জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে ভারতের সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যার ঘটনা, নিহতদের তালিকা এবং ফেলানী হত্যার স্মারক সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার সকালে জাদুঘর পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাদুঘরে থাকা এসব বিষয় বর্তমান সরকার পরিবর্তন করেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জাদুঘরে বর্তমান সরকারের দলীয় কর্মকাণ্ডের বিষয়বস্তু তুলনামূলকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
সীমান্ত হত্যার স্মৃতি সরানোর অভিযোগ
নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্তে গুলিতে নিহত বাংলাদেশিদের তালিকা এবং ফেলানীর স্মারক আগে জাদুঘরের অংশ ছিল। বর্তমানে সেগুলো আর সেখানে নেই। তাঁর দাবি, সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি, সীমান্তে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাযজ্ঞ এবং নরেন্দ্র মোদিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিও জাদুঘর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জাদুঘরটি কোনো রাজনৈতিক দলের ইতিহাস তুলে ধরার জায়গা হওয়া উচিত নয়। বরং এটি জাতীয় ইতিহাস, মানুষের সংগ্রাম এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ সংরক্ষণের স্থান হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

গণভবন থেকে জাদুঘর তৈরির উদ্যোগ
নাহিদ ইসলাম বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে জনগণের অর্থ লুটসহ বিভিন্ন কর্তৃত্ববাদী সিদ্ধান্ত গণভবন থেকেই নেওয়া হতো বলে তারা মনে করেন। সেই গণভবনকে জাদুঘরে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
তিনি জানান, জাদুঘরটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে সংসদে এবং সংসদের বাইরে তারা ব্যাপকভাবে কথা বলেছেন। এর আগে তিনি নিজেও জাদুঘরটি পরিদর্শন করেছিলেন। তবে নির্বাচনের পর সরকার সেখানে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাতীয় ইতিহাস বনাম দলীয় ইতিহাস
জাদুঘরে বিএনপির আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংগ্রামকে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ। তাঁর মতে, কোনো একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডকে জাতীয় ইতিহাসের সমার্থক করে তোলা উচিত নয়।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি আরও বিস্তারিতভাবে সংরক্ষণ করা দরকার। এর জন্য একটি ধারাবাহিক সময়রেখা তৈরি করে দেশের বিভিন্ন জেলার অবদান, বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাসার ভূমিকা তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নাহিদের বক্তব্য
জাদুঘর থেকে ভারতবিরোধী বিষয়বস্তু সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গত ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততা ছিল। তাঁর অভিযোগ, ভারতকে নিয়ে বিএনপি হয়তো উদ্বিগ্ন এবং বর্তমান সরকার মনে করছে, এ ধরনের বিষয় সরিয়ে রাখলে ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা সহজ হবে।
তবে নাহিদের বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো না খারাপ—এটি মূল বিষয় নয়; সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে মর্যাদা ও সমতার। তাঁর মতে, জাতীয় ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের বিবেচনায় ঐতিহাসিক স্মৃতি বাদ দেওয়া উচিত নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















