের আস্থা ও সমর্থনের ভিত্তি শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।

বিভাজনের বদলে অন্তর্ভুক্তির বার্তা
বার্নহামের সাবেক সহকর্মী ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ জেমস লায়ন্স বলেন, জনতাবাদী রাজনীতির মতো বিভাজন তৈরির পথ তিনি অনুসরণ করছেন না। বরং তিনি এমন একটি ভাষা ব্যবহার করছেন, যা বেশি মানুষকে একসঙ্গে যুক্ত করে।

তাঁর ভাষায়, একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্বশীল ও গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছেন, কিন্তু নিজেকে অতিরিক্ত গুরুগম্ভীর করে তুলছেন না। এই ভারসাম্য রক্ষা করা রাজনীতিতে খুবই কঠিন।

নাইজেল ফারাজের সঙ্গে অনলাইন প্রতিযোগিতা
জনতাবাদী দল রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বহু বছর ধরে অভিবাসন, অপরাধ ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশাল অনুসারী গড়ে তুলেছেন।

বর্তমানে ফারাজের এক্সে প্রায় ২৩ লাখ, টিকটকে ১৫ লাখ এবং ইনস্টাগ্রামে ১০ লাখ অনুসারী রয়েছে। অন্যদিকে বার্নহামের অনুসারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও দ্রুত বাড়ছে। এক্সে তাঁর অনুসারী প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার, টিকটকে সাড়ে ৪ লাখ এবং ইনস্টাগ্রামে ৬ লাখ। গত সপ্তাহে একদিনেই টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৫০ হাজার নতুন অনুসারী যুক্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর লেবার পার্টি ও রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তার ব্যবধান কিছুটা কমেছে।\

New UK PM Burnham takes to social media to challenge populist parties'  dominance | The Star

সাধারণ মানুষের ভাষায় রাজনৈতিক বার্তা
বার্নহামের সবচেয়ে আলোচিত ভিডিওগুলোর একটি ছিল অর্থমন্ত্রী জন হিলির সঙ্গে একটি পাবে ধারণ করা ভিডিও। সেখানে আতিথেয়তা খাতে কর কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন ধরনের নাস্তার স্বাদ নিয়ে হাস্যরসাত্মক আলোচনা করেন। ভিডিওটি শুধু এক্সেই প্রায় ৪৭ লাখ বার দেখা হয়েছে, অন্য প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে এর দর্শকসংখ্যা আরও অনেক বেশি।

এছাড়া বিরোধী কনজারভেটিভ নেত্রী কেমি ব্যাডেনক যখন তাঁকে ব্যঙ্গ করে বলেন, তিনি শুধু “এক জোড়া চোখের পাপড়ি আর একটি কালো টি-শার্ট”, তখন বার্নহাম একটি ভিডিও প্রকাশ করে মজার ভঙ্গিতে চোখের পলক ফেলে বলেন, “আসলে এটি গাঢ় নীল।” তাঁর এই আত্মরসিকতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পায়।

লেবারের জন্য নতুন যোগাযোগ কৌশল
রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে লেবার পার্টির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা ছিল বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত। কিন্তু বার্নহামের নেতৃত্বে এখন অনেক বেশি পরিকল্পিত ও সমন্বিত কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে।

অনলাইন জনপ্রিয় বিভিন্ন প্রবণতার সঙ্গে মিল রেখে ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। আবার প্রথম সপ্তাহে সরকারের পাঁচটি সাফল্য তুলে ধরা একটি সাধারণ ভিডিওও টিকটকে প্রায় ৫০ লাখ বার দেখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভিডিওগুলো শুধু তরুণ ভোটারদের কাছেই পৌঁছাচ্ছে না, বরং প্রচলিত সংবাদমাধ্যমও সেগুলো ইতিবাচকভাবে প্রচার করায় এর প্রভাব আরও বাড়ছে।

শক্তিশালী ডিজিটাল দল গড়ছে সরকার
বার্নহামের জন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল কনটেন্ট টিম কাজ করছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরি, প্রযোজনা ও কৌশল নির্ধারণের জন্য নতুন জনবলও নিয়োগ শুরু হয়েছে।

এই পুরো কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যাবি টমলিনসন। তিনি কিশোরী অবস্থায় লেবার পার্টির পক্ষে একটি ভাইরাল প্রচারণা চালিয়ে প্রথম পরিচিতি লাভ করেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কাজের ফল
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সফল উপস্থিতি বার্নহামকে জনগণের কাছে দ্রুত পরিচিতি এনে দিচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে তাঁর রাজনৈতিক সাফল্য নির্ভর করবে অর্থনীতি, জনজীবন এবং ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর বাস্তব সমাধান দিতে পারার ওপর।

রাজনৈতিক জরিপ সংস্থার বিশেষজ্ঞ কিয়েরান পেডলির ভাষায়, বার্নহাম ইতিবাচকভাবে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পেরেছেন। কিন্তু সামনে যখন কঠিন পরিস্থিতি আসবে, তখন তিনি সেগুলো কতটা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে পারেন, সেটিই হবে তাঁর প্রকৃত পরীক্ষা।